kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

অপেক্ষায় থাকতে বললেন সাকিব

আমি আশা করব সবাই যেন নিরাপদে যেতে পারে এবং খেলে ফিরে আসতে পারে। অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য যেন সাফল্য নিয়ে আসতে পারে।

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপেক্ষায় থাকতে বললেন সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৩-০! গত অক্টোবরে লাহোরে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সফরকারী শ্রীলঙ্কা এমন ব্যবধানেই উড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানকে। এবার একই শহরে বাংলাদেশও যেন স্বাগতিকদের নাস্তানাবুদ করে আসতে পারে, সে প্রত্যাশা নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসানের। টি-টোয়েন্টি সিরিজের সম্ভাব্য ফল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যে এই অলরাউন্ডার টেনেছেন সেই পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা সিরিজের স্কোরলাইনই।

মাঠে নেই বলে এখন মাঠের বাইরে অনেক সময় দিতে পারছেন সাকিব। বিশেষ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ভীষণ ব্যস্ততা যাচ্ছে তাঁর। একের পর এক পণ্যের দূত হয়েই চলেছেন। কোনো কোনো পণ্যের সঙ্গে আবার ‘পার্টনারশিপ’ আরো দীর্ঘ হয়েছে। লাইফবয় সাবানের সঙ্গে সাকিবের সম্পর্ক গত ৯ বছর ধরেই। কাল আরো তিন বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করলেন। সে উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথা বললেন বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরে তাঁর প্রত্যাশা নিয়েও, ‘আমি আশা করব সবাই যেন নিরাপদে যেতে পারে এবং খেলে ফিরে আসতে পারে। অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য যেন সাফল্য নিয়ে আসতে পারে। শ্রীলঙ্কা শেষবার যখন গেল, পাকিস্তানের সঙ্গে ৩-০তে জিতে এসেছে। তো আমাদেরও ভালো ফল করা উচিত।’ 

জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করে নিষিদ্ধ হওয়া সাকিব আগামী ৩০ অক্টোবরের আগে মাঠে ফিরতে পারবেন না। প্রবেশাধিকার নেই এমনকি ‘হোম অব ক্রিকেট’ মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেও। তাই বলে যে নিজের চেনা জগতের সঙ্গে একদম যোগাযোগ নেই, তা নয়। জানালেন, কোচিং স্টাফের সদস্যদের সঙ্গেও কথা হয় তাঁর, ‘হেড কোচের (রাসেল ডমিঙ্গো) সঙ্গে নিয়মিতই কথা হয় আমার। কথা হলে যে খেলা নিয়েই হবে, এমন নয়। অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ আছে আমার।’

তাঁর মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েও খুব বেশি কথা বাড়াতে চাইলেন না, ‘সে জন্য আপনাদের আমি ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বললাম আমি অনেক কিছু করে আসছি এবং আসার পর কিছু প্রমাণিত হলো না, সেটির ফল ভালো হবে না। হবে না গ্রহণযোগ্যও। অপেক্ষা করুন, সব ঠিকঠাক থাকলে উত্তর সময়ই বলে দেবে।’ মিস করছেন ক্রিকেটও, ‘একটি জিনিসের সঙ্গে যদি সম্পৃক্ততা থাকে, সেটি আপনার পছন্দের হোক বা না হোক, আপনি সেটি মিস করবেনই। আমার ক্ষেত্রেও ভিন্ন কিছু নয়।’ তবে ক্রিকেট নেই বলেই অন্য কাজে চুটিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারছেন, ‘যে কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, এখন সেটি নেই। তাই অন্য সব কাজ করার সুযোগ হচ্ছে।’

অন্য সব কাজ বলতে বাণিজ্যিকই। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সাকিবকে পণ্যদূত হিসেবে পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। তাও আবার জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। অথচ তুলনায় অতটা গুরুতর না হওয়ার পরও বল টেম্পারিং কাণ্ডে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার নিষিদ্ধ হওয়ার পর বাতিল হয়েছিল তাঁদের ব্যক্তিগত সব চুক্তিও। কিন্তু সাকিবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ঘটছে ঠিক এর উল্টোটাই। কালকের অনুষ্ঠানে একই বিশ্বের অদ্ভুত এই বৈপরীত্য নিয়ে অপ্রিয় প্রশ্নের মুখেও পড়লেন সাকিব। জবাব দিলেন অবশ্য এক কথায়, ‘আপনারাই চেষ্টা করুন কারণ খুঁজে বের করার।’ নিষিদ্ধ খেলোয়াড়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কতটা উপভোগ করেন, জবাব দিলেন সে প্রশ্নেরও, ‘বাংলাদেশে অনেকবারই শুনেছেন কিংবা এই কথা প্রচলিতও আছে যে জীবিত থাকতে মর্মটা বোঝা যায় না। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, আমি জীবিত থাকতেই মর্মটা (মানুষ) বুঝতে পারছে। আমি খুশি, যেহেতু সবার ভালোবাসা আছে। এখানে আমাদের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। আমি সেই দায়িত্বটি পালন করতে চেষ্টা করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা