kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ক্লপের পরিতৃপ্তি আর ওলের হতাশা

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্লপের পরিতৃপ্তি আর ওলের হতাশা

স্কোরলাইন বলছে, ম্যাচটা শেষ হয়েছে ২-০ গোলে। তবে অ্যানফিল্ডে, লিভারপুল-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যাচটা একতরফা হয়নি মোটেও। শুরুতে গোল পেয়ে এগিয়ে গেছে লিভারপুল, এরপর অফসাইড ও ভিএআরে বাতিল হয়েছে দুটো গোল। তারপর একটা সময়ে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ম্যানইউ। সুযোগ সৃষ্টি করেছে, লিভারপুলের রক্ষণে চাপ বাড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ করতে পারেনি রেড ডেভিলরা, বরং শেষ সময়ের অলআউট আক্রমণে সবাই ওপরে উঠে যাওয়াতে লিভারপুল গোলরক্ষকের লম্বা করে বাড়িয়ে দেওয়া বলটা ধরে অনেকটা দৌড়ে প্রথমবারের মতো ম্যানইউর বিপক্ষে গোল করতে পেরেছেন মোহাম্মদ সালাহ। ম্যাচশেষে লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের কণ্ঠে স্বাভাবিকভাবেই পরিতৃপ্তির ছাপ, ম্যানইউ কোচ ওলে গানার শোলসকায়ের আক্ষেপ করছেন সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারার।

সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্স এবং খেলোয়াড় মানদণ্ডে লিভারপুল ও ম্যানইউর যা ফারাক, পয়েন্ট টেবিলেও তারই প্রতিফলন। শীর্ষে থাকা লিভারপুলের সঙ্গে পাঁচে থাকা ম্যানইউর পয়েন্টের তফাতই হচ্ছে ৩০! তবু পাঁড় সমর্থকদের মনে ক্ষীণ আশা, এই মৌসুমে লিভারপুলের কাছ থেকে দুটো পয়েন্ট কেড়ে রাখতে পেরেছে একটা দলই। সেটা ম্যানইউ। অ্যানফিল্ডেও তাই এমন কিছুরই প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের বাসিন্দাদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই। সঙ্গী কেবল লিভারপুলের রক্ষণে কিছুটা হলেও কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার সাহস। যেটা স্পষ্ট কোচ ‘ওলে’র কথাতেই, ‘আমরা ওদের চেপে ধরেছি, ওদের ঠেলে নামিয়েছি, দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখলের বেশিটাই নিজেদের পায়ে রেখেছি আর সুযোগ তৈরি করেছি। আমরা যে চাপে ফেলেছি, তাতে ওদেরকে শঙ্কিতই দেখিয়েছে, অবশ্য শেষবেলায় সবাইকে ওপরে পাঠিয়েছিলাম সমতা ফেরানো গোলের আশায়, কিন্তু তা আর হলো না আর ওরা ফিরতি বলে গোল করল।’ গোলরক্ষক দাভিদ দে গিয়ার প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ ছিলেন শোলসকায়ের, ‘আমাদের গোলরক্ষক দারুণ পারফরম করেছে আর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রাও ভালো করেছে। আমরা সুযোগ সৃষ্টি করেছি, চাপ তৈরি করেছি, কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত শটটা বা চূড়ান্ত পাসটা ভালো করে দিতে পারিনি।’

একটা সময়ে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ম্যানইউ। সুযোগ সৃষ্টি করেছে, লিভারপুলের রক্ষণে চাপ বাড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ করতে পারেনি রেড ডেভিলরা, বরং শেষ সময়ের অলআউট আক্রমণে সবাই ওপরে উঠে যাওয়াতে লিভারপুল গোলরক্ষকের লম্বা করে বাড়িয়ে দেওয়া বলটা ধরে অনেকটা দৌড়ে প্রথমবারের মতো ম্যানইউর বিপক্ষে গোল করতে পেরেছেন মোহাম্মদ সালাহ।

অন্যদিকে ক্লপ ম্যাচটা সম্পর্কে নিজের মত জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘ভালো খেলা হয়েছে, সত্যিই খুব ভালো খেলা হয়েছে। এ যাবৎকালের অন্যতম সেরা ডার্বি। প্রতিপক্ষের ফিরে আসার সুযোগও ছিল। আমাদের ওদের আক্রমণ সামলাতেও হয়েছে।’ শেষ সময়ে অ্যালিসনের চাতুর্যের কথাও ভুললেন না ক্লপ, ‘এরপর শেষ সময়ে অ্যালিসন যেটা করল, কী দারুণ অ্যাসিস্ট আর মো সালাহর কী দৌড়! দুই দৌড়বিদের মধ্যে গতির লড়াই চলছিল আর মো (সালাহ) তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে।’ প্রথম গোলটা এসেছে সেটপিসে, ম্যাচের আগে খুব কি অনুশীলন করিয়েছিলেন ব্যাপারটা? এমন প্রশ্নে ক্লপের জবাব, ‘প্রতিটা ম্যাচের আগেই আমাদের একটা রুটিন থাকে, সেটা বিশ্লেষকদের কাজ। ওরা অনেক চেষ্টা করে। এসব জিনিস সবাই করে, কখনো কাজে লাগে কখনো লাগে না।’

গোলের পর সালাহর উদ্দাম উদ্‌যাপনই বলে দেয়, ক্যারিয়ারে প্রথমবার ম্যানইউর বিপক্ষে গোল করায় তাঁর আনন্দ কতখানি। সালাহ বললেন, এই গোলটা আসলেই বিশেষ একটা ব্যাপার, ‘একটা সময় মনে হচ্ছিল আমি বোধহয় আজকে (রবিবার) গোল পাব না। তবে আমি সেই ভাবনা থেকে ঘুরে দাঁড়াই আর মানসিকভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করি।’

ফনডাইকের হেড, সালাহর দৌড়; এই দুটোই জেতাল লিভারপুলকে। প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের পথে অলরেডরা এগিয়ে গেল আরো এক পা। বিবিসি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা