kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

২০১৪ এখনো পোড়ায় সিজারকে

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০১৪ এখনো পোড়ায় সিজারকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রশ্নোত্তর শুরুর আগে সিজারকে কিছু বলতে বলা হলো। সকালে বঙ্গবন্ধু স্মতি জাদুঘরে গিয়েছিলেন, ফিরে এসে গোলরক্ষকদের সঙ্গে সেশন করেছেন, মেয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, কথা হয়েছে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যদের সঙ্গে—এ সবকিছুই বর্ণনা করছিলেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা গোলরক্ষক। প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য মাইক ছাড়ার আগে মুচকি হেসে একটা অনুরোধও করে নিলেন, ‘জানি সবাই অধীর হয়ে আছেন আমাকে প্রশ্ন করার জন্য। তবে সবাইকে শান্ত থাকতে বলছি... ২০১৪-তে কী হয়েছে জিজ্ঞেস না করলে কি হয় না!’

অনুরোধের ধরনে সাংবাদিকরা সবাই হেসে উঠলেন, কিন্তু কথা রাখা হলো না। প্রথম প্রশ্নটাই হলো সে ম্যাচ নিয়ে। প্রশ্নকর্তা সাংবাদিক সেদিন মিনেইরোতেই ছিলেন কিনা। তিনি জানতে চাইলেন, জার্মানির কাছে ৭-১ এ হারের পর সেদিন ড্রেসিংরুমের অবস্থাটা কেমন ছিল? প্রশ্নটা শুনে সিজারও মনে হলো মুহূর্তে সে রাতে ফিরলেন। কারণ আবার যখন কথা বলতে শুরু করেছেন তখন তাঁর কণ্ঠ ভীষণ শান্ত, বিষাদমাখা। যখন বলছিলেন, ‘কেউ আমরা ম্যাচ নিয়ে কথা বলছিলাম না। বলতে পারছিলাম না। কেউ কাঁদছিল, কেউ নির্বাক...’ একটু আগে হেসে ওঠা সম্মেলনকক্ষও তখন নীরব, ব্রাজিলীয় গোলরক্ষকের বিষাদ যেন ছুঁয়ে যাচ্ছিল সবাইকে। সিজার বলে চলেন, ‘ফুটবলে এমন কিছু হতে পারে, যা ট্র্যাজিক। কিন্তু এই অতীত তুমি অস্বীকার করতে পারবে না, পারবে না মুছে ফেলতে। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সামনে তাকানো, মাথাটাকে উঁচু রাখা, নিজের ভালোবাসার কাজটায় ফিরে যাওয়া।’ ১১ বছর বয়স থেকে ফুটবলকে ভালোবাসা বানিয়ে নেওয়া সিজারও এরপর ক্লাব ফুটবলে ফিরেছিলেন মাথা উঁচু করে। বিশ্বকাপের আগের সময়টা তাঁর ভালো যায়নি। যে ইন্টারের হয়ে ট্রেবল জিতেছিলেন, সেখানেই অনেকটা ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের পর বেনফিকায় বেশ ভালো সময় কাটিয়েই ফ্ল্যামেঙ্গোতে ফেরেন তিনি ক্যারিয়ারের ইতি টানতে। ওই একটি দিনের স্মৃতি বাদ দিলে ব্রাজিল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আনন্দের উৎস হয়েই ছিলেন।

ইন্টারের হয়ে ইতালিতে কাটিয়েছেন স্বর্ণসময়। ট্র্যাজেডি হয়ে সিজারের বর্ণাঢ্য কারিয়ারের দিকে প্রশ্ন ঘুরে যেতে তাই সময় লাগে না। এ বছরই ইন্টারের সেই ট্রেবল জয়ের ১০ বছরপূর্তিতে পুরনো সতীর্থরা আবার একসঙ্গে হবেন মিলানে, সে কথা বলতে গিয়েই উচ্ছ্বাস ঝরল তাঁর কণ্ঠে। বাফুফের অ্যাস্ট্রোটার্ফে কাটানো সময়টাও যে ভীষণ উপভোগ করেছেন বললেন সেটিই ‘ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মাঝে সময়টা আমাকে আমার ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সত্যি ভীষণ আনন্দময় ছিল সে সময়টা। এখানে অনেক মেয়ে ফুটবলারকে দেখলাম আমি। ফিফার দূত হিসেবে এটাও  আনন্দিত করেছে আমাকে। কারণ বিশ্বে মেয়েদের ফুটবলকে তুলে ধরতে ফিফা প্রচুর কাজ করে যাচ্ছে এই মুহূর্তে।’

কিছু সময় স্থানীয় গোলরক্ষকদের সঙ্গেও কাটিয়েছেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে খেলা হিমেল, নেহালদের ধরে ধরে পজিশন বোঝাচ্ছিলেন, ইনসুইং আউসুইং ক্রসে কী করতে হবে দেখাচ্ছিলেন। সিজার ঢাকায় পা রাখার পর থেকেই বাংলাদেশে ব্রাজিলের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীর ব্যাপারে ধারণা দেওয়া হচ্ছিল। কাল গোলরক্ষকদের দলটাকে পেয়ে নিজেই প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘তোমরা কে ব্রাজিলের সমর্থক?’ দেখা গেল, এখানেও অর্ধেকের হাত উঠেছে, অর্ধেকের ওঠেনি। কারণটা যেমন বুঝছেন সিজার, ‘জানি, যারা হাত তোলোনি সবাই মেসিকে ভালোবাসো।’ আরো দিন কয়েক থাকলে হয়েতো এই মেসিপ্রেমীদের মাঝে গভীর ম্যারাডোনাপ্রেমও আবিষ্কার করতে পারতেন এই ব্রাজিলিয়ান। বেশি দিন থাকতে চাওয়ার ইচ্ছার কথাও অবশ্য জানিয়ে গেছেন তিনি। সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে বাংলাদেশ সফর শুরু হয় তাঁর। সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর পৌত্র, শেখ রেহানার ছেলে ববি। ১৫ আগস্টের স্মৃতিবিজড়িত সেই বাড়িতে তাঁর আবেগঘন কিছু মুহূর্ত, ‘বাংলাদেশের জাতির পিতার ইতিহাস জানা, সেই বাড়িটা ঘুরে দেখা ভীষণ আবেগের ব্যাপার ছিল আমার জন্য। জানি তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপটা হচ্ছে। আমি সেই উপলক্ষেই এসেছি। আমার এই উপস্থিতি যদি একটুও আলোকিত করতে পারে আসরটাকে, তাহলেই আমি খুশি।’ সিজারের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা অবশ্য খুব উপভোগ্য হওয়ার কথা নয়, স্বাগতিকরা যে বেশ বাজেভাবেই হেরেছে। যেমনটা তাঁর ব্রাজিল হেরেছিল ২০১৪ সালে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা