kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আবার ফিলিস্তিন নাকি বুরুন্ডি?

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার ফিলিস্তিন নাকি বুরুন্ডি?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের মতোই ফাইনালের মঞ্চে হাজার ওয়াটের আলো নেই! স্বাগতিকরা দর্শক হয়ে গেলে যা হয় আর কি। আজ ফিলিস্তিন ও বুরুন্ডির মধ্যকার ফাইনালে যেমন দর্শক জামাল ভূঁইয়ারা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ফাইনাল খেলবে ফিলিস্তিন, যা দ্বিতীয় শিরোপা জয়েরও সুযোগ তাদের। অন্যদিকে বুরুন্ডি জিতলে এই টুর্নামেন্ট পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন।

ফাইনালের আগে কাউকে পরিষ্কার ফেভারিট বলা যাচ্ছে না। কখনো মনে হয় ফিলিস্তিন, কারণ তিন ম্যাচে তাদের গোলপোস্ট এখনো অক্ষত। তাদের বিপক্ষে গোল করা খুব কঠিন। কিন্তু বুরুন্ডির বিপক্ষেও যে তাদের জাল অক্ষত থাকবে, সে নিশ্চয়তা নেই। তিন ম্যাচে বুরুন্ডি করেছে ১০ গোল। দুটো হ্যাটট্রিকসহ সাত গোল করে এনশিমিরিমানা জসপিন এখন টুর্নামেন্টের বড় তারকা। সেমিফাইনালে বুরুন্ডির এই ফরোয়ার্ডের কাছেই হার মেনে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। জসপিন-আমিসি মিলে বুরুন্ডির তুমুল ফরোয়ার্ড লাইনের বিপক্ষে ফিলিস্তিনের রক্ষণ প্রাচীরের লড়াইটা জমে উঠবে এই ফাইনালে।

ফিলিস্তিনের কোচ মাকরাম দাবুবও মনে করেন, ‘একটা দুর্দান্ত ফাইনাল হবে। প্রত্যেকটা ম্যাচ ভিন্ন, কন্ডিশন ভিন্ন তাই বুরুন্ডির বিপক্ষে ম্যাচটিও হবে আলাদা। আমরা অবশ্যই আলাদা কৌশলে ফাইনাল খেলব। বুরুন্ডির খেলা আমরা দেখেছি, সে অনুযায়ীই আমরা মাঠে নামব।’ ফিলিস্তিন তিন ম্যাচে করেছে মাত্র ৫ গোল, তবে সেমিফাইনালে সেশেলসের বাধা টপকাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। ম্যাচটাকে হালকাভাবে নিয়েই যেন বিপাকে পড়েছিল, পরে এক গোলে কোনো রকমে জেতে ফিলিস্তিন। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই ফিলিস্তিন কোচ বলেন, ‘এটা আমাদের ফরোয়ার্ডদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে তাদের মূল দলে খেলার সম্ভাবনা। তাই ফাইনাল হবে অন্য রকম।’

ফিলিস্তিন এবার সেরা দল অর্থাৎ মূল জাতীয় দল নিয়ে আসেনি, এটা তাদের তিন নম্বর দল। এখানে যারা ভালো করবে, তাদের জন্য মূল দলের সিঁড়ি ভাঙা সহজ হবে।

তবে বুরুন্ডি যে সেই সিঁড়িতে কাঁটা বিছানোর ব্রত নিয়েছে। তাদের কোচ জসপিন ইফুবুজা খুব আত্মবিশ্বাসী, ‘ফিলিস্তিনের শক্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে। আমরা যে ধারায় খেলে আসছি, সেটাই খেলব। তবে কৌশল কিছু বদলাবে, ফাইনাল নিয়ে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী।’ বুরুন্ডির বড় সমস্যার জায়গা হলো রক্ষণভাগ। আক্রমণে লা-জবাব হলেও রক্ষণে তাদের খুঁত আছে। সেমিফাইনালে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশও অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল, গোল পায়নি শুধু ফিনিশারের অভাবে। এ রকম সুযোগ ফিলিস্তিন পেলে ম্যাচ শেষ করে দেবে। বুরুন্ডির কোচ এবার যেন রক্ষণ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন, ‘রক্ষণভাগে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের সুযোগ দেওয়া যাবে না। তবে এটাও বলি, আমাদের ফরোয়ার্ড লাইন গোল উপহার দেবেই।’ তিউনিসিয়ার এই কোচের দর্শন হলো আক্রমণাত্মক ফুটবল। সেখান থেকে নিজেকে কতটা সরিয়ে এনে রক্ষণের দুর্বলতা ঢেকে দিতে পারবে বলা মুশকিল।

ফাইনালের এই লড়াইয়ের ভেতর আছে আরেকটি লড়াই—এশিয়া বনাম আফ্রিকান ফুটবল। বুরুন্ডির কোচ দুইয়ের পার্থক্য নিরূপণ করেন এভাবে, ‘এশিয়া খেলে টেকনিক্যাল ফুটবল আর আফ্রিকান ফুটবল একটু শারীরিক ও টেকটিক্যাল। এটা দারুণ ব্যাপার যে দুই ধারার ফুটবল আজ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে।’ শেষ পর্যন্ত কার জয় হবে? এশিয়া না আফ্রিকার? বুরুন্ডির কোচ জসপিনের জবাব, ‘কাগজ-কলমে হয়তো ফিলিস্তিন এগিয়ে। অনেকে বলবেও তাই। তবে এই ম্যাচে মাঠের সেরা দলই জিতবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা