kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম

এবার বিদায় মাশরাফির ঢাকার

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার বিদায় মাশরাফির ঢাকার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুই শাদাব খান। এ দুজনকে অন্তত কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে না ঢাকা প্লাটুন। এলিমিনেটরে কাল নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দেন তাঁরা। প্রথমজন চিকিৎসাবিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে; পরেরজন ব্যাট-বলের সব্যসাচী পারফরম্যান্সে। তবু বঙ্গবন্ধু বিপিএল থেকে দলের বিদায় ঠেকাতে পারলেন কই!

ঢাকা প্লাটুনকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বরং ফাইনালে ওঠার রেসে টিকে রইল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

মাশরাফির এ ম্যাচ খেলার কথা ছিল না। দুই দিন আগে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাঁ হাতের তালু কেটে যায়; দিতে হয় ১৪ সেলাই। এ অবস্থায় নিজে যে খেলতেন না, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ ম্যাচ শেষে তা বলে যান অকপটে। কিন্তু ঠিকই বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে কাল টস করতে নামেন মাশরাফি। ১৮তম ওভারে ঢাকা প্লাটুনের অষ্টম উইকেট পতনের পর ক্রিজেও যান। মুখোমুখি দুটো বলেই চালান; কোনোটিতেই অবশ্য ঠিকঠাক সংযোগ হয়নি। তবু অধিনায়কের ব্যান্ডেজ হাতের বীরত্ব দলকে বাড়তি অনুপ্রাণিত না করে পারে না।

কিন্তু শুধু প্রেরণায় কি আর হয়! ব্যাট-বলের ক্রিকেটটাও তো খেলতে হবে। সেখানেই কাল পিছিয়ে ঢাকা প্লাটুন। টস হেরে কিছুটা বোলিং সহায়ক উইকেটে শুরুতে ব্যাটিং করতে হয়েছে। সে ব্যাটিং যাচ্ছেতাই। ধুঁকতে থাকা তামিম ইকবাল ১০ বলে ৩ রান করে বোল্ড। ওপেনিং জুটির পরের চার ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনজন আউট শূন্য রানে। ওপেনার মমিনুল হকের ৩১ বলে ৩১ রান করে আত্মসমর্পণ অবশেষে। রায়াড এমরিটের তিন শিকারে দলীয় ৬০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসা ঢাকা প্লাটুনের স্কোর তখন তিন অঙ্কে যাওয়া নিয়েই সংশয়।

সেখানেই শাদাব খানের লড়াই শুরু। শুরুতে থিসারা পেরেরার সঙ্গে ৪৪ রানের জুটি; পরে মাশরাফির সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৪০। ৪১ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন এই পাকিস্তানি। শেষ তিন ওভারে ৫১ রান নিয়ে ৮ উইকেটে ১৪৪ রানে ইনিংস শেষ ঢাকা প্লাটুনের। শুরুর বিবেচনায় যথেষ্ট ভালো স্কোর। লড়িয়ে স্কোর।

কিন্তু কী হিসেবি ব্যাটিংয়েই না প্রতিপক্ষকে লড়াই থেকে ছিটকে দেয় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স!

ক্রিস গেইলের সঙ্গী হিসেবে জিয়াউর রহমানকে নামিয়ে শুরুতে এক চমক। ওপেনিং জুটিতে ৫.২ ওভারে ৪২ রান তোলায় ম্যাচ সহজ হয়ে যায় অনেকটা। আস্কিং রেটের তাড়া না থাকায় ক্রিস গেইল এগোন ধীরেসুস্থে। ৩৯ রান করতে খেলেন ৪৯ বল। তিন ছক্কায় ২২ বলে ৩২ রান ইমরুল কায়েসের; যার মধ্যে পর পর দুই বলে ছক্কা মাশরাফিকে। চার ওভারে ৩৩ রান দেন ঢাকার অধিনায়ক। তবে এ ইনিংসে অনেক দিন চোখে লেগে থাকবে গেইলের ক্যাচ ধরাটা। ফাইন লেগে ৩০ গজের সীমায় দাঁড়িয়ে চোটগ্রস্ত বাঁ হাত বাঁচিয়ে শুধু ডান হাত দিয়ে বল মুঠোবন্দি করেন মাশরাফি।

তিনি খেলেছেন মনের জোরে; আবেগ দিয়ে। শাদাবের ছিল অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। ব্যাটিং কীর্তির পর বোলিংয়েও পর পর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন ইমরুল ও গেইলকে। তা-ও হলো না। মাহমুদ উল্লাহর চার-ছক্কায় ১৪ বলে অপরাজিত ৩৪ রানে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ম্যাচ জিতে যায় ১৪ বল এবং ৭ উইকেট অক্ষত রেখে। খুলনা টাইগার্স-রাজশাহী রয়ালসের প্রথম কোয়ালিফায়ারের পরাজিত দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলার শেষ লড়াইয়ে নামবে তারা।

আর এতেই বিপিএল শেষ হয়ে গেল টুর্নামেন্টের সফলতম অধিনায়কের। এবারের মতো; চিরদিনের মতোও কি? সংবাদ সম্মেলনে কৌতুকমাখা রহস্যে অবশ্য মাশরাফি বলেছেন, দল পেলে খেলবেন আবার সামনের মৌসুমে। না খেললেই বা কী! ১৪ সেলাইয়ের হাত নিয়েও যেভাবে শেষ ম্যাচটি খেললেন, শেষ স্মৃতি হিসেবে সেটি মন্দ না। দল হেরে যাওয়া সত্ত্বেও!

সংক্ষিপ্ত স্কোর : ঢাকা প্লাটুন : ২০ ওভারে ১৪৪/৮ (শাদাব ৬৪*; এমরিট ৩/২৩, নাসুম ২/১১)। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ১৭.৪ ওভারে ১৪৭/৩ (গেইল ৩৯, মাহমুদ ৩৪*; শাদাব ২/৩২)। ফল : চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স সাত উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : রায়াড এমরিট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা