kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

খুলনা না রাজশাহী

ফাইনালে ঝড় তুলবেন কে?

নোমান মোহাম্মদ   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফাইনালে ঝড় তুলবেন কে?

ছবি : মীর ফরিদ

তামিম ইকবালের ব্যাটে বিস্ফোরণ গতবার। তার আগেরবার ক্রিস গেইলের সংহারমূর্তি। আজ বিপিএলের আরেক ফাইনালে কার ব্যাটে উঠবে অমন প্রলয় নাচন? রাজশাহী রয়ালসের আন্দ্রে রাসেল-লিটন দাস-শোয়েব মালিকের? নাকি খুলনা টাইগার্সের মুশফিকুর রহিম-রাইলি রুশো-নাজমুল হোসেনের?

গেইল-তামিমের মতো ধ্বংসের গান যদি বেজে ওঠে কারো ব্যাটে, ফাইনাল জয়ের পথে সে দলই এগিয়ে যাবে অনেকখানি।

ফাইনাল মানেই বড় উপলক্ষ। বড় খেলোয়াড়দের জ্বলে ওঠার মঞ্চ। সর্বশেষ দুই বিপিএল ফাইনাল এর সাক্ষ্য দেয় প্রবলভাবে। ২০১৭ সালের শিরোপার শেষ মহারণে মুখোমুখি রংপুর রাইডার্স-ঢাকা ডায়নামাইটস। টস জিতে ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ব্যাটিংয়ে পাঠান প্রতিপক্ষকে। ভুলটা করেন সেখানেই। অথবা হয়তো ভুল নয়। গেইলের ব্যাটের বারুদে আগুন লাগলে সেটি যে দাবানলের মতো পুড়িয়ে দেয় বিরুদ্ধ দলকে—সেটি কে না জানেন! আগে-পরে ব্যাটিংয়ে তাতে কী যায়-আসে! সেই ফাইনালে ক্যারিবিয়ান দানো ক্রিজে গেলেন। দ্বিতীয় ওভারে সঙ্গী জনসন চার্লসের বিদায়েও বিচলিত হন না। পুরো ২০ ওভারে রংপুর রাইডার্সের আর কোনো উইকেট পড়ে না। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো প্রজন্মের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানকে পর্যন্ত গেইলের পাশে কী ম্লান লাগে সেদিন! ৪৩ বলে অপরাজিত ৫১ রান কিউই ব্যাটসম্যানের। আর ক্যারিবিয়ান দানো ১৪৬ রান করতে খেলেন মাত্র ৬৯ বল। পাঁচটি চারের পাশাপাশি তাতে ১৮টি ছক্কা।

ওই ইনিংসটিই যে রংপুর রাইডার্সের জয়ের গতিপথ এঁকে দেয়, তা বলাই বাহুল্য। সর্বশেষ ফাইনালের ক্যানভাসজুড়ে যেমন আগুন দিয়ে আঁকা তামিমের ইনিংসের আলপনা।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে টুর্নামেন্টটি ভালো কাটছিল না বাঁহাতি ওপেনারের। অথচ ফাইনালের পর তা কে মনে রেখেছেন! ঢাকা ডায়নামাইটের বিপক্ষে আমন্ত্রণ পেয়ে ব্যাটিংয়ে যান আগে। গেইলের মতোই তামিম ক্রিজে কাটান পুরো ২০ ওভার। ‘ইউনিভার্স বস’-এর চেয়ে আট বল কম খেলে করেন মোটে পাঁচ রান কম। ৬১ বলে অপরাজিত ১৪১ রানের ইনিংসে ১০টি চার এবং ১১টি ছক্কা। ২৩১.১৪ স্ট্রাইকরেটের সেই খুনে ইনিংসেই শিরোপা ওঠে কুমিল্লার ঘরে।

আজ অমনই গেইল কিংবা তামিম হয়ে ওঠার হাতছানি রাজশাহী-খুলনার ব্যাটসম্যানদের। মাহেন্দ্রক্ষণের মহানায়ক হয়ে ওঠার উপলক্ষ। পারবেন কেউ?

এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সেঞ্চুরি হয়েছে তিনটি। দুই বিদেশি আন্দ্রে ফ্লেচার, ডেভিড মালানের সঙ্গে একমাত্র যে বাংলাদেশি সে ক্লাবে, তিনি থাকছেন ফাইনালে। খুলনা টাইগার্সের নাজমুল হোসেন। ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে লিগ পর্বের একেবারে শেষ ম্যাচের সেঞ্চুরিটি এক অর্থে চমকের। কারণ বিপিএলে তখন পর্যন্ত আট ম্যাচ খেলে করেছিলেন ১১৫ রান; সেদিনের এক ইনিংসেই অপরাজিত ১১৫। মাত্র ৫৭ বলে আটটি চার এবং সাত ছক্কায় নাজমুলের সে ঝড়। প্রথম কোয়ালিফায়ারেও ৫৭ বলে অপরাজিত ৭৮ রান দুরন্ত ফর্মের থাকার প্রমাণ। ফাইনালে তাঁর ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে খুলনা।

এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সেঞ্চুরি হয়েছে তিনটি। দুই বিদেশি আন্দ্রে ফ্লেচার, ডেভিড মালানের সঙ্গে একমাত্র যে বাংলাদেশি সে ক্লাবে, তিনি থাকছেন ফাইনালে। খুলনা টাইগার্সের নাজমুল হোসেন। ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে লিগ পর্বের একেবারে শেষ ম্যাচের সেঞ্চুরিটি এক অর্থে চমকের। কারণ বিপিএলে তখন পর্যন্ত আট ম্যাচ খেলে করেছিলেন ১১৫ রান; সেদিনের এক ইনিংসেই অপরাজিত ১১৫। মাত্র ৫৭ বলে আটটি চার এবং সাত ছক্কায় নাজমুলের সে ঝড়। প্রথম কোয়ালিফায়ারেও ৫৭ বলে অপরাজিত ৭৮ রান দুরন্ত ফর্মের থাকার প্রমাণ। ফাইনালে তাঁর ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে খুলনা।

অধিনায়ক মুশফিকের ব্যাটের দিকেও তাকিয়ে থাকবে প্রবলভাবে। বিপিএলের ফাইনাল খেলার আক্ষেপ মেটালেন সপ্তম আসরে এসে। সেঞ্চুরির হাহাকারও না ঘোচান আজ! এবার দু-দুটি ম্যাচে যে সেঞ্চুরি পেতে পেতেও পাননি! রাজশাহী রয়ালসের বিপক্ষে ৫১ বলে ৯৬ রানের পর কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৫৭ বলে ৯৮ রানে অপরাজিত। মুশফিকের ‘নার্ভাস নাইনটিজ’-এর গেরো খুলবে আজ?

কিংবা রাইলি রুশোর? গত বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের এবারের টুর্নামেন্টও কাটছে দুর্দান্ত। ১৩ ম্যাচে চারটি পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস। তিন অঙ্ক স্পর্শের মঞ্চ হিসেবেই আজকের ফাইনালকেই না বেছে নেন তিনি! কিংবা ধরুন মেহেদী হাসান মিরাজকে। ওপেনিংয়ে তোলার পর ৬২ বলে ৮৭ এবং ৪৫ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত দুটি ইনিংস খেলেছেন। আজ আরেকটু এগিয়ে সেঞ্চুরির মোক্ষে নিশ্চয়ই পৌঁছতে চাইবেন।

অমন বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানের অভাব নেই রাজশাহী রয়ালসেরও। গেইল-তামিমের মতো সেঞ্চুরিতেই যে শিরোপার নিষ্পত্তি করতে হবে, আন্দ্রে রাসেলের জন্য ব্যাপারটি তেমন নয়। দিন দুয়েক আগের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের কথাই ধরুন না। কী এক দানবীয় ইনিংসে দলকে ফাইনালে তোলেন! ৪০ বলে ৮৫ রান প্রয়োজন, এমন অবস্থায় ক্রিজে যান। মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৫৪ রানে জিতিয়ে দেন দলকে। খুলনা টাইগার্সের তাই রাসেলকে ভয় পাওয়ার কারণ আছে বৈকি!

ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন লিটনও। বিপিএলে ১৪ ম্যাচে ৪৩০ রান; ফিফটি তিনটি। যে পরিণতিবোধ দেখা যাচ্ছে ব্যাটিংয়ে, তাতে আজকের ফাইনালে নিজের সেরা ইনিংসটি খেলতেও পারেন। পাকিস্তানি শোয়েব মালিকও খেলেছেন কয়েকটি টর্নেডো ইনিংস। প্রথম কোয়ালিফায়ারে সতীর্থদের ব্যর্থতার মিছিলেও ৫০ বলে ৮০ রানের ইনিংস তাঁর। ৩৮ ছুঁই ছুঁই বয়সে আজ আরেকবার নিশ্চয়ই সাইক্লোনের তাণ্ডব বইয়ে দিতে চাইবেন মালিক।

আর রাজশাহী কিংস কিংবা খুলনা টাইগার্সের কেউ যদি আজ সত্যিই ফেরাতে পারেন গত দুই ফাইনালের ক্রিস গেইল, তামিম ইকবালদের স্মৃতি—দর্শকদের জন্য সেটি হবে দারুণ প্রাপ্তি। ম্যাড়মেড়ে আবহের ফাইনাল রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য অমন কিছুই যে চাই!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা