kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা নেই

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা নেই

আগের সংবাদ সম্মেলনও বিপিএল ছাপিয়ে তাঁর অবসর ভাবনায় ঢুকে পড়েছিল। গতকাল বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ঢাকা প্লাটুনের অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মর্তুজার সব শেষ সংবাদ সম্মেলনেও তা-ই হলো। যেখানে অনেক কথার ভিড়ে নিজের অবসর নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক টানলেন একটি উপসংহারও। সেটি মাঠ থেকে অবসরে না যাওয়ার। মাশরাফির অবসর ভাবনার পুরোটাই তুলে ধরা হলো প্রশ্নোত্তর আকারে—

প্রশ্ন : ১৪টি সেলাই নিয়েও খেলার সিদ্ধান্ত কবে নিয়েছিলেন? এক হাতে ক্যাচ (ক্রিস গেইলের) নেওয়ার সময় কী ভাবছিলেন?

মাশরাফি বিন মর্তুজা : যেদিন চোট পেয়েছি, সিদ্ধান্ত সেদিনই নিয়েছি (খেলার)। ক্যাচ চলে আসার পর দুই হাতে নেওয়ার উপায় ছিল না। দ্রুত বল আসলে কী হতো জানি না। অনেক সময় দুই হাত চলেও যায়। আস্তে ছিল বলে ধরতে পেরেছি।  

প্রশ্ন : আগামী বিপিএলে দেখা যাবে আপনাকে?

মাশরাফি : দল পেলে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে আপনার নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা আগের দিন বিসিবি সভাপতি বলেছেন। কী ভাবনা ছিল?

মাশরাফি : পাপন ভাই (নাজমুল হাসান) তো বলেই দিয়েছেন। নতুন করে আবার এই প্রশ্ন করার মানে কী?

প্রশ্ন : আপনি নিশ্চয়ই আরো গভীরে গিয়ে ভেবেছেন?

মাশরাফি : নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। তিন বছর পর (ওয়ানডে) বিশ্বকাপ। যে আসবে সে হয়তো ভাববে আমি কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছি, দায়িত্ব বাড়বে তাতে। তার খেলার ইচ্ছা বাড়বে। আমার মতে নতুন কারো কাছে যাওয়াই ভালো।

প্রশ্ন : কয়েক দিন আগেও আপনি বলেছেন, জাতীয় দলে আপনার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে বলেছেন এটি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কিন্তু আপনি অধিনায়ক থাকলে তো সেটি সম্ভব নয়। আপনাকে দলে রেখেই তাদের বাকিদের নির্বাচন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনি কি নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন কি না?

মাশরাফি : জাতীয় দলে আগে অধিনায়ক ঠিক করার পর দল নির্বাচন হয় বলে আমার মনে হয় না। তা ছাড়া আমি তো আগের দিন পরিষ্কার বার্তা দিয়েই দিয়েছি যে নির্বাচকরা যা ভাববে তা-ই হবে। বাংলাদেশে তো সবই হয়। আর অধিনায়কত্ব যদি বিসিবি থেকে বলে এখনই ছেড়ে দিতে, তাহলে ছেড়ে দেব। কোনো সমস্যা নেই।

ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটারদের অভিভাবক। তাদের বিপক্ষে যাওয়াকে আমি কখনোই আমার ক্যারিয়ারের গৌরব মনে করিনি। আমি মনে করি, ক্রিকেট বোর্ডকেই একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বোর্ডকে আন্তরিক ধন্যবাদ যে তারা আমার বিদায়ি ম্যাচ বা অবসরের বিষয়ে চিন্তা করেছে। তবে আমার পরিষ্কার বার্তা হলো আমার (মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার) ইচ্ছা নেই।

প্রশ্ন : আপনার নিজের সিদ্ধান্ত কী?

মাশরাফি : আমার সিদ্ধান্ত আমার কাছেই থাক।

প্রশ্ন : ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে আপনার অবসর নিয়ে এত আলোচনা হবে বলে আশা করেছিলেন?

মাশরাফি : আমি খেলতে চাই, পরিষ্কার করেই তো বলেছি। আগের দিনও পরিষ্কার করে বলেছি যে আমি ঢাকা লিগ খেলব। বিপিএল আছে, বিপিএলে খেলব। আমি এটা উপভোগও করছি। আমার তো মনে হয় না যে বলেছি জাতীয় দলে খেলব। আপনারাই বলুন, এখানে (বিপিএলে) যে ৭০-৮০ জন ক্রিকেটার (স্থানীয়) খেলছে, তারা সবাই কি জাতীয় দলের আশা করে খেলছে? অবশ্যই না। আমি আমার খেলা খেলে যাচ্ছি। জাতীয় দল নিয়ে যারা আছে, তারা ভাববে। বেতনের বিষয়টিও পাপন ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি। এটি তো সবার ক্ষেত্রেই হতে পারে। আজ যারা মহতারকা, পাঁচ বছর পর ওদের ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতি আসতে পারে। এটাই জীবন। কেউ হয়তো খুব ভালো অবস্থায় চলে যেতে চায়। কেউ হয়তো ভাবছে উপভোগ করছি যখন, খেলে যাই। তবে হ্যাঁ, আমি যা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা-ই হচ্ছে।

প্রশ্ন : বিসিবি সভাপতি গতকালও (গত পরশু) বলেছেন, আপনাকে ঘটা করে বিদায় দেওয়ার ইচ্ছা তাদের। এমন বিদায়, যা অতীতেও কেউ পায়নি। হয়তো পাবে না ভবিষ্যতেও। এটিও বলেছেন যে আপনি এই সুযোগ না নিলে কিছু করার নেই।

মাশরাফি : পাপন ভাই তো বলেই দিয়েছেন যে না নিলে করার কিছু নেই। আমিও আপনাদের বলেছি, আমি খেলছি। বারবার আপনারাই আমার খেলাটি নিয়ে আসছেন জাতীয় দলে। বারবার বলছি, জাতীয় দল কেন্দ্র করেই কেউ ক্রিকেট খেলে না। সামনে যে খেলা আসবে, সেটিই উপভোগ করব। জাতীয় দল নিয়ে বিসিবিতে যারা আছে, তারা চিন্তা করবে। এতটুকু স্বাধীনতা নিশ্চয়ই আমার আছে যে আমি খেলতে চাই। কারো জোর করায় তো আর আমি কিছু করব না। বাংলাদেশে অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা মাঠ থেকে অবসরে যায়নি। আমার থেকেও বড় খেলোয়াড় আছে। হাবিবুল বাশার বাংলাদেশ ক্রিকেটের সংকটকালে সব সময় রান করেছেন। তিনিও মাঠ থেকে অবসরে যাননি। সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ) করতে পেরেছেন, এটি বিরল ঘটনা। একটা সময় ভাবতাম, মাঠ থেকে অবসরে যাব কী যাব না। এখন মনে হচ্ছে প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন : কিন্তু সবাই তো মনে-প্রাণে চায় যে আপনি মাঠ থেকে অবসরে যান।

মাশরাফি : কারা চায়?

প্রশ্ন : বিসিবি তো অন্তত চায়।

মাশরাফি : আমি গতকাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার ছিলাম। আজ থেকে আর নেই। তবে ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটারদের অভিভাবক। তাদের বিপক্ষে যাওয়াকে আমি কখনোই আমার ক্যারিয়ারের গৌরব মনে করিনি। আমি মনে করি, ক্রিকেট বোর্ডকেই একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বোর্ডকে আন্তরিক ধন্যবাদ যে তারা আমার বিদায়ি ম্যাচ বা অবসরের বিষয়ে চিন্তা করেছে। তবে আমার পরিষ্কার বার্তা হলো আমার (মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার) ইচ্ছা নেই। আবার কার কাছ থেকে বিদায় নিব, সেটাও প্রশ্ন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা