kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আন্ডারডগ হয়েও জয়ের আশা

অবশেষে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে আজ বাংলাদেশ। যে সফরের আবহসুর ক্রিকেটের চেয়ে যেন বেশি নিরাপত্তা ইস্যু। কাল সংক্ষিপ্ত অনুশীলন ক্যাম্পের শেষ দিনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ অবশ্য বললেন ভিন্ন কথা। নিজেদের সেরাটা খেললে পাকিস্তান থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ফেরাও সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আন্ডারডগ হয়েও জয়ের আশা

প্রশ্ন : আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে পাকিস্তান এক নম্বরে; বাংলাদেশ ৯ নম্বরে। সিরিজে তাই বাংলাদেশ ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে খেলবে কি না?

মাহমুদ : হ্যাঁ, র‌্যাংকিং সেটি বলছে। তবে যেভাবে শেষ কয়েকটি সিরিজ ধরে আমরা খেলছি, তাতে আমি খুব আশাবাদী যে ভালো করতে পারব। আমরা সিরিজ জেতারই চেষ্টা করব।

প্রশ্ন : স্কোয়াড নিয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী?

মাহমুদ : আমি খুব খুশি যে যারা স্কোয়াডে চান্স পেয়েছে, বিপিএলে তারা সবাই খুব ভালো করেছে। ব্যাটসম্যানরা রান পেয়েছে। বোলাররা উইকেট পেয়েছে। আমি তাই সব কিছু নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তানে গিয়ে কতটা প্রয়োগ করতে পারি, সেটাই দেখার।

প্রশ্ন : মুশফিক না থাকায় মিডল অর্ডারে আপনার ওপর দায়িত্বটা বেড়েছে কি না?

মাহমুদ : আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি, আমার ও তামিমের দায়িত্ব একটু বেশিই থাকবে। বিশেষ করে টপ অর্ডারে তামিমের অভিজ্ঞতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ও খুব ছন্দে আছে; বিপিএলে অনেক রান করেছে। আর আমি চেষ্টা করব, নিজের দায়িত্বটা যেন পালন করতে পারি। দলে আমার যে ভূমিকা, যত বেশি সম্ভব শেষের দিকের ওভার পর্যন্ত যেন ব্যাটিংয়ে থাকতে পারি। যেন দলকে ভালো স্কোর এনে দিতে পারি। মিডল অর্ডারে আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ ছাড়া আমাদের দলের অনেক ব্যাটসম্যানকে ব্যাটিং অর্ডারের ভিন্ন পজিশনে খেলতে হতে পারে। পাকিস্তান সফরে টপ অর্ডারের অনেককেও হয়তো লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে হতে পারে। এই জিনিসগুলো মানসিকভাবে ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী অনুশীলন করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন : র‌্যাংকিংয়ে পাকিস্তান এক নম্বরে থাকলেও গত বছর টি-টোয়েন্টিতে খুব বাজে কেটেছে। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে পর্যন্ত হেরেছে ০-৩ ব্যবধানে। ওদের এই খারাপ সময়ের সুযোগটা নিশ্চয়ই কাজে লাগাতে চাইবে বাংলাদেশ?

মাহমুদ : হ্যাঁ, পাকিস্তান শেষ কয়েকটা সিরিজ খারাপ খেলেছে। কিন্তু আমি মনে করি, তারা অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ। তাদের ওখানে খেলা, যদিও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছে, এটা তাদের মাথায় আছে। আমার মনে হয়, আমাদের স্কোয়াডের সবাই ভালো ছন্দে আছে। এটি যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে চাই। আমরা যদি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে জিততেও পারব। পাকিস্তানকে নিয়ে বেশি চিন্তা করার কিংবা র‌্যাংকিংয়ে কী অবস্থায় আছে—সেসব নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

প্রশ্ন : কোচ রাসেল ডমিঙ্গো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়ক হিসেবে আপনাকে দেখছেন। বছরের শেষ দিকের সেই টুর্নামেন্টের জন্য দল তৈরির কাজ কি পাকিস্তান সফর থেকেই শুরু হচ্ছে?

মাহমুদ : আমি এখনো জানি না; যেহেতু আমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই সিরিজের জন্য। কোচের যদি আস্থা থাকে আমার ওপর, তাঁকে অনেক ধন্যবাদ। রাসেল অনেক অভিজ্ঞ কোচ। তিনি জানেন কিভাবে কী করতে হয়, সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথাও বলছেন। আমার মনে হয়, সবাই এ জিনিসটা বোঝেন এবং তাঁর পরামর্শ নিয়ে কাজ করবেন।

প্রশ্ন : পূর্ণ মেয়াদে লম্বা সময়ের জন্য অধিনায়কত্ব পেলে ভালো হতো?

মাহমুদ : পরিকল্পনা করার জন্য সেটি তো অবশ্যই সাহায্য করে। এখন আমাকে যেহেতু এই সিরিজের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই চেষ্টা করব এই সিরিজে যেন দল ভালো করতে পারে।

প্রশ্ন : অভিজ্ঞদের মধ্যে এবার সাকিব-মুশফিক নেই। প্রায় সিরিজেই অভিজ্ঞদের মধ্যে কয়েকজন থাকছেন না। ফলে আপনার কি মনে হয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় এখন এসেছে?

মাহমুদ : আমার মনে হয় না। কারণ সৌম্য অনেক দিন ধরে খেলছে। আফিফ, বিপ্লব, নাঈম শেখরা নতুন। কিন্তু তারা সবাই জানে তাদের কী করতে হবে; কী পরিস্থিতি সামলাতে হবে। এমন প্রতিযোগিতা হওয়া দলের জন্য খুব ভালো। আমি ব্যাপারটা এভাবেই দেখি।

প্রশ্ন : পাকিস্তান সফরে দলে পাঁচজন পেসার। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভাবনাতেই কি পেসারদের আধিক্য?

মাহমুদ : টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যদি বৈচিত্র্যময় পেস বোলিং লাইন থাকে, তাহলে সেটি বেশ সাহায্য করে। অস্ট্রেলিয়ায় হয়তো স্পিনারদের সেভাবে খেলতে হবে না। তাদের মূল কাজ উপমহাদেশেই। অস্ট্রেলিয়ায় পেস বোলারদের থাকবে বড় ভূমিকা। বিপিএলে দেখেছি, আমাদের পেসাররা বেশ ভালো করেছে। পাকিস্তান সফরে যারা সুযোগ পেয়েছে, সেটি ওদের প্রাপ্য। আল আমিন, সুহাস (শফিউল), রুবেল, মুস্তাফিজ অনেক ভালো করেছে। আমাদের যথার্থ স্পিনার আছে কি নেই, তা নিয়ে আমি খুব চিন্তিত না। এবারের মিশনে পেস বোলিং সাইডটা বেশ অভিজ্ঞ। এখানে আমি আস্থা রাখব পেস বোলারদের ওপর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা