kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

যেমন হবে ওপেনারবহুল দলের ব্যাটিং অর্ডার

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেমন হবে ওপেনারবহুল দলের ব্যাটিং অর্ডার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হিসেবে রাসেল ডমিঙ্গোর প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিল গত সেপ্টেম্বরে দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট। সেই সময় ছুটিতে থাকা তামিম ইকবালকে পারিবারিক কারণে ভারত সফরেও পাননি এই দক্ষিণ আফ্রিকান। তাই পাকিস্তান সফর সামনে রেখে গতকাল থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া দিন তিনেকের অনুশীলন শিবিরের প্রথম দিন তিনি মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমি কিন্তু এই প্রথম তামিমের সঙ্গে কোনো সফরে যাচ্ছি।’

যাওয়ার আগে সদ্য সমাপ্ত বঙ্গবন্ধু বিপিএলে তামিমের ব্যাটিং  টি-টোয়েন্টির চাহিদার সঙ্গে বেমানানই ছিল একরকম। বিশেষ করে আসরের সেরা ১০ ব্যাটসম্যানের মধ্যে এই বাঁহাতি ওপেনারেরই স্ট্রাইক রেট (১০৯.৩৯) ছিল সবচেয়ে কম। তা নিয়ে বাইরে প্রশ্ন থাকলেও তাঁর নিজের দল ঢাকা প্লাটুনে ছিল না। দলটি বরং তামিমের যথাসম্ভব উইকেটে টিকে থাকা এবং দলকে পথ দেখানোর ভূমিকাতেই সন্তুষ্ট ছিল। যে ভূমিকায় কখনো কখনো দারুণ সফল তামিমকে কি তাহলে জাতীয় দলেও সেই ‘অ্যাঙ্করিং’ই করতে দেওয়া হবে? ডমিঙ্গো অবশ্য দুটো সুযোগই উন্মুক্ত রাখলেন তামিমের জন্য, ‘বিষয়টি আরেকটু বুঝতে হবে আমাকে। বিপিএলে সে যে ভূমিকা পালন করেছে, সেটিও আমি বুঝি। এখন আমাদের দলে কোন ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে কথা বলতে হবে। আশা করি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। ওর ওপেনিং সঙ্গী কে, বিষয়টি এর ওপরও নির্ভর করছে। অন্য ওপেনার যদি মারকুটে হয়, তাহলে একই (বিপিএলের) ভূমিকা রাখতে পারে। আর সঙ্গী অনভিজ্ঞ হলে ওর চালিয়ে খেলার প্রয়োজন পড়তে পারে।’ 

তা তামিমের ওপেনিং সঙ্গী বেছে নেওয়ার পরও পাকিস্তানগামী দলে ওপেনারের অভাব নেই কোনো। তামিম ছাড়াও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে আছেন লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ডমিঙ্গো জানিয়ে দিলেন ওপেনারদের অনেককে ব্যাট করতে হবে মিডল অর্ডারে, ‘আমরা মাত্র দুজন ওপেনারই খেলাতে পারব। দেখতে হবে অন্যরা (ওপেনাররা) মিডল অর্ডারে কেমন খেলে। ভারতে তিন নম্বরে খেলা সৌম্য এবার ছয়ে নামতে পারে। রিয়াদ (মাহমুদ উল্লাহ) নামতে পারে পাঁচে। আফিফকে দেখা যেতে পারে তিন কিংবা চারে। শান্তও দারুণভাবে আসর (বিপিএল) শেষ করেছে। সুতরাং অনেক বিকল্পই বাজিয়ে দেখার আছে।’

যদিও ওপেনারদের মধ্যে সৌম্য সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের হয়ে নেমেছেন তিন নম্বর ও মিডল অর্ডারে। চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী রয়ালসের হয়ে ওপেনার হিসেবে এবার দারুণ করলেও আফিফ আগে ব্যাট করতেন তিন নম্বর কিংবা এর পরেও। এবার তাঁদের জন্য পাকিস্তান সফরে নতুন চ্যালেঞ্জই যেন ছুড়ে দিচ্ছেন ডমিঙ্গো, ‘ওদের জন্য দারুণ সুযোগ। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা যেকোনো পজিশনেই ভালো খেলতে পারে। (এউইন) মরগ্যানকে আপনি তিন কিংবা ছয়, যেখানেই খেলান না কেন, সে সফল হবে। যেকোনো পজিশনে ব্যাটিংয়ে পাঠালেও কেন উইলিয়ামসন রান করবে। বিভিন্ন পজিশনে ব্যাটিং করার ব্যাপারটি আমাদের তরুণদের জন্যও দারুণ শিক্ষণীয় হবে। এতে ওরা নিজেদের খেলায় ভিন্নরকম কিছু যোগ করার চেষ্টা করতে পারবে।’

অবশ্য তরুণ ওপেনারদের মিডল অর্ডারে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণ মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতি। যদিও তরুণদের জন্য মুশফিকের পাকিস্তান যেতে না চাওয়াকে সুযোগ বলেও ধরছেন তিনি, ‘এটি অন্য কারো জন্য পারফরম করার সুযোগ। মুশি একদিন খেলা ছেড়ে দেবে। আমাদের এমন ক্রিকেটার থাকতে হবে, যে কিনা মুশির জায়গায় এসে একই পর্যায়ের পারফরম্যান্স করতে পারবে।’ একই সঙ্গে ‘সেরা’ ব্যাটসম্যানকে মিস করার কথাও বলেছেন, ‘আমরা ওকে ভীষণ মিস করব। সে সব সময়ই দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ছিল। তবে এবার বিপিএলে সে আবার প্রমাণ করেছে যে ও-ই সেরা।’ বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে নিজের ‘সেরা’ পছন্দের কথাও এদিন জানিয়ে দিয়েছেন ডমিঙ্গো, ‘আশা করছি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও রিয়াদই এই দলের নেতৃত্ব দেবে। আমার পূর্ণ সমর্থন আছে ওর প্রতি। ভারত সফরে দুর্দান্ত করেছে ও। ওর সঙ্গে কাজ করাটাও উপভোগ করি আমি। দারুণ পেশাদার সে। ড্রেসিংরুমেও ওর প্রতি শ্রদ্ধা আছে। বিশ্বমানের খেলোয়াড় সে। ও-ই আমার অধিনায়ক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা