kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

স্বস্তির জয়ে বাড়তি তৃপ্তিও

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বস্তির জয়ে বাড়তি তৃপ্তিও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাঁচা-মরার ম্যাচে বেঁচে থাকাটাই তো সবচেয়ে কৃতিত্বের। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গতকালের ম্যাচ শেষে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার বদলে জেমি ডে’র মাঝে চনমনে উচ্ছ্বাস। ম্যাচে যেমন পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের, ৩-০ স্কোরলাইনেও যা ফুটে ওঠে, তাতে আসলে বাঁচা-মরার ম্যাচের প্রেক্ষাপটটা ভুলিয়েই দিয়েছে। এদিনের ম্যাচটা পুরোটাই ‘বাংলাদেশ শো’। বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠে তাই স্বস্তি শুধু নয় তৃপ্তি, ‘খুবই খুশি আমি আজকের পারফরম্যান্সে। শ্রীলঙ্কা সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ৯০ মিনিট ওরা দারুণ ফুটবল খেলেছে। সেই দলের বিপক্ষে ৩ গোল করে ক্লিন শিট রাখা সত্যি দারুণ ব্যাপার।’

ম্যাচটা জিততে না পারলে মুজিববর্ষের এই টুর্নামেন্ট থেকে স্বাগতিকদের ছিটকে যেতে হবে, এ সত্যি বড় চাপ। তবে কাল জেমি বললেন নিজে অন্তত খেলোয়াড়দের সেই চাপের মধ্যে রাখতে চাননি, ‘আমার দিক থেকে আমি অন্তত ওদের এই চাপের ব্যাপারটা বুঝতে দিইনি। ফুটবল এমন একটা খেলা যেখানে ভালো করার জন্য আসলে বাড়তি অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয় না। এই খেলোয়াড়রা ভালো খেলতেই ভালোবাসে। আমি সেভাইে ওদের উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছি। ম্যাচে ওরা আজ যেমন ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা সত্যি মুগ্ধ করার মতো। সঠিক সময় সঠিক জায়গায় থেকে আক্রমণে যেতে পারাতে আমরা তিনটি গোলও পেয়েছি। এমন একটা পারফরম্যান্স আজ সত্যি দরকার ছিল। জোড়া গোল করা মতিনকে নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাতেই হয়েছে তাঁকে। ‘গোল করার দায়িত্বটা কাউকে না কাউকে নিতেই হতো। মতিন সুযোগ পেয়ে তা দারুণ কাজে লাগিয়েছে।’ সেমিফাইনালে ওঠার ম্যাচ বলেই তো শুধু নয়, এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশে শিবির চোট আর অসুস্থতায়ও জর্জরিত ছিল। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ছিটকে গেছেন, ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান নেই। সেখানে মতিনের মতো বাকিরাও যে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তা নিয়েও খুশি জেমি, ‘ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে মানিকের অভিষেক হয়েছে, কিন্তু সে এটা বুঝতেই দেয়নি। আর যারাই একাদশে এসেছে তাদেরও বাড়তি কিছু করার তাগিদ ছিল। সেটা এই ম্যাচে দেখা গেছে। বিশেষ করে ফরোয়ার্ড লাইনের গতিময় পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি।’ তবে এই স্বস্তির জয়ের সঙ্গেই আবার সঙ্গী হয়েছে ডিফেন্ডার তপু বর্মণের লাল কার্ড। জামাল ভূঁইয়ার অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ডও ছিল তাঁর হাতে। সেই তপুর লাল কার্ড সেমিফাইনাল ভাবনায় আবারও নতুন বিপদে ফেলেছে জেমিকে, ‘তপুকে হারানোটা সত্যি হত্যাশার। ইয়াসিন, বাদশা এখন সেমিফাইনালের আগে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে কি না সেটা দেখার বিষয়।’

সেমিতে অপেক্ষায় বুরুন্ডি, যারা কিনা এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল হিসেবে এরই মধ্যে নাম করেছে। দুই ম্যাচে ৭ গোল করা দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশকে আবারও উতরে দিতে আরো একবার এমন উজ্জীবিত পারফরম্যান্স হয়তো দেখাতে হবে স্বাগতিকদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা