kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

লেগ স্পিনারের নিয়ম মানছে না কোনো দলই

সামীউর রহমান   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



লেগ স্পিনারের নিয়ম মানছে না কোনো দলই

আতঙ্কের নাম লেগ স্পিন, আক্ষেপের নাম লেগ স্পিন। গত বেশ কিছুদিন ধরেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম লেগ স্পিন। যুযবেন্দ্র চাহাল কিংবা রশিদ খান; প্রতিপক্ষে নামি কিংবা অনামি যে লেগ স্পিনারই থাকুক না কেন তাঁকে ঘিরে কাল্পনিক এক ভয় আক্রান্ত করে ব্যাটসম্যানদের মনোজগৎকে। দেশে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজে রশিদ খান আতঙ্ক; ভারত সফরে যুযবেন্দ্র চাহালকে নিয়ে বাড়তি চিন্তা। কারণ একটাই, দেশে যে কবজির মোচড়ে বল ঘোরানোর বিদ্যা জানা বোলারের বড্ড অভাব! ঘরোয়া লিগে বিরল লেগ স্পিনার, তাই ব্যাটসম্যানরাও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঘূর্ণিবলের এই গোলকধাঁধায় পড়ে খাবি খেয়েছেন। এই রোগের দাওয়াই হিসেবেই ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচে একাদশে লেগ স্পিনার রাখার নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছিল বিসিবি। জাতীয় লিগে একাদশে লেগ স্পিনার না খেলানোয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় বিসিবি। বঙ্গবন্ধু বিপিএলেও এই নিয়ম বহাল থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো দলই এই নিয়ম মানছে না। ঢাকা পর্বের প্রথম অংশ শেষ হয়েছে কাল। চার দিনে হয়ে যাওয়া আট ম্যাচের মাত্র একটিতেই ৪ ওভার বোলিং কোটা পূরণ করেছেন একজন লেগ স্পিনার। কোনো কোনো দল একাদশে কোনো লেগ স্পিনারকেই রাখেনি, কেউ বা নামকাওয়াস্তে একজনকে রেখে তাঁকে বোলিং দিয়েছে মাত্র ১ ওভার।

জাতীয় ক্রিকেট লিগে লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন ও রিশাদ হোসেনকে একাদশে না রাখায় বরখাস্ত করা হয় ঢাকা বিভাগীয় দলের কোচ জাহাঙ্গীর আলম ও রংপুর বিভাগীয় দলের কোচ মাসুদ পারভেজ রাজনকে। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘এত কিছু বলার পরও লেগ স্পিনার নিয়ে এত কথা বলছি। অথচ তাদের খেলানো হয়নি।’ তখনই বোর্ড সভাপতি জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিপিএলে প্রতি দলে একজন করে লেগ স্পিনার একাদশে রাখা এবং তাদের দিয়ে ৪ ওভার বোলিং করানো বাধ্যতামূলক করার কথা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট হলে নিয়মটা অযৌক্তিক, সন্দেহ নেই। টাকাকড়ি খরচ করে দল গড়া এবং খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিতভাবেই ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে। কিন্তু এবারে বিপিএলের বিশেষ আসর, কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নেই এবং সবগুলো দলের পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। এর পরও এই নিয়মের প্রয়োগ কিংবা নিয়ম ভঙ্গের কারণে শাস্তি, কোনো কিছুই দেখা যায়নি।

মাত্র একটি ম্যাচেই ৪ ওভার বোলিং কোটা পূরণ করেছেন একজন লেগ স্পিনার। কোনো কোনো দল একাদশে কোনো লেগ স্পিনারকেই রাখেনি, কেউ বা নামকাওয়াস্তে একজনকে রেখে তাঁকে বোলিং দিয়েছে মাত্র ১ ওভার।

আসরের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও সিলেট থান্ডার। প্রথমে বোলিং করে চট্টগ্রাম, তাদের একাদশে লেগ স্পিনার হিসেবে ছিলেন রায়ান বার্ল। মাত্র ১ ওভার বোলিং করেন বার্ল। সিলেট থান্ডার একাদশে কোনো লেগ স্পিনারই ছিল না। পরের ম্যাচে মুখোমুখি হয় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রেঞ্জার্স। রংপুর কোনো লেগ স্পিনারকে দিয়ে বোলিং করায়নি। কুমিল্লা ১ ওভার লেগ স্পিন করিয়েছে সাব্বির রহমানকে দিয়ে। যদিও সাব্বির পার্টটাইম লেগ স্পিনার, ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাঁর মূল পরিচিতি।

তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি ঢাকা প্লাটুন আর রাজশাহী রয়্যালস। অলক কাপালি ও মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি, দুজন লেগ স্পিনারকে বোলিং দিয়েছেন রাজশাহী অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। ঢাকা প্লাটুন দলে শহীদ আফ্রিদি করেন ৩ ওভার।

চতুর্থ ম্যাচ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স-খুলনা টাইগার্স। খুলনার হয়ে খেলছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ব্যাটসম্যান থেকে বদলে গিয়ে হয়েছেন লেগ স্পিনার, দেশে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর ভারত সফরেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। আমিনুল ৪ ওভার বোলিং কোটা পূর্ণ করেছেন, ২৫ রান দিয়ে নিয়েছেন নাসির হোসেনের উইকেট। চট্টগ্রাম আগের ম্যাচে রায়ান বার্লকে তাও একাদশে রেখেছিল, পরের ম্যাচে তাঁকে একাদশেই রাখেনি। ম্যাচে সাত বোলার ব্যবহার করেছেন চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রায়াদ এমরিট, নিজেও করেছেন ১ ওভার। কিন্তু ৭ বোলারের কেউই ছিলেন না লেগ স্পিনার।

পঞ্চম ও ষষ্ঠ ম্যাচে কিছুটা বদলেছে চালচিত্র। একাদশে অন্তত একজন লেগ স্পিনার খুঁজে পাওয়া গেছে। সিলেট থান্ডার-রাজশাহী রয়্যালস ম্যাচে রাজশাহী অলক কাপালিকে দিয়ে বোলিংয়ে বাজিমাত করেছে। অলক ৩ উইকেট নিয়েছেন, হয়েছেন ম্যাচসেরা।  প্রতিপক্ষ সিলেটের  লেগ স্পিনার ছিলেন জীভান মেন্ডিস, তিনি বোলিং করেছেন ২ ওভার। ঢাকা প্লাটুন-কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ম্যাচে কুমিল্লা কোনো লেগ স্পিনারকে বল দেয়নি। একাদশে সাব্বির যদিও ছিলেন। ঢাকা অধিনায়ক মাশরাফি ৩ ওভার বোলিং করিয়েছেন শহীদ আফ্রিদিকে দিয়ে। আসরের সপ্তম ম্যাচে চট্টগ্রাম ফিরিয়েছে রায়ান বার্লকে। ৩ ওভার বোলিং করেছেন জিম্বাবুয়ের এই ক্রিকেটার। রংপুর নিয়েছিল রিশাদকে, ২ ওভারে ২৯ রান দিয়েছেন এই লেগ স্পিনার। অষ্টম ম্যাচে ঢাকা একাদশে শাদাব খানকে রেখেছে লেগ স্পিনার হিসেবে, সিলেটের একাদশে কোনো লেগ স্পিনার নেই।

একাদশে একজন লেগ স্পিনার চাপিয়ে দেওয়া কিংবা ৪ ওভার বাধ্যতামূলক বোলিং করানোটা কতটুকু রীতিসম্মত এবং টিম ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়কের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে একটা নিয়মের প্রচলনের কথা আসর শুরুর আগে বোর্ডের কর্তামহল থেকে বারবার বলা, এই নিয়মভঙ্গের দায়ে দুজনের শাস্তি হওয়ার পর বিপিএলে একই নিয়ম দিনের পর দিন ভাঙতে দেখেও যেন চোখ বুজে বিসিবি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা