kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঢিমেতালের ব্যাটিং গতিই পেল না!

কুড়ি-বিশের ফরম্যাটে তবু অদ্ভুতুড়ে ব্যাটিং কৌশল নিয়ে ব্যাটিং করে চলে মাহমুদ উল্লাহর দল। যে কারণে ১৪তম ওভার শেষেও দলীয় রান এক শ হয় না, মাত্র এক উইকেট হারিয়েও। ১৫তম ওভারে পর পর দুই বলে দুই সেট ব্যাটসম্যানের আউটের বিনিময়মূল্যে তা হয় বটে। আবার এমন অবস্থাতেও ১৬তম ওভারে নতুন দুই ব্যাটসম্যান ছয় বলে নেন ছয়টি সিঙ্গেল। ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশ যে ৫ উইকেটে ১৪১ রান করতে পারল, সেটিই তাই ঢের মনে হতে পারে!

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢিমেতালের ব্যাটিং গতিই পেল না!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৫ ওভারে বিনা উইকেটে ২৯ রান। খারাপ বলবেন নাকি ভালো? শুধু মনে রাখতে হবে, ফরম্যাটটা টি-টোয়েন্টি।

শুরুতে না হয় উইকেট না দেওয়ার প্রত্যয়-পরিকল্পনা দুটোই ছিল! কিন্তু এরপর তো হাত খুলবে দুই ওপেনারের। সেটি হলো কই! সে কারণেই পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টির ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৬২। বিনা উইকেটেই! এবার ভালো-মন্দ বিচার আরেকটু সহজ হয়ে যায় বৈকি!

না হয় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব সহজ ছিল না। কিছুটা মন্থরগতির, বল আসছিল থেমে থেমে। কিন্তু এর মধ্যেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের রান করার তাড়নাটা থাকবে তো! বিশেষ করে হাতে যখন উইকেটের অভাব নেই। কুড়ি-বিশের ফরম্যাটে তবু অদ্ভুতুড়ে ব্যাটিং কৌশল নিয়ে ব্যাটিং করে চলে মাহমুদ উল্লাহর দল। যে কারণে ১৪তম ওভার শেষেও দলীয় রান এক শ হয় না, মাত্র এক উইকেট হারিয়েও। ১৫তম ওভারে পর পর দুই বলে দুই সেট ব্যাটসম্যানের আউটের বিনিময়মূল্যে তা হয় বটে। আবার এমন অবস্থাতেও ১৬তম ওভারে নতুন দুই ব্যাটসম্যান ছয় বলে নেন ছয়টি সিঙ্গেল।

২০ ওভার শেষে বাংলাদেশ যে ৫ উইকেটে ১৪১ রান করতে পারল, সেটিই তাই ঢের মনে হতে পারে!

লাহোরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরন বিরক্তি উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট। টি-টোয়েন্টিতে যেন ওয়ানডের ব্যাটিং। এবং যে রান হচ্ছে, তাতেই তৃপ্ত থাকা। যে সাত ব্যাটসম্যান ক্রিজে গিয়েছেন, কারো মধ্যে দ্রুত রান তোলার তাড়া ছিল না। তামিম ইকবালের ৩৯ রান এসেছে ৩৪ বল থেকে। বিপিএলে তাঁর ১০৯.৩৯ স্ট্রাইকরেট নিয়ে সমালোচনা হয়েছে ঢের। কাল স্ট্রাইকরেটের উন্নতি নামমাত্র—১১৪.৭০। অন্য ওপেনার নাঈম শেখ স্ট্রোকমেকার হিসেবে নাম ছড়াচ্ছেন। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সতীর্থদের ব্যর্থতার মিছিলে তাঁর ৪৮ বলে ৮১ রানের সাহসী সুন্দর ইনিংসটি অনেক দিন আনন্দময় স্মৃতি হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য। কাল তিনি ১৫তম ওভার পর্যন্ত থেকে করেন ৪৩ রান; সে জন্য খেলেন ৪১ বল। ১০৪.৮৭ স্ট্রাইকরেট আর যা-ই হোক, সাবলীল স্ট্রোকমেকিংয়ের সাক্ষ্য দেয় না। তিনে নামা লিটন দাসের এ ম্যাচের হাইলাইট শাদাব খানের পর পর তিন বলে ব্যাট ছোঁয়াতে না পারার অসহায় ছবি! শেষ পর্যন্ত ওই লেগস্পিনারের শিকারই হন তিনি; তবে বোলিংয়ে নয়। ফিল্ডিংয়ের ডিরেক্ট থ্রোতে। ১৩ বলে ১২ রানে লিটনের স্ট্রাইকরেট ৯২.৩০। বিপিএলে জ্বলজ্বলে ব্যাটটি এখানে যেন হয়ে যায় টিমটিমে।

পরের ব্যাটসম্যানদের অবস্থাও প্রায় অভিন্ন। নিজেকে চারে তুলে আনা অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ ১৪ বলে ১৯ রানে অপরাজিত। ১৩৫.৭১ স্ট্রাইকরেট কালকের বিবেচনায় ‘দুর্দান্ত’! তবে তাতে শেষ ওভারে ব্যাটের কানায় লাগা বাউন্ডারির অবদান ভুললে চলবে না। আফিফ হোসেন ৯০ স্ট্রাইকরেটে ১০ বলে ৯ করে বোল্ড হারিস রউফের বলে। সৌম্য সরকারের স্টাম্প উড়ান শাহিনশাহ আফ্রিদি। লেগ সাইডে পাওয়া সহজ বাউন্ডারিতে পাঁচ বলে সাত রানে তাঁর স্ট্রাইকরেট ১৪০। মোহাম্মদ মিঠুন তো আর সাত নম্বর ব্যাটসম্যান না। কিন্তু তাঁকে আগে নামানোর সুযোগই হচ্ছিল না। ব্যাটে বাহারি স্ট্রোক থাকা সতীর্থরা আছেন যে! শেষ সময়ে নেমে এক বাউন্ডারিতে তিন বলে পাঁচ রান করায় মিঠুনের স্ট্রাইকরেট ১৬৬.৬৬।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এ ধারার ব্যাটিং প্রশ্ন তুলে দিতে বাধ্য। শুরু থেকে চালিয়ে খেললে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। আবার উইকেট জমিয়ে শেষদিকে যে ফায়দা তুলবে, অমন ব্যাটসম্যানই-বা কোথায়! এই দলে তো আর আন্দ্রে রাসেল, হার্দিক পান্ডিয়ারা নেই। এমনকি কিছুদিন আগে শেষ হওয়া বিপিএলেও শেষদিকে ঝড় তুলতে দেখা যায়নি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। এক মুশফিকুর রহিম বাদ দিলে রান যা করেছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরাই। আরো নির্দিষ্ট করে বললে ওপেনাররা। পাকিস্তান সফরে ১৫ জনের স্কোয়াডে ছয় ওপেনারের উপস্থিতিই জানান দিচ্ছে তা।

সে ছয় ওপেনারের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশে। কাল ব্যাটিংও করেছেন প্রত্যেকে। কিন্তু টি-টোয়েন্টির দাবি পূরণে ব্যর্থ সবাই। যেন করছিলেন ওয়ানডের ব্যাটিং। অবশ্য কুড়ি-বিশের ফরম্যাটে তো হালফিলে এই ৯০-১০০ স্ট্রাইকরেট ‘টেস্ট ব্যাটিং’ হয়ে যায় অনেক ক্ষেত্রে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা