kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

কোচের কণ্ঠে

জোড়া গোলে অপেক্ষা ফুরাল তাঁর

শাহজাহান কবির   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জোড়া গোলে অপেক্ষা ফুরাল তাঁর

ম্যাচে যেমন পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের, ৩-০ স্কোরলাইনেও যা ফুটে ওঠে, তাতে আসলে বাঁচা-মরার ম্যাচের প্রেক্ষাপটটা ভুলিয়েই দিয়েছে। এদিনের ম্যাচটা পুরোটাই ‘বাংলাদেশ শো’। বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠে তাই স্বস্তি শুধু নয় তৃপ্তি, ‘খুবই খুশি আমি আজকের পারফরম্যান্সে। শ্রীলঙ্কা সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ৯০ মিনিট ওরা দারুণ ফুটবল খেলেছে। সেই দলের বিপক্ষে ৩ গোল করে ক্লিন শিট রাখা সত্যি দারুণ ব্যাপার।’

মতিন আলোচনায় এসেছেন বহু আগেই। ২০১৭ সালে মাঝমাঠ থেকে চার খেলোয়াড়কে কাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে যে গোলটি করেছিলেন তিনি, তা পুসকাস অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পাওয়ার মতো বলে মনে করেছিলেন অনেকে। সিলেটে খেপ খেলে খেলে পেশাদার ফুটবলার হয়ে যাওয়া মতিন পরের বছর বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়ে লিগে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন। কিন্তু জাতীয় দলে কপাল খুলছিল না তাঁর। না, দলে ঢোকা নয়, স্কোয়াডে আছেন তিনি লম্বা সময়। কিন্তু প্রথম একাদশে জায়গা করতে পারছিলেন না, পাচ্ছিলেন না নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটাও। কাল একই সঙ্গে সব কিছু যেন ধরা দিল তাঁর হাতে।

নাবিব নেওয়াজের অসুস্থতায় এই বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের শুরু থেকেই মতিন প্রথম একাদশে। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে সুযোগ কমই এসেছে। ‘ডিফেন্সিভ ডিউটি’ই ছিল বেশি। কিন্তু কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে দেখা গেল মতিনের সেই ‘কুল ফিনিশিং’। যে ফিনিশিংয়ের জন্য সিলেটের স্থানীয় ফুটববলে তিনি বড় তারকা। ঢাকায় চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ মাতিয়েছেন। কিংসের নামিদামি বিদেশি ফরোয়ার্ডদের সঙ্গেও সেই গুণেই নিয়মিত খেলেন প্রথম একাদশে। কাল জাতীয় দলে সেই মতিনকেই দেখা গেল প্রথম।  প্রথম গোলটা স্মরণ করুন। মানিক হোসেনের লং বলটা বক্সের ওপর আলতো টাচে প্রথমে রিসিভ করলেন, তেমন রিসিভেই আসলে অর্ধেক কাজ হয়ে যায়। আগের দিন বুরুন্ডি অধিনায়ক তায়েম্বু আমিসির পায়েও দেখা গিয়েছিল এই কাজ। মতিন অনেকটা সেই স্কিলই দেখালেন। তাতে বল গোলে শট নেওয়ার মতো জায়গায় চলে যায়। ক্লাব ফুটবলে ছন্দে থাকা মতিন সেখান থেকে লক্ষ্যভেদ করতে কোনো ভুলই করেননি। আর ৬৫ মিনিটে করা তাঁর দ্বিতীয় গোলটি তো মনে করিয়েছে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে সাইফ স্পোর্টিয়ের সেই মতিনকে। মাঝমাঠের একটু ভেতরে শ্রীলঙ্কার রাইট ব্যাকের পা থেকে বল কেড়ে শুরু হয় তাঁর ‘সলো রান’। বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না। তব বলটা যাতে না হারান তাই গতি ধরে রাখার ব্যাপার ছিল। ড্রিবল মাস্টার মতিন সেটা  করলেন বেশ ভালোভাবেই। এরপর গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল পোস্টে ফেলার কাজ, পেছনে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ধাওয়া করছিলেন বলে সে কাজটাও করতে হয়েছে নিপুণভাবে। এমন জায়গা থেকে আবাহনী স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ গোলরক্ষকের পায়ে মেরে বহু সুযোগ নষ্ট করছেন, সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষেই তা হয়েছে। কিন্তু এদিন ২৩ বছর বয়সী মতিনের ফিনিশিং হয়েছে দেখার মতো।

নতুন মৌসুম শুরুর আগে আগেই সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন এই স্ট্রাইকার। কাল ম্যাচ শেষে সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে খোদ জেমি ডে-ই মজা করে বলছিলেন, ‘বিয়ের পর মতিনকে আরো আত্মবিশ্বাসী। লাগছে। ওর স্ত্রীকেও তাই কৃতিত্বটা দেওয়া উচিত।’ শুনে পাশেই বসা মতিন লজ্জায় লাল হয়েছেন। তবে এই গোলের জন্য কতটা যে কাতর ছিলেন তিনি সেটা বলেছেন অকপটেই, ‘ক্লাবের হয়ে নিয়মিতই আমি গোল করেছি। কিন্তু জাতীয় দলে গোল তো দূরের কথা নিয়মিতই হতে পারছিলাম না। তবে হাল ছাড়িনি। প্রতিদিন চেষ্টা করেছি নিজেকে আরো ভালো করে তুলতে। জানতাম সুযোগ ও সময় আসবেই। সেটা আজ এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচে হওয়াতে সত্যিই আমি খুশি। আজই প্রথম মনে হচ্ছে দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি।’ জেমি নিজেও মতিনের ধৈর্য ও একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন। যে মানের ‘ফিনিশ’ তিনি করেছেন, তার জন্য জেমির অপেক্ষাও যে দীর্ঘদিনের, ‘সত্যি অসাধারণ দুটি গোল করেছে ও। আমাদের স্কোরিং নিয়ে সব সময়ের যে দুর্ভাবনা তাতে ওর এমন পারফরম্যান্স সত্যি আমাকে বাড়তি আনন্দ নিয়েছে।’ ২০১৮-র আগস্টে নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই অভিষেক হয়েছিল মতিনের, এরপর এ টুর্নামেন্টের আগ পর্যন্ত জাতীয় দল মোট ১৫টি ম্যাচ খেলেছে, বেশির ভাগ ম্যাচেই তিনি স্কোয়াডে ছিলেন, কিন্তু একাদশে ছিলেন মাত্র এক ম্যাচে। গোল পাননি। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে একাদশে থাকার নিশ্চয়তা পেয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই জোড়া গোল করে সেই অপেক্ষা ফুরালেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা