kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিরপুরের উইকেট এবার অন্য রকম

সামীউর রহমান   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিপিএল শুরু হলে দর্শকখরা, সময়সূচি বিভ্রাটের সঙ্গে রানখরা; এই সব বৈশিষ্ট্যই যেন ঋতুচক্রের মতো ফিরে ফিরে আসে। বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা যতই আইপিএলের পরেই বিপিএল বলে ঢোল পেটাক—বিপিএল যে মানদণ্ডে অনেক অনেক পিছিয়ে, তার প্রামাণ্য সূচক হচ্ছে এই বিশেষত্বগুলো। তবে এবারের আসরে অন্য বিশেষত্বগুলো অক্ষুণ্ন থাকলেও আপাতত হারিয়ে গেছে ‘রানখরা’। প্রচলিত বৈশিষ্ট্যের বাইরে গিয়ে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট হয়ে উঠেছে ‘বিস্ময়কর’ ভালো! বিস্ময়কর। ঢাকা প্লাটুনের কোচ সালাউদ্দিন তো বলেই দিলেন, উইকেট এ রকম হবে জানলে তিনি দলই সাজাতেন অন্য রকমভাবে।

মিরপুরের উইকেট হবে ধীরগতির, বল থেমে থেমে ব্যাটে আসবে আর নিচু হবে। এই হচ্ছে প্রচলিত ধারণা। একই মাঠে বিরতিহীনভাবে দিনে দুটো করে ম্যাচ, সঙ্গে শিশিরের প্রভাব। সব মিলিয়ে মিরপুরের উইকেটে টি-টোয়েন্টিতেও আগের আসরগুলোতে দেখা গেছে টেস্টের পঞ্চম দিনের শেষ সেশনের মতো ব্যাটিং! ২০১৭-১৮ মৌসুমে বিপিএলের শুরুটা হয়েছিল সিলেট থেকে। ভালোই রান হচ্ছিল সিলেট ভেন্যুতে। ঢাকার খেলাগুলোতে রানখরা। টি-টোয়েন্টির মেজাজের সঙ্গে যা বড়ই বেমানান। এবারে বদলে গেছে ছবিটা। ঢাকা পর্বের প্রথম ভাগে চার দিনে হয়েছে আটটি ম্যাচ। বেশির ভাগ ম্যাচেই কিন্তু রান হচ্ছে। বল ব্যাটে আসছে সুন্দরভাবে। ব্যাটসম্যানরা দৃষ্টিনন্দন শট খেলতে পারছেন। ঢাকা প্লাটুনের কোচ সালাউদ্দিন তো চমকেই গেছেন উইকেটের এই চেহারা দেখে।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খেলা প্রথম ম্যাচের পর এসে মাহমুদ উল্লাহ জানিয়েছেন উইকেট নিয়ে মুগ্ধতার কথা, ‘আমি তো একটা মাত্র ম্যাচ খেললাম। আজকের (পরশু) উইকেট দারুণ ছিল, ব্যাটিংয়ের জন্য অসাধারণ ছিল। স্পিনারদের জন্য আহামরি কিছু ছিল না, তবে সঠিক লেন্থে ফেলতে পারলে বাড়তি বাউন্স বা সিম মুভমেন্ট পাওয়া যাবে। খুবই ভালো উইকেট।’ বোলিং করে একই অভিজ্ঞতা অফ স্পিনার নাঈম হাসানের, ‘উইকেটে পরিবর্তন বলতে আসলে ব্যাটিংয়ের জন্য একটু সহায়ক। বল সহজে ব্যাটে আসে। স্কিড করে। এতে ব্যাটসম্যানদের কম সমস্যা হয়।’ সবচেয়ে মজার কথাটা বলেছেন সালাউদ্দিন, ‘যদি জানতাম ঢাকার উইকেট এ রকম হবে তাহলে আমার দল আসলে অন্য রকম হতো। আমি আসলে বেশ অবাক এবং এটা বেশ প্রশংসার দাবি রাখে যে আমরা এ রকম উইকেট পাচ্ছি আর খুব ভালো রান হচ্ছে। এমন উইকেট হবে জানলে আমার কৌশলই বদলে যেত। এখন আমার মনে হচ্ছে, অন্য ধরনের ক্রিকেটার নিলে ভালো হতো। এই রকম উইকেট আমরা বহু বছর পাইনি।’

প্রচলিত বৈশিষ্ট্যের বাইরে গিয়ে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট হয়ে উঠেছে ‘বিস্ময়কর’ ভালো! বিস্ময়কর। ঢাকা প্লাটুনের কোচ সালাউদ্দিন তো বলেই দিলেন, উইকেট এ রকম হবে জানলে তিনি দলই সাজাতেন অন্য রকমভাবে।

উইকেটের চরিত্র বদলে যাওয়াতেই স্থানীয় ক্রিকেটাররা অনেকেই রান পাচ্ছেন বলে মনে করেন এই কোচ, ‘তারা ভালো বোলিংয়ের বিপক্ষে রান করছে এবং এই ধরনের উইকেটে খেললে আমাদের খেলোয়াড়দের শট আরো বাড়বে।  কারণ এর আগে আমরা চিন্তা করতাম যে বল মারলে কি পার হবে কি না, এই চিন্তাটা সব সময় থাকত। এখন লিটন (দাস) অনেক দায়িত্বশীল ব্যাটিং করছে। যেমন উইকেটে যেভাবে ব্যাটিং করা দরকার সেটাই সে করছে। ইমরুল কায়েস ভালো ব্যাটিং করেছে, মিঠুন প্রথম ম্যাচে ভালো করেছে, তামিম ভালো করেছে। আমার মনে হয় এই উইকেটের সঙ্গে যদি তারা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে তাহলে নিজেদের ওপর একটা আত্মবিশ্বাস আসবে যে এমন উইকেটে কিভাবে শট খেলতে হয় এবং সেই সঙ্গে আমার মনে হয় তাদের হাতেও আর শট বাড়বে আস্তে আস্তে।’

বিপিএলের অনেক ‘রোগ’-এর একটি ছিল টি-টোয়েন্টির অনুপোযোগী উইকেট এবং রানখরা। এবারের আসরে প্রথম চার দিনের খেলায় মাঠে ও মাঠের বাইরে অনেক অসংগতি স্বাভাবিকভাবেই ছিল। তবে ইতিবাচক একটা দিক হচ্ছে, এবারে ঢাকার উইকেট নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম আর সিলেটের উইকেট তো সব সময়ই রানপ্রসবা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা