kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পাকিস্তান সফর

মুশফিকের উদ্বেগ নেই মাহমুদের

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : সফর নিশ্চিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই কথাটি বলে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তান যাবেন কি যাবেন না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ক্রিকেটারদের থাকবে। সফর নিশ্চিত হওয়ার পর একমাত্র মুশফিকুর রহিমই নিরাপত্তা আশঙ্কায় পাকিস্তান না যাওয়ার মনস্থির করেন। পরিবারের আশঙ্কার কারণেই যে তাঁর অমন সিদ্ধান্ত, জানান সেটিও।

কৌতূহলের জায়গাটি সেখানেই। কারণ মুশফিক না গেলেও পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন মাহমুদ উল্লাহ। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক তিনি। সম্পর্কে এ দুজন ভায়রা, মাহমুদের স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন মুশফিক। তো একজন পরিবারের আতঙ্কে পাকিস্তান যাওয়া বাতিল করলে আরেকজন পরিবারকে কিভাবে সম্মত করালেন? কাজটি যে সহজ হয়নি, কাল সংবাদ সম্মেলনে তা জানান মাহমুদ, ‘প্রাথমিক অবস্থায় অবশ্যই কঠিন ছিল। আমার পরিবারেরও উদ্বেগ ছিল। পরে ওদের সঙ্গে কথা বলেছি; সবাই রাজি হয়েছেন। এদিক থেকে কিছুটা স্বস্তি যে পরিবার হয়তো অতটা উদ্বিগ্ন থাকবে না। কারণ আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।’ পাশাপাশি মুশফিকের পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিও সমর্থন রয়েছে তাঁর আত্মীয়র, ‘মুশির না যাওয়ার সিদ্ধান্তও আমি সমর্থন করি। কারণ একজন ক্রিকেটারের জীবনে পরিবার অনেক বড় ব্যাপার। যে কারো ব্যক্তিগত জীবনেই পরিবারের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। এ কারণেই আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে মুশির সিদ্ধান্তের প্রতি।’

মুশফিক না গেলেও ১৫ সদস্যের দল নিয়ে আজ লাহোরে যাচ্ছেন মাহমুদ। সেখানে নিরাপত্তার ঘেরাটোপেই থাকতে হবে বাংলাদেশকে। এ অবস্থায় ক্রিকেট খেলা সহজ হওয়ার কথা নয়। তবে ক্রিকেটাররা সেই ভাবনা পিছু ঠেলে ভালো খেলে জয়ের ইচ্ছে পূরণেই মনোযোগ দিচ্ছেন বলে দাবি মাহমুদের, ‘এটুকু বলতে পারি, আমি এবং দলের অন্য খেলোয়াড়রাও এ ব্যাপার নিয়ে চিন্তিত নয়। কারণ এ সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আমরা এখন ওখানে খেলার কথাই চিন্তা করছি। কিভাবে ভালো পারফরম করতে পারব এবং জিততে পারব—এটা নিয়েই বেশি ভাবছি।’

অনেক নাটকের পর পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে যেতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। চার মাসের মধ্যে তিন দফায় সফর; যেখানে তিন ফরম্যাটেই খেলা হবে। আজ প্রথম দফার সফরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য যাচ্ছে দল। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দূর করার জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটে যাচ্ছে দল। অর্থাৎ পুরো এয়ারক্রাফটই ভাড়া করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এখানে পাকিস্তান সফর সংশ্লিষ্টরা ছাড়া অন্য কোনো যাত্রী থাকবেন না। ঢাকা থেকে রাত ৮টায় যাত্রা শুরু করে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় লাহোর পৌঁছবে দল। কোনো যাত্রাবিরতি ছাড়া সাড়ে তিন ঘণ্টার ফ্লাইট এটি।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে শুধু মুশফিক যাচ্ছেন না। কিন্তু কোচিং স্টাফের সদস্যের বেশির ভাগই অসম্মতি জানিয়েছেন পাকিস্তান সফরে যেতে। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য যাচ্ছেন। আজকের ফ্লাইটে জাতীয় দলের সঙ্গী হচ্ছেন বিসিবি পরিচালক আকরাম খান, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। সঙ্গে ন্যাশনাল সিরিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) দুই সদস্যও থাকবেন। সঙ্গে সফর কাভার করতে আগ্রহী গণমাধ্যমকর্মীদেরও একই ফ্লাইটে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে বিসিবি। পাকিস্তানের ভিসা পাওয়া কয়েকজন সংবাদকর্মী জাতীয় দলের সঙ্গেই তাই যেতে পারেন লাহোর।

বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না পাকিস্তান। তবে কালই দলের সঙ্গে লাহোরে যোগ দেবেন তিনি। নিরাপত্তা নিয়ে দলের কোনো অস্বস্তি যেন না থাকে, সে কারণেই বোর্ড প্রধান সার্বক্ষণিক জাতীয় দলের সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন আগেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা