kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

‘আমরা কী করতে পারি, দেখিয়ে দিয়েছি’

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আমরা কী করতে পারি, দেখিয়ে দিয়েছি’

আগের রাতেই ২২ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তিনি রাজশাহী রয়ালসকে তুলেছেন ফাইনালে। পরদিন অনুশীলন না থাকলেও কাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আসতে হলো আন্দ্রে রাসেলকে। আজকের ফাইনালের আগে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশন সেরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে এসে দলটির অধিনায়ক বুঝিয়ে দিলেন শিরোপা জিততে কতটা মরিয়া হয়ে আছেন। 

প্রশ্ন : যেভাবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জিতে ফাইনালে উঠলেন, তাতে রাজশাহী রয়ালসই কি ফেভারিট?

আন্দ্রে রাসেল : অবান্তর প্রশ্ন করলেন। ফাইনালে যাওয়ার পর আপনি নিশ্চয়ই হারতে চাইবেন না। আমাদের মনে জেতা ছাড়া অন্য কোনো ভাবনাই নেই। গতরাতে (গত পরশুর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার) আমরা দল হিসেবে খেলেই জিতেছি। আমরা কী করতে পারি, দেখিয়েছি সেটিও। আশা করছি, আগামীকাল (আজ) রাতেও আমরা দারুণ এক লড়াই-ই উপহার দিতে পারব।

প্রশ্ন : খুলনা টাইগার্সের কোন খেলোয়াড় আপনাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন?

রাসেল : আমরা এভাবে ভাবছিই না। নির্দিষ্ট কাউকে নিয়েই পড়ে নেই আমরা। আমাদের চেষ্টাই থাকবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেওয়ার। আমরা তো আর আগে থেকেই জানি না যে কে ঝলসে উঠে দিনটি ওদের (খুলনা টাইগার্স) করে নিতে পারে। এমনও হতে পারে সে রকম কিছু হলে তাঁকে আর থামানোই গেল না। কারণ ওদের প্রচুর ম্যাচ উইনার আছে। সে জন্যই আমাদের পরিকল্পনা এক-দুজন খেলোয়াড়কে নিয়ে নয়। পরিকল্পনা করছি প্রতিপক্ষের পুরো ব্যাটিং এবং বোলিং নিয়েই। সঠিক পরিকল্পনা করে সেটি যাতে বাস্তবায়নও করা যায়, তাও নিশ্চিত করতে হবে আমাদের।

প্রশ্ন : টস কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে?

রাসেল : অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক রাত আগেই আপনারা দেখেছেন ওরা (প্রথম কোয়ালিফায়ারে খুলনা টাইগার্স) আগে ব্যাট করেছিল। স্কোরবোর্ডে কিছু রান জমা করার পর আমাদের চেপেও ধরেছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যাকফুটেও রেখেছিল। কাজেই আগে ব্যাট করলে আমাদের অবশ্যই ১৭০-এর বেশি রান করতে হবে। আর টসের ওপর তো কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। দেখা যাক কী হয়!

প্রশ্ন : মিডল অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা?

রাসেল : নাহ্, একদমই দুশ্চিন্তা নেই।

প্রশ্ন : আর ওপেনিং নিয়ে?

রাসেল : দেখুন, প্রতিটি দলই চাইবে তাদের ওপেনাররা প্রথম ৬ ওভারে ভালো স্কোর দিয়ে যাক। আমাদের হয়ে সেই কাজটি লিটন আর আফিফ ভালোই করছে। যদিও শেষ ম্যাচটি (দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার) ভালো যায়নি ওদের। তাই বলে এটি তো আর বলা যায় না যে এই ম্যাচও (ফাইনাল) ভালো যাবে না। আশা করছি আমাদের যেমন শুরু প্রয়োজন, সেটিই ওরা দেবে। আবার এটিও কয়েক রাত আগে এই দলের (খুলনা) বিপক্ষেই ওরা সুবিধা করতে পারেনি। আশা করব এবার ওরা নিজেদের মেলে ধরবে। নিজেকে মেলে ধরার জন্য দলের সবাই খুব মুখিয়েও আছে। দেখবেন, আগামীকাল দারুণ খেলাই উপহার দেব আমরা।

প্রশ্ন : বিপিএলের বেশ কয়েকটি আসর খেলে ফেললেন। অন্যান্যবারের সঙ্গে এবারের উইকেটের কোনো পার্থক্য ধরা পড়ছে?

রাসেল : এবার সত্যিই খুব ভালো উইকেট পাচ্ছি আমরা। এ জন্য কৃতিত্ব গ্রাউন্ডসম্যানদেরই প্রাপ্য। দারুণ কাজ করছেন তাঁরা। কয়েক বছর আগের কথা মনে আছে আমার। নতুন বলেই বল টার্ন করা শুরু করত। এ রকম উইকেট ক্রিকেটের জন্য ভালো নয় মোটেও। আগে আমরা স্পিনারদের আধিপত্য দেখতাম। এখন দেখুন, পেসার-স্পিনার থেকে শুরু করে ব্যাটসম্যান, সবার জন্যই উইকেটে কিছু না কিছু আছে। 

প্রশ্ন : এবার বিপিএলে আপনি অধিনায়কও। ফাইনালের আগে সেটি বাড়তি চাপ কি না?

রাসেল : নাহ্, আমি চাপে খেলতে অভ্যস্ত। ব্যাটিং-বোলিং চাপের মধ্যেই করতে হয়। নেতৃত্ব যদিও বাড়তি চাপ। তবে সেটি থেকেও আমি শিখছি। নিজের যথাসম্ভব সেরাটি দিয়েই এই দলটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা