kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বুরুন্ডির বিপক্ষেও অভিন্ন ছক বাংলাদেশ দলের

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বুরুন্ডির বিপক্ষেও অভিন্ন ছক বাংলাদেশ দলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় বাংলাদেশকে শুধু বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের সেমিফাইনালেই নিয়ে যায়নি, অনেক দোলাচল শেষে দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নের ছবিটাকেও নিয়ে এসেছে সামনে।

দোলাচল তো বটেই। লাল-সবুজের ফুটবল ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে, সেটা বোঝা বড় কঠিন ছিল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বড় শক্তির সঙ্গে তুমুল লড়াই করে তারা হারত। তবে সেসব হারে গ্লানির চেয়ে বেশি ছিল সম্ভাবনা। তার ভিত্তিতে যখন দেশের মানুষ ফুটবল উন্নয়নের ছবি আঁকে তখনই তারা কাঠমাণ্ডুতে গিয়ে পড়ে চরম ভরাডুবির মুখে। এসএ গেমস ফুটবলে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ফেরে মাত্র একটি জয় এবং মাত্র দুটো গোল নিয়ে। তবে গত বছরের অন্যান্য পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই আঞ্চলিক গেমসে বড় স্বপ্ন দেখা অমূলক ছিল না। কারণ দলগুলো প্রায় সমমানের হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের (প্রায় জাতীয় দল) হতশ্রী চেহারা দেখার পর ফুটবল উন্নয়নের কথা হলফ করে বলার কোনো সুযোগ আর থাকে না। তাই গেল বছরের পারফরম্যান্স ব্যাখ্যা করলেও পাওয়া যাবে না স্পষ্ট কোনো ছবি। ফুটবল এগিয়েছে, নাকি পিছিয়েছে—স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর উপায় নেই।

নতুন বছরে সেই উপায়টা করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার ম্যাচটি। তাদেরকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর কোচ জেমি ডে-ও বলছেন, ‘ফুটবল ম্যাচে গোল হলো শেষ কথা। এত দিন গোলহীন পারফরম্যান্স ব্যাখ্যা করা হতো মাঠের খেলা দিয়ে। টেকনিক ও ট্যাকটিকস অনুযায়ী ফুটবলাররা খেলতে পারছে কি না, সেই দিয়ে বিচার করা হতো। তবে কালকের ম্যাচে ৩ গোলে জেতার পর সবাই বলতেই পারে আমাদের উন্নতি হয়েছে।’

জয় ছাড়া শুধু মাঠের ভালো খেলা দিয়ে আসলে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ম্যাচ জিততে গোল লাগে, আর জাতীয় দলের বড় সমস্যা ওই গোলে। ভালো খেলে সুযোগ তৈরি করেও তারা গোল পেত না। এর পেছনে ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশির ভিড়, দেশি স্ট্রাইকারদের ওপর ভরসা না রাখা ইত্যাদি অনেক কারণ আছে। সেই যা-ই হোক, গোলের দুশ্চিন্তা প্রবল হয়ে ধরা পড়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে শ্রীলঙ্কার ম্যাচের আগে। জোড়া গোলে আলোচনায় মতিন মিয়া, সুবাদে ভালো খেলার সঙ্গে গোলের যোগে বাংলাদেশের কঠিন ম্যাচ হয়ে গেল সহজ।

তাই এই ম্যাচটাকে সমমানের দলের বিপক্ষে খেলার প্রতীক হিসেবে মানছেন মাসুদ পারভেজ কায়সার। সাবেক ফুটবলার ও জাতীয় দলের এই সহকারী কোচের বিশ্লেষণে, ‘প্রায় সমশক্তির দলের বিপক্ষে আমাদের জেতার যে সামর্থ্য আছে এটা তারই প্রমাণ। আমাদের মানের দলগুলোর সঙ্গে কিভাবে খেলতে হবে, এই ম্যাচটা হতে পারে তার একটা ভালো উদাহরণ। এসএ গেমসে আমরা এই খেলাটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। সুযোগ তৈরি করার মতো ফুটবল আমরা খেলতে পারি, ফিনিশিং ভালো হলে আমরা জিতব।’

মতিনের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের এই ম্যাচটি লাল-সবুজের অ্যাটাকিং ফুটবলেরও ছবি হতে পারে। এত দিন তাদের সিলেবাসে ছিল রক্ষণাত্মক ফুটবল, গোল না খাওয়ার কৌশলের চর্চাটাই ছিল নিত্য। সেই ছক থেকে বেরিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তারা ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। এটা মতিন-সাদের জন্য নতুন ফুটবল, ম্যাচের পর ম্যাচ এভাবে খেললেই তৈরি হবে গোলের অভ্যাস। 

শ্রীলঙ্কা ম্যাচের এই স্মৃতি বাঁধাই করে রাখার মতো। খেলোয়াড়রাও চান এই খেলাটা বারবার মাঠে ফিরিয়ে আনতে। মিডফিল্ডার সোহেল রানাও খুব উচ্ছ্বসিত, ‘দেশের মাঠে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। খুব চাপের মধ্যে সবাই ভালো খেলেছে। বিশেষ করে মিডফিল্ডার মানিক প্রথম ম্যাচে খুব ভালো খেলেছে।’ চোটগ্রস্ত জামাল ভূঁইয়ার জায়গায় একাদশে ঢুকে চট্টগ্রাম আবাহনীর এই তরুণ চমৎকার খেলেছেন। ২৩ তারিখে বুরুন্ডির বিপক্ষে সেমিফাইনালে হয়তো ফিরবেন জামাল। কিন্তু তপুর লাল কার্ডে রক্ষণভাগে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ ট্রেনিংয়ে সাজাবেন নতুন রক্ষণভাগ, ‘আগামী দুদিন ট্রেনিংয়ে রক্ষণভাগ কাজ হবে। মানিক ও রায়হান আছে। বুরুন্ডি খুব ভালো দল, তাদের বিপক্ষে আরেকটি ভালো ম্যাচ খেলার জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে।’ ইয়াসিন আগেই ছিটকে গেছেন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে, এরপর তপুর লাল কার্ডে দুই নিয়মিত সেন্টারব্যাকহীন বাংলাদেশ দল। তাই লাল-সবুজের জন্য বুরুন্ডি চ্যালেঞ্জটা বেশ কঠিনই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা