kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

১৭ রানে ৬ উইকেট

বিস্ফোরক আমিরে ফাইনালে খুলনা

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিস্ফোরক আমিরে ফাইনালে খুলনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মিড অফ থেকে দৌড়ে কাভারের দিকে গেলেন রাইলি রুশো। শূন্যে ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে মুঠোবন্দি করেন রবি বোপারার তুলে দেওয়া বল। পুরো খুলনা টাইগার্স দলের সে কী বুনো উল্লাস! সবাই ছুটে যান রুশোর দিকে; ওই প্রোটিয়া তখন সাদিও মানের অনুকরণের সেই ট্রেডমার্ক উদ্‌যাপনে ব্যস্ত।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে খুলনা টাইগার্সের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্ত যেন সেটি। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী রয়ালসকে ১৭ রানে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ের টিকিট পায় মুশফিকুর রহিমের দল।

বোপারার ওই আউটে ২৩ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ে রাজশাহীর। ১৫৯ রানের লক্ষ্যপূরণ তখন পর্বতারোহণের চেয়েও যেন কঠিন। তাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যাঁর, ওই আউটে তাঁর কোনো অবদান নেই। বরং এর আগে-পরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন পাকিস্তানি বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির। ছয়-ছয়টি উইকেট নিয়ে একাই গুঁড়িয়ে দেন রাজশাহীর ফাইনালে ওঠার আশা। শোয়েব মালিকের ৮০ রানের ইনিংসটি হয়ে থাকে নিঃসঙ্গ এক যোদ্ধার নিষ্ফল লড়াই।

অথচ কালকের ম্যাচের মাঝপথে ফাইনাল যাওয়ার ফেভারিট ছিল রাজশাহী রয়ালসই। কারণ তিন উইকেটে ১৫৮ রানে ইনিংস শেষ করেছে খুলনা টাইগার্স। এ মাঠেই দিন দুয়েক আগের দ্বিতীয় ম্যাচের স্মৃতিতে ধুলো পড়েনি। লিগ পর্বের সেই শেষ ম্যাচে ঢাকা প্লাটুন ২০৫ রান করে হেরেছে এই খুলনারই কাছে। সেদিন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন কাল ২০ ওভার আদ্যোন্ত খেলে ৭৮ রানে অপরাজিত। ৫৭ বলে সাতটি চার এবং চার ছক্কার ইনিংসটিতে অবশ্য ভাগ্যের স্পর্শ প্রবল। ৯ রানের সময় ‘আউট’ হয়ে প্যাভিলিয়নে হাঁটা দিয়েছিলেন। শোয়েব মালিকের ফ্রন্টফুট নো বলের কারণে বেঁচে যান সে যাত্রা। এরপর ৫৭ রানের সময় মিড উইকেটে আফিফ হোসেন ক্যাচ ফেলেন আরেকবার। সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক প্রান্তে নাজমুল ব্যাটিং ঝড় তুললেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় ১৫৮ রানের বেশি করতে পারেনি খুলনা। ম্যাচ জয়ের পাল্লা তখন কিছুটা হলেও হেলে রাজশাহীর দিকে।

কিন্তু আমির ভাবলেন অন্য রকম। বলে তাই তুললেন গতির ঝড়। লিটন দাস-আফিফের আসরের সফলতম ওপেনিং জুটি ভাঙতে সময় নেন মোটে তিন বল। চকিতে ভেতরে ঢোকা সে বলে বোল্ড লিটন (২)। প্রান্ত বদলে চতুর্থ ওভারে এলেন আবার। আফিফকে (১১) ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন উইকেটকিপারের কাছে। অলক কাপালি (০) অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে ক্যাচ দেন প্রথম স্লিপে। ব্যস, ২২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে রাজশাহী। সবগুলোর শিকারি আমির।

পরপরই বোপারার (১) সেই উইকেট। ঠিক পরের ওভারে রাজশাহীর শেষ ভরসা আন্দ্রে রাসেল রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরত। উইকেট শিকারি? কে আবার, সেই আমির! ফরহাদ রেজাকে ওভারের শেষ বলটি করেন তিনি দুই স্লিপ, গালি, শর্ট স্কয়ার লেগ নিয়ে। টি-টোয়েন্টিতে প্রায় টেস্টের ফিল্ডিং। বাড়তি বাউন্সের দুর্দান্ত সেই ডেলিভারিতে থার্ড ম্যান ফিল্ডারের একটু সামনে পড়লে পাঁচ উইকেট হয়নি আমিরের।

তখন হয়নি, তাই বলে সেটি বাকিও থাকেনি। ১৮ নম্বর ওভারে বাঁহাতি পেসারকে বোলিংয়ে ফেরানো হয় আবার। ৩৩ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর শোয়েব মালিক ও তাইজুল ইসলামের জুটিতে ততক্ষণে একশ পেরিয়েছে রাজশাহী। বিশেষত মালিক তখন রুদ্ররূপে। আগের তিন ওভারে ছয়টি বাউন্ডারি এবং তিন ওভার বাউন্ডারিতে অসম্ভব এক স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন রাজশাহীকে। শেষ ১৮ বলে তখন প্রয়োজন ৫৩ রান। আমির বোলিংয়ে ফিরে দ্বিতীয় বলে তাইজুলকে (১২) আউট করে ভাঙেন ৭৪ রানের জুটি। আর ৫০ বলে ৮০ রান করা মালিককে পঞ্চম বলে ফিরিয়ে উড়িয়ে দেন ন্যূনতম রোমাঞ্চটুকুও।

৪-০-১৭-৬। ম্যাচে আমিরের বোলিং। বিপিএলের ইতিহাসের সফলতম বোলিং বিশ্লেষণ এটি। ২০১২ সালে দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে আরেক পাকিস্তানি মোহাম্মদ সামির ছয় রানে পাঁচ উইকেট ছাপিয়ে।

বিস্ফোরক আমিরে তাই বিপিএল ফাইনালে খুলনা টাইগার্স। হেরে গেলেও রাজশাহী রয়ালসের ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকছে আরেকটি। সে ক্ষেত্রে এলিমিনেটরে জয়ী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে কাল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিততে হবে। এরপর না হয় আমিরকে সামলানো নিয়ে আরেক দফা ছক কাটা যাবে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সংক্ষিপ্ত স্কোর : খুলনা টাইগার্স : ২০ ওভারে ১৫৮/৩ (নাজমুল ৭৮*, শামসুর ৩২; ইরফান ২/১৩)। রাজশাহী রয়ালস : ২০ ওভারে ১৩১ (মালিক ৮০; আমির ৬/১৭, মিরাজ ২/৬)। ফল : খুলনা টাইগার্স ২৭ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোহাম্মদ আমির।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা