kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

দ্বিতীয় ম্যাচে আরো ঢিমেতালে

আগের দিনের চিত্রনাট্য মেনেই এগোবে বলে যেন পণ! সেদিন পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৩৫, কাল ২ উইকেটে ৩৩। ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৬২-র পর ৩ উইকেটে ৫৭। প্রথম ম্যাচে ১৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১০০-র পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেটে ৮৮। শেষ পর্যন্ত তাই প্রথম ওয়ানডের ৫ উইকেটে ১৪১ পর্যন্তও যাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। একটি উইকেট বেশি হারিয়ে ৫ রান করে কম।

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দ্বিতীয় ম্যাচে আরো ঢিমেতালে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিভ্রম মনে হতে পারে। বিভ্রান্ত হতে পারেন সহজেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে কাল দ্বিতীয় ম্যাচে যে ব্যাটিং করল বাংলাদেশ, তাতে যে প্রথম ম্যাচেরই জলছাপ! টস জিতে আগে ব্যাটিং, ফরম্যাটের মেজাজ তোয়াক্কা না করে শম্বুকগতির টুকটুক, দলীয় স্কোর ১৪০-এর আশপাশে, রান করা সত্ত্বেও তামিম ইকবালকে ঘিরে প্রবল সমালোচনা— ব্যতিক্রম কোথায়?

প্রথম ইনিংস শেষে ম্যাচ শেষ হওয়ার চিত্রনাট্যও তাই লেখা হয়ে যায় এক রকম।

তামিমকে ঘিরে সমালোচনা শুরু বিশ্বকাপ থেকে। আগের চার বছর রানবন্যায় ভাসিয়েছেন সব ফরম্যাটে। বিশ্বকাপে রানের সেই জলস্রোতে জমে পলি। আট ম্যাচে মোটে এক ফিফটি, ২৯.৩৭ গড়ে ২৩৫ রানে প্রত্যাশার প্রতিফলন নেই। আর টুর্নামেন্টে বাংলাদেশও যেহেতু আশা মেটাতে ব্যর্থ, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে  তামিমকেও চড়ানো হয় সমালোচনার শূলে। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ০, ১৯, ২। দুঃস্বপ্নকে দূরে তাড়ানোর জন্য ঘরের মাঠে পরের সিরিজে বিশ্রাম নেন; পারিবারিক কারণে যান না ভারত সফরে। পাকিস্তান সফরে জাতীয় দলে ফেরা তাই মাস ছয়েকের বিরতিতে। তাতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩৪ বলে ৩৯ রানে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক; কাল ৫৩ বলে ৬৫ রানে সর্বোচ্চ। তাতে কী, স্ট্রাইকরেটের কারণে সমালোচনা তো কমছে না!

প্রশ্নটা হচ্ছে, তামিমের ব্যাটিং যদি এমন প্রশ্নবিদ্ধ, তাহলে অন্য ব্যাটসম্যানদের বেলায় সেটি হবে না

কেন? পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে তাঁদের ‘অপরাধ’ তো কোনো অংশেই ওই বাঁহাতি ওপেনারের চেয়ে কম নয়!

আগের দিন ৪১ বলে ৪৩ রান করা নাঈম শেখ কাল আউট মুখোমুখি প্রথম বলেই। একাদশে ঢোকা মাহেদী হাসান তিন নম্বরে নেমে ১২ বলে ৯ করেন ৭৫ স্ট্রাইকরেটে। আগের দিন ভীষণ ধুঁকে ধুঁকে ১৩ বলে ১২ রান করা লিটন দাস কাল নামেন চার নম্বরে। ৫৭.১৪ স্ট্রাইকরেটে করেন ১৪ বলে ৮। ১০ বলে ৯ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে আফিফ হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ২০ বলে ২১ রানের ইনিংস; স্ট্রাইকরেট ১০৫। অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ কাল আর অপরাজিত থাকেননি; ১০০ স্ট্রাইকরেটে ১২ বলে ১২ করে আউট। আগের দিন ৫ বলে ৭ রানে আউট হওয়া সৌম্য সরকার কাল ৫ বলে ৫ রানে অপরাজিত; স্ট্রাইকরেট ১০০। আমিনুল ইসলামই বরং ভালো। ৪ বলে অপরাজিত ৮ রানের ইনিংসে দুটি বাউন্ডারি; স্ট্রাইকরেট ২০০।

তুলনায় তামিমের ৩৪ বলে ৩৯ এবং ৫৩ বলে ৬৫ রানের ইনিংস দুটি কতটা খারাপ? ১১৪.৭০-এর পর কাল ১২২.৬৪ স্ট্রাইকরেটই বা কত ধীরগতির? তুলনাটা বিশ্বক্রিকেট, টি-টোয়েন্টির চাহিদার সঙ্গে না করে এ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের বাকি ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে করলেই বোঝা যাবে।

তবে অবশ্যই কাল তামিমের ইনিংসটি আরো বড় হতে পারত, যেমনটা হওয়া উচিত ছিল বাংলাদেশেরও। কিন্তু ওই যে, আগের দিনের চিত্রনাট্য মেনেই এগোবে বলে যেন পণ! সেদিন পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৩৫, কাল ২ উইকেটে ৩৩। ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৬২-র পর ৩ উইকেটে ৫৭। প্রথম ম্যাচে ১৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১০০-র পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেটে ৮৮। শেষ পর্যন্ত তাই প্রথম ওয়ানডের ৫ উইকেটে ১৪১ পর্যন্তও যাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। একটি উইকেট বেশি হারিয়ে ৫ রান করে কম।

শেষ পাঁচ ওভারে তাও কিছুটা রক্ষা। আগের ম্যাচে সে জায়গায় ৪১ রান তুলতে পারে মাহমুদের দল; কাল ৪৮। ১৬তম ওভারে শাদাব খানকে কাভার দিয়ে মারা বাউন্ডারিতে ৪৪ বলে ফিফটিতে পৌঁছান তামিম। দলীয় স্কোর তিন অঙ্কে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই ওভারে লেগ স্পিনারকে মারেন আরো দুটি চার। পরের ওভারের শেষ বলে শর্ট থার্ডম্যান ফিল্ডারের ব্যর্থতায় আরেক বাউন্ডারি। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে হারিস রউফকে লেগ সাইড দিয়ে মারা চারে ম্যাচের ধারা বাংলাদেশের পক্ষে। কিন্তু মিড অফে বল ঠেলে এক রান নিতে ছোটা তামিমকে সরাসরি থ্রোতে রান আউট করে দেন ইমাদ ওয়াসিম। তাতে এই বাঁহাতির আলসেমির দৌড়ের দায় রয়েছে অবশ্যই। অন্তমিলের দুই ম্যাচে এটিও মনে করিয়ে দেওয়া যায়, প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও রান আউট হয়েছিলেন তামিম।

এরপর মাংসপেশিতে টান পড়া সৌম্য বাউন্ডারি তো মারতে পারেনই না, এক রানকে পারেন না দুই রানে রূপান্তরিত করতে। অধিনায়কের সীমাবদ্ধতার প্রকাশে বোল্ড হয়ে যান মাহমুদ উল্লাহ। তবু শেষ ওভারে আমিনুলের দুটি চারে রক্ষা; প্রথম দিনের স্কোরের আশপাশে যাওয়া গেছে।

কিন্তু ওই ১৩৬ রান নিয়ে কি আর টি-টোয়েন্টিতে শেষরক্ষা হয়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা