kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

স্পিন থেকে পেসে বাঁকবদল!

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্পিন থেকে পেসে বাঁকবদল!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ তো ছিলেনই। এ ত্রয়ীর সঙ্গে সেদিন অভিষেক করিয়ে দেওয়া হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে, ২০১৫ সালের জুনে। স্পিননির্ভর বোলিং আক্রমণের দলে একসঙ্গে কিনা চার পেসার!

ভারতকে তাতে চমকে দেওয়া যায়। ম্যাচও জেতে বাংলাদেশ। আর ওয়ানডেতে ২০১৫-২০১৮ সালের যে সাফল্য, তাতে পেসারদের ভূমিকার গুরুত্বের কথা বারবার শোনা গেছে অধিনায়ক মাশরাফির মুখে। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ পেসারনির্ভর—এমনটা বলেননি কেউ। ভাবেননি পর্যন্ত কেউ।

অথচ এখন বাংলাদেশের ভরসা সত্যি সত্যিই হয়ে উঠছেন পেসাররা। দেখুন না, পাকিস্তান সফরে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে পাঁচজনই পেসার! সেটিকে বছরের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহড়া হিসেবে ভাবতেই পারেন। তাতে ভুল নেই। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের ভাবনার ক্যানভাস আরো বড়। টি-টোয়েন্টি ছাপিয়ে ওয়ানডে-টেস্টেও পেসারদের গুরুত্ব বোঝেন তিনি। বিদেশে ভালো খেলার জন্য গতির বোলারদের ওপর ভরসার বিকল্প নেই বলেও মানেন। তাতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ স্পিন থেকে পেসারনির্ভর হলেও আপত্তি নেই প্রধান নির্বাচকের।

স্পিনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সাকিব আল হাসান নিষেধাজ্ঞায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘূর্ণিজাদুতে কেউ নিজের সামর্থ্যের জানান দিতে পারছেন না। এবারের বিপিএলে যেমন শীর্ষ ২০ বোলারের মধ্যে বাংলাদেশের স্পিনার একজন—১৩ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে মাহেদী হাসান। এই অফ স্পিনারের সঙ্গে ছয় ম্যাচে চার শিকারের লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম আছেন পাকিস্তান সফরের দলে। বিপরীতে পেসার পাঁচ-পাঁচজন। বিপিএলে কমবেশি ভালো খেলেছেন সবাই। ২০ শিকারে বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটের চূড়ায় মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। আল-আমিন হোসেনের ১১ ম্যাচে ১২ উইকেট, শফিউল ইসলামের ১৪ ম্যাচে ৯। আর ১৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদকে ধরা হচ্ছে লম্বা রেসের ঘোড়া। তাঁদের বাইরে মেহেদী হাসান রানা, এবাদত হোসেনরা দারুণ বোলিং করেছেন বিপিএলে। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদও।

বিবর্ণ স্পিনারদের বিপরীতে এমন উজ্জ্বল পেসাররা! বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ধারা কি তবে পাল্টাচ্ছে? প্রধান নির্বাচকের কথায় যেন পরোক্ষ সায়, ‘বিদেশে খেলতে গেলে পুরোপুরি পেস বোলারদের ওপর নির্ভর করতে হয়। সর্বশেষ ভারত সফরেও দেখুন, ওদের সিমাররাই ভালো করেছে। সামনে যেহেতু বিদেশে আমাদের অনেক খেলা, সে জন্য পেসারদের ওপর জোর দিচ্ছি।’ পাকিস্তান সফরে পাঁচ পেসার নেওয়ার কারণও তা-ই, ‘ওখানকার কন্ডিশন ভেবেই এমন দল। লাহোরে এখন তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস; রাতে তা ছয়-সাতে নেমে আসে। আমাদের চেয়ে ঠাণ্ডা বেশি, শিশিরের ভূমিকাও বেশি। ওখানে পেসারদের সফল হওয়ার সম্ভাবনাও তাই বেশি।’

বিবর্ণ স্পিনারদের বিপরীতে এমন উজ্জ্বল পেসাররা! বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ধারা কি তবে পাল্টাচ্ছে? প্রধান নির্বাচকের কথায় যেন পরোক্ষ সায়, ‘বিদেশে খেলতে গেলে পুরোপুরি পেস বোলারদের ওপর নির্ভর করতে হয়। সর্বশেষ ভারত সফরেও দেখুন, ওদের সিমাররাই ভালো করেছে। সামনে যেহেতু বিদেশে আমাদের অনেক খেলা, সে জন্য পেসারদের ওপর জোর দিচ্ছি।’

বিপিএলে পেসাররা ভালো করায় নির্বাচকদের কাজটি সহজ হয়েছে নিঃসন্দেহে। তাতে আশার পাশাপাশি সতর্কতাও প্রধান নির্বাচকের, ‘বিপিএলে শীতের ভেতর, বিশেষত সন্ধ্যার ম্যাচগুলো কুয়াশাভেজা উইকেটে খেলা হয়েছে। এ অবস্থায় পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। তবে সব সময় তো আর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ক্রিকেট হবে না। আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গিয়ে আমাদের ছেলেরা কেমন করে, সেটিও দেখার বিষয়। আমরা তাই চেষ্টা করছি, পেস বোলারদের ভালোভাবে তৈরি করতে।’

কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যে স্পিনের চেয়ে পেস বোলারদের পুলটা বড়, তা মেনে নেন মিনহাজুল, ‘অবশ্যই পেসাররা এখন খুব ভালো করছে। আগেও আমরা এইচপিসহ ১২ জনের একটা পুল করে রেখেছি। ওদেরই খেলাচ্ছি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে। চম্পাকা (রামানায়েকে) আছে, নতুন পেস বোলিং কোচ যিনি আসবেন—তাঁর সঙ্গে মিলে আমরা সে প্রগ্রামটা আরো লম্বা করতে চাই। বছরজুড়ে পেস বোলারদের রাখতে চাই আমাদের তত্ত্বাবধানে; নির্দিষ্ট এক রুটিনের ভেতর। তাহলেই এর সুফল পাব।’ সুফলটা শুধু পাকিস্তান সফর কিংবা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সীমায় আটকে রাখতে চান না প্রধান নির্বাচক, ‘পাকিস্তান সফরে বলুন কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে— বোলিংয়ে মূল দায়িত্ব নিতে হবে পেসারদেরই। আর আমি সবচেয়ে বেশি যা ভাবছি, সেটি বিদেশে ভালো খেলা এবং টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করা। টেস্ট আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ভালো খেলতে পারলে সব ফরম্যাটেই ভালো খেলা যায়। আর পেসাররা ভালো না করলে টেস্ট ম্যাচ তো জিততে পারব না।’

বোলিং আক্রমণ স্পিন থেকে পেসনির্ভরতায় বাঁকবদল বাংলাদেশের সামনে তাই খুলে দিতে পারে সাফল্যের নতুন সম্ভাবনা। দেশ থেকে বিদেশে। ওয়ানডে থেকে টি-টোয়েন্টি, টেস্টেও!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা