kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাজা রাজশাহী

রাসেলের প্রথম হলো, মুশফিকের হলো না

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাসেলের প্রথম হলো, মুশফিকের হলো না

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেষ ওভারে খুলনা টাইগার্সের প্রয়োজন ৩০ রান। রাজশাহী রয়ালসের অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল নিজের হাতেই তুলে নেন বল। দলের জয় প্রায় নিশ্চিত। তবু বাঁধনহারা উল্লাসের লক্ষণ নেই। শেষ দুই বলে কেবল দুহাত নেড়ে গ্যালারির দর্শকদের উজ্জীবিত করে তোলেন আমুদে ক্যারিবিয়ান চরিত্র। চিৎকার করে সমর্থকরাও বরণ করে নেয় বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়নকে।

শিরোপা জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও যে উদ্‌যাপন টা মনে রাখার মতো হয়েছে, তা নয়। কনফেত্তি উড়েছে, হাসিমুখে ছবির পোজ দিয়েছে রাজশাহী রয়ালস। ব্যস, ওইটুকুনই! সংবাদ সম্মেলনে যখন এসেছেন রাসেল, চেহারায় বিশাল কোনো প্রাপ্তির তৃপ্তি নেই। তবে এটি যে তাঁর ক্যারিয়ারে বিশেষ কিছু, সেটি স্পষ্টই বলেছেন তিনি।

‘আপনি কি জানেন, বিপিএলের প্রথম বিদেশি অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতলেন?’—প্রথম প্রশ্নেই রাসেলের পাল্টা প্রশ্ন, ‘তাই নাকি? তাহলে তো অধিনায়ক হিসেবে শুরুটা ভালোই হলো।’ ভালো বলতে ভালো! বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দল তৈরির পরপরই রাজশাহী অধিনায়কত্ব সঁপে দেয় রাসেলের কাঁধে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই দানো সে দায়িত্ব পালন করেন কী দারুণভাবে! ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বিশ্বজোড়া সাফল্যের পরও এই শিরোপাজয়কে বিশেষ মানছেন রাসেল, ‘অবশ্যই এ সাফল্য বিশেষ কিছু। কেননা অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপা জিতেছি। এখানে চাপের ব্যাপার থাকে। কোন বোলারদের কিভাবে ব্যবহার করব, নিজে কখন বোলিংয়ে আসব—সবই গুরুত্বপূর্ণ। অধিনায়ক হিসেবে স্বার্থপর হওয়া চলবে না। আবার নিশ্চিত করতে হবে ছেলেরা যেন আত্মবিশ্বাসী থাকে।’ সে কাজটি ভালোভাবেই করেছেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। বিদেশি অধিনায়ক হিসেবে দলের সঙ্গে মিশে যাওয়া কিংবা দলকে অনুপ্রাণিত করাটা কঠিন হয়নি বলে দাবি রাসেলের, ‘এটি মোটেই কঠিন ছিল না। প্রথম সপ্তাহটি পর্যবেক্ষণ করেছি; অনুশীলন এবং প্রথম কয়েকটি ম্যাচে। চিনেছি দলের সব ক্রিকেটারকে। অনুশীলন দেখে বোঝার চেষ্টা করেছি, ম্যাচে কাকে কিভাবে ব্যবহার করব। কাকে নতুন বল দেব, কাকে পরের দিকে আনব। পুরো দলের মানিয়ে নেওয়াতে আমার মোটেই সমস্যা হয়নি।’

কিন্তু ম্যাচে তো সমস্যা হয়ে যাচ্ছিল। ব্যাটিং ইনিংসের শেষ তিন ওভারে রাসেল ও মোহাম্মদ নওয়াজ ৫৪ রান নিয়ে খেলার গতিপথ পাল্টে দেন পুরোপুরি। রাজশাহীর অধিনায়ক নিজেও তা মানছেন, ‘অবশ্যই ম্যাচের প্রেক্ষাপটে এটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। জানতাম, ডেথ ওভারে ওদের ভালো বোলার আছে। তবে ভালো দুই ব্যাটসম্যান তখন ক্রিজে থাকলে যেকোনো কিছুই সম্ভব। নওয়াজ সত্যি খুব ভালো করেছে। আমার ওপর থেকে চাপ অনেকটা সরিয়ে নিয়েছে দারুণ ব্যাটিং করে।’ শিরোপা জিতলেও সে জন্য যে প্রাইজ মানি নেই, তাতে নিজের আক্ষেপ নেই তেমন। তবে বাংলাদেশের অন্য সতীর্থদের কথা ঠিকই ভাবছেন অধিনায়ক, ‘আমার কাছে প্রাইজ মানির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ট্রফি। তার মানে এই নয় যে, আমি অর্থ পছন্দ করি না। এ জাতীয় টুর্নামেন্টে সাফল্যের জন্য সবাই বোনাস আশা করে। আমিও আশা করব, আমার দলে বাংলাদেশের যেসব ক্রিকেটার রয়েছে, ওদের বোনাস দেওয়া হবে।’

রাসেল প্রাইজ মানি না পেলেও ট্রফি তো পেয়েছেন। মুশফিকুর রহিম সেটিও পাননি। বিপিএলের সপ্তম আসরে এসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠলেন। কিন্তু খুলনা টাইগার্সের হয়ে শিরোপা জিততে পারলেন না। সে জন্য দ্রুত সেট ব্যাটসম্যানস রাইলি রুশো ও শামসুর রহমানের বিদায়ের দুঃখ মুশফিকের কণ্ঠে, ‘ফাইনালে উঠে সবাই তো শিরোপা জিততে চায়। সেটি না হওয়ায় হতাশা তো রয়েছেই। আসলে আমাদের দুজন সেট ব্যাটসম্যান পর পর আউট হয়ে যায়। রুশো কিংবা শামসুরের কেউ ১৮-১৯ ওভার পর্যন্ত থাকলে আমরা জিততাম। আস্কিং রেট ১৫ হয়ে গেলে আমার পক্ষেও তা কঠিন।’ নিজে না পারার কিছু আফসোসও তাঁর রয়েছে, ‘চাপ তো সব সময় থাকে। প্রতিদিন উইকেটে যাবেন, খেলবেন আর নট আউট থেকে ম্যাচ জিতিয়ে আসবেন—এটি তো প্রতিদিন হবে না। এর আগে কখনো বিপিএল ফাইনাল খেলিনি। এবার অন্তত ফাইনাল তো খেললাম। পরে হয়তো চ্যাম্পিয়ন হব।’

সেই চ্যাম্পিয়নশিপের মধুর স্বাদ কাল পেলেন আন্দ্রে রাসেল; অধিনায়ক হিসেবে। আবেগের খুব বেশি প্রকাশ না দেখালেও রাতভর পার্টিতে যে উদ্‌যাপন করবেন, সেটি বলাই যায়। ফাইনালের আগেই তো নিজেকে নিজে অমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছিলেন রাসেল!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা