kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

অভিজ্ঞতার ছায়ায় তারুণ্যে আস্থা

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিজ্ঞতার ছায়ায় তারুণ্যে আস্থা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিরিজ শুরুর আগেই কাটাকুটির খেলায় এক হিসাবে দুই দলই সমান-সমান অবস্থায়। ব্যাটিং নির্ভরযোগ্যতায় বাংলাদেশের জন্য মুশফিকুর রহিম যা, পাকিস্তানের বোলিংয়ে মোহাম্মদ আমির আর ওয়াহাব রিয়াজও তাই। কিন্তু নির্ভরতার প্রতিশব্দ হয়ে যাওয়া এই ক্রিকেটারদের কেউই নেই লাহোরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় মুশফিকের পাকিস্তান যেতে না চাওয়ার ব্যাপারটি আলাদা। তবে সদ্য সমাপ্ত বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দারুণ বোলিং করে যাওয়া আমির-ওয়াহাবদের যে ছেঁটেই ফেলা হয়েছে!

তাঁদের বাদ দিয়ে একেবারে তারুণ্যনির্ভর এক পেস আক্রমণ গড়েছেন পাকিস্তানের নির্বাচকরা। বাংলাদেশ সিরিজের দলে যাঁরা জায়গা দেননি আরো দুই অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ ইরফান ও জুনাইদ খানের কাউকেই। তাঁদের জায়গা নিয়েছেন ১৯-২০ বছরের টগবগে তরুণ ফাস্ট বোলাররা। দলে ফেরা শাহীন শাহ আফ্রিদির সঙ্গী মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ মুসা, পেস বোলিং অলরাউন্ডার আহমেদ বাট এবং অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে নজর কাড়া হারিস রউফরা।

তুলনায় বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণে মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম ও আল-আমিন হোসেনের মতো অভিজ্ঞদের ছায়াতেই আছেন তরুণ হাসান মাহমুদ। তেমনি ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহদের ছায়া পাচ্ছেন তরুণ আফিফ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মোহাম্মদ নাঈম শেখরা। তাই মুশফিকের অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্যতাকে মিস করলেও দলের তরুণদের ওপর আস্থায় ঘাটতি নেই মাহমুদের। তিনি বরং অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে পারফরম্যান্সের ফুল ফোটানোর বিষয়ে দারুণ আশাবাদী।

লাহোরের সংবাদ সম্মেলনে কাল বলেছেনও সে কথা, ‘বিপিএলে পারফরম করা দারুণ এক ঝাঁক তরুণ আছে আমাদের। ওই তরুণদের ওপর আমরা নির্ভর করব। দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও আছে। আমি, সৌম্য, তামিম, মুস্তাফিজ, রুবেলের মতো আল-আমিন, শফিউলরাও অনেক দিন থেকে খেলছে। আমার মনে হয় দলে তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার দারুণ এক মিশ্রণ ঘটেছে। এখন প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে আমাদের খেলা নিয়ে ভাবা। তাহলে ভালো পারফরম্যান্স বের করে আনা সম্ভব।’  

তরুণদের মধ্যে সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত এর আগে বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী রয়ালসের অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তাঁর দলের দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও আফিফের। বলে গেছেন, শক্তি বাড়াতে পারলে আরো ভালো ব্যাটসম্যান হয়ে উঠবেন তাঁরা। এই তরুণদের জন্য পাকিস্তান সিরিজ বিশাল এক সুযোগ নিয়েই দরজায় দাঁড়িয়ে বলে মনে হচ্ছে মাহমুদের, ‘এই তরুণরা ঘরোয়া ক্রিকেট ও বিপিএল পারফরম করেছে। ওদের জন্য এবার বড় সুযোগ সেরাটা দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরার। আমি মনে করি, ওরা এর জন্য প্রস্তুতও আছে।’

দলে অনেক ওপেনার থাকলেও এঁদের কয়েকজনকে মিডল অর্ডারেও খেলানো হবে। কোথায় খেলানো হবে, দেশে থাকতেই সে ধারণা দিয়ে গেছেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও। এবার লাহোরে সেই ব্যাটিং অর্ডার প্রসঙ্গ উঠতেই মাহমুদ উল্লাহ জানিয়ে রাখলেন তিনিও ওপরে উঠে আসতে আগ্রহী, ‘এটি নিয়ে (ব্যাটিং অর্ডার) আমাদের বসতে হবে। যদি আমি টপ অর্ডারে ব্যাটিং করার সুযোগ পাই, তাহলে খুব খুশি হব। কিন্তু দলের জন্য অবদান রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, দলের সবাইও এভাবেই ভাবছে।’

মাহমুদকে ভাবতে হচ্ছে প্রতিপক্ষ নিয়েও। পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ পেস আক্রমণকেও তাই হালকা করে দেখার পক্ষপাতী নন, ‘না, আমি সেভাবে ভাবছি না (অনভিজ্ঞ বলে কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়)। আমির এবং ওয়াহাব অবশ্যই অনেক অভিজ্ঞ বোলার। তবে এটি পাকিস্তানের অন্যদের জন্যও বড় সুযোগ।’ সেই সঙ্গে তিনি এ কথাও বলতে ভোলেননি যে, ‘আমরা ওসব নিয়ে ভাবছি না। আমাদের মনোযোগ নিজেদের শক্তি-দুর্বলতার দিকেই। কিভাবে আমরা ভালো পারফরম করতে পারি, চিন্তা তা নিয়েই।’

আবার এটিও জানেন যে একজনকে নিয়ে পরিকল্পনায় ডুবে থাকার ভুলও কাজে লাগাতে পারেন পাকিস্তানের অন্য কোনো ব্যাটসম্যান। সে জন্য বাংলাদেশের মনোযোগ শুধুই আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান বাবর আজমে নিবদ্ধ নেই, ‘তিন ফরম্যাটেই বাবর দারুণ খেলছে এবং প্রচুর রানও করছে। র‌্যাংকিংয়েও পড়েছে এর প্রতিফলন। ও প্রমাণ করেছে যে কতটা ভালো ক্রিকেটার। তবে পাকিস্তানের সব ব্যাটসম্যানকে নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমাদের বোলিং ইউনিট এটি নিয়ে কাজ করছে। আশা করি, পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করতে পারব আমরা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা