kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ছোটদের বিশ্বকাপের বড় তারকারা

সামীউর রহমান   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছোটদের বিশ্বকাপের বড় তারকারা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হচ্ছে ভবিষ্যতের তারকা তৈরির মঞ্চ। ব্রায়ান লারা, মাইক আথারটন, ইনজামাম-উল হকরা তাঁদের ক্রিকেট প্রতিভার প্রথম স্বাক্ষর রেখেছিলেন ১৯৮৮-র প্রথম যুব বিশ্বকাপে। পরবর্তী আসরগুলোতে দেখা গেছে ক্রিস গেইল, যুবরাজ সিং, হাশিম আমলা, শিখর ধাওয়ান, এইডেন মারক্রাম, মেহেদী হাসান মিরাজদের প্রতিভার ঝলক। আজ দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর। রংধনুর দেশে ছোটদের বিশ্বকাপ থেকেই হয়তো পাওয়া যাবে এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে, যাঁরা রাঙিয়ে রাখবেন আগামী দিনের ক্রিকেট।

চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাসের মতোই জীবনের গল্প যশস্বী জয়সওয়ালের। উত্তর প্রদেশের এক সাধারণ পরিবারে ছয় ভাই-বোনের চতুর্থ হিসেবে জন্ম যশস্বীর, বাবার ছিল ছোট একটা হার্ডওয়্যারের দোকান। বাড়ি ছেড়ে ১০ বছর বয়সেই মুম্বাই চলে আসা যশস্বীর, ক্রিকেট শেখার টানে। থাকার জায়গা ছিল না, এ জন্য একটা মিষ্টির দোকানে কাজ নেওয়া। শেখানেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু সেই চাকরিটাও গেল, এরপর আজাদ ময়দানের মাঠকর্মীদের তাঁবুতে থাকা আর পানিপুরি বিক্রি করেই খরচ জোগানো যশস্বীকে এবারের আইপিএল নিলামে ২.৪ কোটি রুপিতে কিনেছে রাজস্থান রয়ালস। ভারতীয় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী দিনের বড় তারকা হওয়ার সব রসদ মজুদ ১৮ বছরের এই কিশোরের ব্যাটে। স্কুল ক্রিকেট, যুব ক্রিকেটের পর ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটেও সুযোগ হয়েছে যশস্বীর। বিজয় হাজারে ট্রফিতে সবচেয়ে কম বয়সে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ওপর সবার চোখ থাকবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে।

স্কুল ক্রিকেটটা দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শ্রীলঙ্কায়। খ্রিস্টান মিশনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতর খেলা নিয়ে তীব্র দ্বৈরথ দ্বীপদেশটির স্কুল ক্রিকেটকে করেছে দারুণ প্রতিযোগিতামূলক। রয়েল কলেজের ছাত্র কামিল মিশারা গত বছর জিতেছেন শ্রীলঙ্কার স্কুলবয় ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার, যেটা অতীতে পেয়েছেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা, রোশান মহানামা, দীনেশ চান্দিমালসহ অনেক কৃতী ক্রিকেটার। বাঁহাতি ওপেনার কামিল কিছুদিন আগেই ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে ২৩০ রান করে হয়েছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

চোখ-ধাঁধানো তরুণ প্রতিভা উপহার দেওয়ার বেলায় কমতি নেই পাকিস্তানের। কাগজ-কলমে ১৬ বছর বয়সেই টেস্ট খেলে ফেলা নাসিম শাহ অবশ্য নেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে, তবে ব্যাটসম্যান কাসিম আকরাম ও বাঁহাতি স্পিনার আমির আলী ঘরোয়া পর্যায়ে রেখেছেন প্রতিশ্রুতির ছাপ। আর পাকিস্তানের জুনিয়র দলের নির্বাচক সেলিম জাফরের মতে, আসরের অন্যতম রোমাঞ্চকর ব্যাটসম্যান হতে পারেন পাকিস্তানের মাত্র ১৪ বছর বয়সী ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ।

বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলী উইকেট আগলাবার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিংটাও ভালোই করেন, এ জন্যই বোধহয় মহেন্দ্র সিং ধোনি তাঁর প্রিয় ক্রিকেটার। স্কুলব্যাগে বইখাতার সঙ্গে বল নিয়ে যাওয়া আকবরের খেলা আর পড়া দুটোই সম্ভব হয়েছে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক শুধু মাঠেই নয়, পড়ালেখায়ও ভালো। এএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া আকবরের এইচএসসির ফল ৪.৪২। বাংলাদেশের যুবারা গত দুই বছরে ৩৩টি এক দিনের ম্যাচ খেলে ১৮টিতে জিতেছে। তাই প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা দানা বাঁধতে শুরু করেছে এই দলটিকে ঘিরেই, যেখানে রানরেট বাড়ানো অথবা খেলা শেষ করে আসা ব্যাটিংয়ে যেকোনো ভূমিকাতেই স্বচ্ছন্দ আকবর।

এখানেই শেষ নয় তারুণ্যের জয়গান। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রাদেশিক দলে সুযোগ পাওয়া জেক-ফ্রেজার ম্যাকগার্ক, বিগ ব্যাশে অ্যারন ফিঞ্চের বদলি হিসেবে মেলবোর্ন রেনেগেডসে ডাক পাওয়া ম্যাকেঞ্জি হার্ভের ওপরও রাখতে হবে চোখ। লেগ স্পিনের ভেলকিতে মাতিয়ে দিতে পারেন নিউজিল্যান্ডের অশোক আদিত্য।

আজ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ছোটদের বিশ্বকাপের, চলবে ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ পর্যন্ত। এর ভেতরই জানা হয়ে যাবে, কার ব্যাটিংয়ে বা বোলিংয়ে ধ্বনিত হচ্ছে সম্ভাবনার গান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা