kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ধারাভাষ্যেও ফুটবল মস্তিষ্ক

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধারাভাষ্যেও ফুটবল মস্তিষ্ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জেমি ডে’র সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পান সিমোন ম্যাকমেনেমি। তিনিও ইংল্যান্ডের নিচু সারির লিগে কোচিং শুরু করে এক লাফে জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। ফিলিপাইনে সেই অধ্যায়টাও কেটেছিল তাঁর স্বপ্নে মতো। এরপর ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু ক্লাবে কোচিং করিয়ে ইন্দোনেশিয়া জাতীয় দলেরও কোচ হয়েছেন। এই গত বছরই সেই চাকরিটা ছেড়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে তিনি ঢাকায়, না জেমির চেয়ারে তাঁর চোখ নেই। ৪২ বছর বয়সী ম্যাকমেনেমি ঢাকায় এসেছেন বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে ধারাভাষ্য দিতে।

মাঠের খেলা যেমনই হোক, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া জাতীয় দলের সাবেক কোচকে ফুটবল বিশ্লেষণে এনে কে-স্পোর্টস এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচার মান নিয়ে গেছে আরো এক ধাপ ওপরে। স্কটিশ ম্যাকমেনেমি যা কিছু ফুটবল খেলেছেন ইংল্যান্ডেই, সেখানেই নন লিগ ক্লাব ওর্দিংয়ে কোচিং শুরু করেছিলেন। বছর না যেতেই অপ্রত্যাশিতভাবে ফিলিপাইন জাতীয় দলের দায়িত্বটা পেয়ে যান তিনি। এরপর ইতিহাস। এএফএফ সুজুকি কাপে ম্যাকমেনেমির অধীনে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠে যায় ফিলিপাইন, হারিয়ে দেয় তারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভিয়েতনামকে।  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ‘আজকাল’রা (ফিলিপাইন জাতীয় দলের ডাকনাম) ফুটবল শক্তি হিসেবে মাথা তোলে আসলে এর পর থেকেই। বাংলাদেশের জেমির শুরুটাও তো অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বে তুলে দিয়ে। আগের দিন ধারাভাষ্যকক্ষে বসে সেই জেমির শিষ্যদের পারফরম্যান্সই কাটাছেঁড়া করেছেন ম্যাকমেনেমি। কাল সে প্রসঙ্গ তুলতেই বাংলাদেশ কোচের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন, ‘জেমি খুব ভালো কাজ করছে। ডিফেন্ডিং অর্গানাইজেশন থেকে শুরু করে সব কিছুই খুব ভালো ছিল কালকের ম্যাচে। র‌্যাংকিংয়ে ৮০ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ বিবেচনাতেই আমি কথাটা বলছি। পুরো ম্যাচে ফিলিস্তিন গোলে তিনটি শট নিয়ে দুটিতেই গোল পেয়েছে। ওদিকে বাংলাদেশের দিক থেকে দেখতে গেলে পুরো ম্যাচে স্রেফ দুবার তারা দুটো ভুল করেছে হয়তো ১০ সেকেন্ডের জন্য। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারই মাসুল দিতে হয়েছে। এটা মেনে নিতেই হবে। ব্যবধানটা তো সেখানেই।’ জেমির সঙ্গে যদিও এখনো সরাসরি কথা হয়নি ম্যাকমেনেমির, ‘ব্রিটিশ কোচদের মধ্যে এমনিতে একটা যোগাযোগ আছেই। জেমির সঙ্গে আমার অনলাইনে দু-একবার কথা হয়েছে। আর ওই যে বললাম, তাঁর সঙ্গে আমার মিল খুঁজে পাই। সে কারণেও খোঁজখবর রাখা হয়।’ শুধু জেমিই নন, ধারাভাষ্যের প্রয়োজনেও শুধু বাংলাদেশ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন এমনও নয়, সাইফ স্পোর্টিংয়ের কোচ হয়ে আসা ক্রোয়েশিয়ান দ্রাগো মামিচের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে তাঁর, মামিচকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছেন তিনি ইন্দোনেশিয়ার লিগে। আর ম্যাকমেনেমি ২০১৪ সালে মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্টেরও দায়িত্বে ছিলেন, তাতে করে অস্কার ব্রুজোন আর সেই সূত্রে বসুন্ধরা কিংস সম্বন্ধেও তাঁর যথেষ্ট ধারণা। কিংস এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ফুটবলের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছে, ম্যাকমেনেমির কথাতেও সেটি স্পষ্ট, ‘জানি ওরা খুব ভালো করছে। দারুণ সব খেলোয়াড় নিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ওরাই এখনকার সেরা।’ ধারাভাষ্য দিতে প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসে শহরটাকেও মন্দ লাগছে না তাঁর, ‘জায়গাটা মনে ধরেছে। মানুষগুলো অন্য রকম। ভীষণ ভালো আবার খেপাটে। আমিও খেপাটে ধরনেরই। তাই উপভোগ করছি।’

ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু ক্লাবে কোচিং করিয়ে ইন্দোনেশিয়া জাতীয় দলেরও কোচ হয়েছেন। এই গত বছরই সেই চাকরিটা ছেড়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে তিনি ঢাকায়, না জেমির চেয়ারে তাঁর চোখ নেই। ৪২ বছর বয়সী সিমোন ম্যাকমেনেমি ঢাকায় এসেছেন বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে ধারাভাষ্য দিতে।

এখানকার ফুটবলপ্রেমীরাও ঋদ্ধ হচ্ছেন তাঁর ধারাভাষ্যে। সঙ্গে সিঙ্গাপুরের সেজাদ হক আছেন পেশাদার ধারাভাষ্যকার হিসেবে। ম্যাকমেনেনি অনেকটা বিশ্লেষকের ভূমিকায়। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের স্বত্ব পাওয়ার পর থেকেই কে-স্পোর্টস দেশে ফুটবল সম্প্রচারের চেহারা বদলে দিয়েছে। তারাই প্রথম ফুটবল মাঠে ডিজিটাল বোর্ড বসিয়েছে। খেলা সম্প্রচারে ১৪-১৫টি ক্যামেরা ব্যবহার করছে। এই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট করছে ভারতীয় যে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ‘রিয়াল ইমপ্যাক্ট’, তারাই করছে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ। কিছুদিন আগেও বাংলা টিভির পর্দায় যে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ দেখা গেছে ধূসর বিবর্ণ, রিয়াল ইমপ্যাক্টের ক্যামেরায় সেই মাঠই এখন সবুজ, মোহনীয়। তাতে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে সম্প্রচার খেলা দেখার আনন্দই বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। ধারাভাষ্যে ম্যাকমেনেমির মতো ফুটবল মস্তিষ্কের বিশ্লেষণ তাতে নতুন মাত্রাই যোগ করেছে এবার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা