kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বুরুন্ডির উৎসব

গোল করার ফুটবলার নেই দলে

আগের ম্যাচে জোড়া গোলের নায়ক মতিন মিয়া ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন চতুর্থ মিনিটে। এরপর ম্যাচ গড়িয়েছে, সেই লাল জার্সিতে অচেনারা নিজ ভূমে খেলেছে পরবাসীর মতোই। জয় হয়েছে সবুজেরই, বুরুন্ডির সেই এনশিমিরিমানার হ্যাটট্রিকে ছত্রখান স্বাগতিকদের রক্ষণ এবং ফাইনালের স্বপ্ন।

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোল করার ফুটবলার নেই দলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটির চেহারায় বিষাদের ছায়া। কোনোভাবে তিনি মানতে পারছেন না ৩-০ গোলে হারের স্কোরলাইন। বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে কোনোভাবে মেলাতে পারছেন না ম্যাচের পারফরম্যান্সের সঙ্গে স্কোরলাইন, ‘বুরুন্ডি তিন গোল করলেও আমাদের গোল করা উচিত ছিল। এত সুযোগ পেয়েছি আমরা গোল না হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। ওয়ান-ওয়ানে সুযোগ ছিল, হেডে সুযোগ ছিল, এরপর ওপেন নেট পেয়েও আমরা গোল করতে পারিনি। ভালো সুযোগ ও ভালো বল পজেশন রেখে খেলেও স্কোরলাইনে আমরা একটা গোল যোগ করতে পারিনি। এটা খুবই হতাশার।’

সেমিফাইনালের আগে বাংলাদেশের এই ব্রিটিশ কোচ বুরুন্ডির রক্ষণে দুর্বলতা দেখেছিলেন। বাস্তবেও দেখা গেছে তাই। প্রতিপক্ষের দুর্বল রক্ষণভাগে গোলের সুযোগ ছড়িয়ে ছিল, কিন্তু মাহবুবুর রহমান, সাদউদ্দিন, রাকিব, ইব্রাহিমদের কেউ সদ্ব্যবহার করতে পারেননি। উল্টো বুরুন্ডি অনেক কঠিন জায়গা থেকে গোল বের করে নিয়ে পৌঁছে গেছে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনালে। জেমির চোখে পুরো ম্যাচের সারমর্মটা হলো সুযোগ সদ্ব্যবহার করায়, ‘সুযোগ কাজে লাগাতে পারা, না-পারাই এই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আমরা ভালো খেলেও সুযোগ নষ্ট করেছি আর বুরুন্ডি সুযোগগুলো গোলে রূপ দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগগুলোর একটি কাজে লাগাতে পারলেও ম্যাচের স্কোরলাইন ২-১ হয়ে যায়। তখন ম্যাচের চিত্রটাই হয়তো বদলে যেত।’ কিন্তু বুরুন্ডির এক এনশিমিরিমানা জসপিনের গোলের জোয়ারেই ভেসে গেছে স্বাগতিকরা। দুই ম্যাচে দুটো হ্যাটট্রিকসহ ৭ গোল করা বুরুন্ডির হ্যাটট্রিকম্যান এই বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের বড় তারকা। অন্যদিকে আগের ম্যাচের নায়ক মতিন মিয়া শুরুতেই চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় গোলের মানুষের বড় অভাব হয়ে যায় বাংলাদেশ দলে।

এই সমস্যা থেকে উতরানোর একটি উপায় হলো দেশের ফুটবল কাঠামো ঢেলে সাজানো। ‘আমাদের এখন খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে ঘরোয়া ফুটবল ঢেলে সাজানো। খেলোয়াড়দের গোল করার অভ্যাস তৈরি করতে হলে কাঠামো বদলাতে হবে’— বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচের এই কথায় পরিষ্কার ঘরোয়া ফুটবলে স্ট্রাইকিং পজিশনে দেশিদের খেলানোর সুযোগ করে দিতে হবে। এসএ গেমসের আগেও তিনি ঘরোয়া কাঠামো বদলে বিদেশি কমিয়ে দেশি ফরোয়ার্ডদের খেলার সুযোগ তৈরি করার কথা বলেছিলেন। তাঁর এ কথা শুনবে কে! বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ক্লাবগুলোর চাওয়া মেনেই প্রতি বছর বছর বিদেশির সংখ্যা বাড়িয়ে যাচ্ছে। আর দেশি স্ট্রাইকাররা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে হয়ে যাচ্ছেন ডিফেন্ডার!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা