kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সেই সেমিতেই বিদায়

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই সেমিতেই বিদায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সেমিফাইনালেই থেমে গেছে বাংলাদেশ। রক্ষণের দুর্গ ভেঙে খান খান, সঙ্গে গোল মিসের মহড়ায় বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আর বাস্তবে রাঙায়নি। এক জসপিনের হ্যাটট্রিকে বুরুন্ডির কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে স্বাগতিকরা। 

শুরুতে ধাক্কা লাগে দুই দলকে দেখে। বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে অ্যাওয়ে জার্সি পরে! লাল জার্সিতে জামাল ভূঁইয়ারা আর সবুজ রাঙিয়ে আছে বুরুন্ডি। দুর্ভাগ্যের শুরু অবশ্য আগে থেকেই। অসুস্থতা আর ইনজুরিতে দেশি ডিফেন্ডাররা একের পর এক ধরাশায়ী হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ‘লাল দলে’র রক্ষণ নড়বড়ে। এরপর ম্যাচ শুরু হতেই নিভে যায় আশা! আগের ম্যাচে জোড়া গোলের নায়ক মতিন মিয়া ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন চতুর্থ মিনিটে। এরপর ম্যাচ গড়িয়েছে, সেই লাল জার্সিতে অচেনারা নিজ ভূমে খেলেছে পরবাসীর মতোই। জয় হয়েছে সবুজেরই, বুরুন্ডির সেই এনশিমিরিমানার হ্যাটট্রিকে ছত্রখান স্বাগতিকদের রক্ষণ এবং ফাইনালের স্বপ্ন।

গোল সংকটের বাংলাদেশে কেবল গত ম্যাচেই আশার প্রতীক হয়ে আসেন মতিন মিয়া। ম্যাচের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে তিনি মাঠ ছাড়েন মাহবুবুর রহমানকে জায়গা দিয়ে। এই বদলির পায়ে ৮ মিনিটে প্রথম মুভে গ্যালারি জেগে উঠেই নীরব! বাঁ-দিক দিয়ে মাহবুব দুর্দান্ত এক বল বানিয়ে দেন ইব্রাহিমকে, সেটা ধরে এই উইঙ্গার নিজে শট করতে গিয়েই সুযোগটা নষ্ট করেন।

পরক্ষণেই জসপিনের এক শটের ঝাপটায় কেঁপে ওঠে স্বাগতিকরা। খানিকটা এগিয়ে আসা গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে এক পলক দেখেই শট নেন বুরুন্ডির এই ফরোয়ার্ড। পোস্টে থাকলে ঠেকানোর কোনো উপায় ছিল না। ২২ মিনিটে আবার বাংলাদেশ শিবিরে আশা জেগে ওঠে ওদের এক ডিফেন্ডারের ভুলে। ফাঁকা রক্ষণ পেরিয়ে মাহবুব পৌঁছে যান গোলরক্ষকের সামনে, এরপর কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মতো কালক্ষেপণ করে বলটা হারিয়েছেন বুরুন্ডির ডিফেন্ডারের কাছে।

অবশ্য জালে বল পাঠাতে জসপিনের লাগেনি থালায় সাজিয়ে দেওয়া সুযোগ। ডান দিক থেকে ব্লানচার্দের কাটব্যাক ধরে আরামে প্লেসিং করেন স্বাগতিকদের জালে। তাঁকে এতটুকু বেগ দিতে পারেননি রায়াহান-রিয়াদরা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সেই একই কম্বিনেশনে জসপিনের দ্বিতীয় গোল। এবার শরীর পেছনে বাঁকিয়ে হেড করে বল রাখেন পোস্টে। পুরো প্রথমার্ধে বল পজেশনে এগিয়ে থেকেও স্বাগতিকদের কোনো লাভ হয়নি। চার মিনিটে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তাদের সেমিফাইনালের লড়াই একরকম শেষ।

বিরতির পরও অবশ্য লড়ে গেছে স্বাগতিকরা। সুযোগও কম তৈরি হয়নি, সদ্ব্যবহার করতে পারলে ম্যাচেও ফিরতে পারত বাংলাদেশ। ৪৯ মিনিটে সাদউদ্দিনের পায়ে দারুণ সম্ভাবনা জাগে। কাউন্টারে ফাঁকা রক্ষণে ঢুকে তিনি ডান-বাম না দেখে মারেন গোলরক্ষক আইমি ফেলস সোজা। ৬২ মিনিটে তিনি দুর্দান্ত এক সেভ করেন, জামালের ক্রসে দূরের পোস্টে চমৎকার হেড করেছিলেন মাহবুব। পরক্ষণেই রিয়াদের হেড ঠেকে যায় পোস্টে লেগে। ৭৫ মিনিটে জামালের ফ্রি-কিকে ওই গোলরক্ষকের আরেকটি দুর্দান্ত সেভে আরেকবার হতাশায় পোড়ে স্বাগতিকরা। মিনিট তিনেক বাদে বদলি রাকিব সামনে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও মারেন উড়িয়ে। একদম পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে অবিশ্বাস্য এই মিস। এভাবে গোল মিসের মহড়া দিলে জাতীয় দলের ভাগ্য বদলানো বড় কঠিন হয়ে যায়।

অথচ উল্টোদিকে গোলের মহোৎসব করে যাচ্ছেন একজনই। জসপিনকে হ্যাটট্রিকের গোলটি সাজিয়ে দিয়েছেন গোলরক্ষক আশরাফুল রানা। কাছের পোস্টও আগলে রাখতে পারেননি তিনি। তাতে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করা জসপিন ৭ গোল নিয়ে এখন সবার আগে। এরকম এক স্ট্রাইকার থাকলে ম্যাচ জেতা কত সহজ হয়ে যায়! ডাগ-আউটে নিজের দলের মিসের মহড়া দেখার পাশাপাশি জসপিনের গোল-উৎসব দেখে জেমি ডে-ও হয়তো এই আক্ষেপ করছেন। এই ব্রিটিশ কোচও অসহায়। ঢাল-তলোয়ার ছাড়া লড়ে সেমিফাইনালের বেশি অর্জন কি হয়!

বাংলাদেশ : আশরাফুল রানা, রায়হান, রহমত, জামাল, সাদউদ্দিন, মতিন মিয়া (মাহবুবুর রহমান), সোহেল রানা (রাকিব), বিশ্বনাথ, ইব্রাহিম, রিয়াদ, মানিক মোল্লা (মামুনুল)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা