kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

পুরনো কৌশলেই স্বাগতিকদের বুরুন্ডি জয়ের ছক

সনৎ বাবলা   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পুরনো কৌশলেই স্বাগতিকদের বুরুন্ডি জয়ের ছক

দুই ম্যাচে বুরুন্ডির ৭ গোল যেন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে স্বাগতিকদের। তাই এক ম্যাচ বাদেই জেমি ফিরে যাচ্ছেন তাঁর চেনা স্টাইলে। কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল। বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এর চেয়ে ভালো রেসিপি আর হয় না। বুরুন্ডির বিপক্ষে পুরনো রেসিপিতে লাল-সবুজের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল শুরু হবে আজ বিকেল ৫টায়।

বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে গ্রুপে দুই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে একটি ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো পূর্ণতা পেয়েছে তাদের অ্যাটাকিং ফুটবল। এই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এসএ গেমসে হয়েছিল চরম ভরাডুবি। সন্দেহ হয়েছিল তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামর্থ্য নিয়ে। রক্ষণাত্মক খেলতে খেলতেই কিনা জামাল-মতিনরা ভুলে গিয়েছিলেন আক্রমণাত্মক ফুটবল! সেই ভুল ভেঙেছে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের শ্রীলঙ্কা ম্যাচে। মতিন মিয়ার দুর্দান্ত দুটো গোল আর শেষে ইব্রাহিমের এক গোলে ম্যাচটি বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক ফুটবলের দুর্দান্ত এক ছবি হয়ে যায়। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বুরুন্ডির যে অনেক পার্থক্য দেখছেন স্বাগতিক অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, ‘শ্রীলঙ্কার ম্যাচ আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে তবে সেমিফাইনাল ম্যাচটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বুরুন্ডি খুব শক্তিশালী এবং তাদের গোল করার সামর্থ্য বেশি। ম্যাচে আমাদের অনেক মনোযোগী থাকতে হবে। এটা খুব কঠিন ম্যাচ।’ পূর্ব আফ্রিকার এই দলটি চমৎকার খেলে। গ্রুপের দুই ম্যাচে তারা ৭ গোল করেছে এবং খেয়েছে দুই গোল। তাই সেমিফাইনালে রক্ষণভাগ উদোম করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার বিলাসিতা দেখাবে না স্বাগতিকরা।

তা ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলতে হবে দুই নিয়মিত ডিফেন্ডারকে ছাড়াই। অসুস্থতার কারণে ইয়াসিন ও বাদশা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আগে ছিটকে পড়ার পর শ্রীলঙ্কার ম্যাচে তপু বর্মণ লাল কার্ডের তোপে একাদশের বাইরে। তাই রক্ষণে বাড়তি ছায়া না দিয়ে আক্রমণে মেতে থাকার পাত্র নন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে, ‘আমাদের কয়েকজন ডিফেন্ডার নেই, তাই ম্যাচটা কঠিন হয়ে গেছে। তবে নতুন মিডফিল্ডার মাঠে নেমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো খেলেছে। এই টুর্নামেন্টে আসলে অনেক কঠিন সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা এবং সেগুলো উতরেছিও। তাই রক্ষণভাগের সমস্যাটাও আমাদের উতরাতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ তপুর লাল কার্ডে স্কোয়াডে বাড়তি কোনো সেন্টার ব্যাক নেই। এখন রায়হান কিংবা নতুন ডিফেন্ডার মঞ্জুর মানিকের একজন খেলার সুযোগ পাবেন। দুজনের যে কেউ একাদশে সুযোগ পেলে তাঁর কাছ থেকে শতভাগ প্রত্যাশা করে কোচ কাউন্টারে লক্ষ্যভেদ করার কৌশল সাজাচ্ছেন, ‘ওদের ফরোয়ার্ড লাইন আমাদের রক্ষণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে ডিফেন্ডারদের সেই চ্যালেঞ্জ জিততে হবে এবং দ্রুতগতির কাউন্টারে আমাদের সুযোগ নিতে হবে শেষ ম্যাচের মতো।’

সুতরাং কোচের কথায় বাংলাদেশের কাউন্টারে খেলার কৌশল পরিষ্কার। সেটা খেলতে গেলে মাঝমাঠে রক্ষণের ছায়া বাড়াতে হবে। তাই ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফিরছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। এ ছাড়া বাংলাদেশের কোচকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বুরুন্ডির রক্ষণভাগ, ‘তারা (বুরুন্ডি) সেশেলস ও মরিশাসের বিপক্ষে ম্যাচে গোলের সুযোগ দিয়েছে। তাদের রক্ষণভাগে দুর্বলতা আছে, যে সুযোগটা আমরা নিতে পারি। বল তাদের রক্ষণে নিতে পারলেই আমাদের সুযোগ আসবে এবং সদ্ব্যবহার করতে হবে। সেমিফাইনালে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ গ্রুপের দুই ম্যাচে বুরুন্ডি বড় ব্যবধানে জিতলেও আগে তারা গোল হজম করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তাদের রক্ষণভাগ ভুল করেছে, যদিও প্রতিপক্ষ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।

রক্ষণের সেই দুর্বলতা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় বুরুন্ডি। উল্টো তাদের কোচ জসলিন বিফুসা বলেছেন তাঁর আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনের কথা, ‘আমাদের ফুটবল দর্শন হলো আক্রমণাত্মক ফুটবল। আক্রমণ করে খেলা এবং রক্ষণ করা। আশা করি, এই ফুটবল খেলে আমরা এই ম্যাচেও গোল পাব এবং ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠব।’ তাদের দুই ফরোয়ার্ড জসপিন হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেছেন আর আমিসির আছে দুই গোল। তবে দুজনের ওপরই নির্ভর করে নেই আফ্রিকান নেশন্স কাপ খেলা দলটি। ম্যাচ বের করার ফুটবলার আরো আছে তাদের। তাই বুরুন্ডি কোচ যেন স্বাগতিকদের গোনায় ধরতে চান না, ‘বাংলাদেশ স্বাগতিক সুবিধা পাবে, তাদের দর্শক থাকবে—এসব কোনো কিছুই আমাদের ভাবনার বিষয় নয়। এ রকম সেমিফাইনাল-ফাইনাল ম্যাচ আমরা অনেক খেলেছি। অভিজ্ঞতাও আছে।’

রীতিমতো হুংকার দিচ্ছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটি। এর পরও বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল এতটুকু বিচলিত নন, ‘র‌্যাংকিং আসলে বড় ইস্যু নয়। কৌশল মেনে সেরাটা খেলতে পারলে আমাদের জন্যও দুর্দান্ত কিছু অপেক্ষা করছে এই ম্যাচে।’ এমন প্রত্যাশায় আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ভরে যাবে স্বাগতিক দর্শক-সমর্থকে। বাংলাদেশ ফাইনালের বুড়ি ছুঁতে পারলে সেটা হবে দ্বিতীয়বারের মতো। ২০১৫ সালে একবারই ফাইনালে উঠেছিল স্বাগতিকরা। চার বছর বাদে আবার যদি ফেরে সেই দৃশ্য!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা