kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

তামিমের ফেরার সঙ্গে থিসারার ঝড়ছন্দে ফিরলেন তামিম

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তামিমের ফেরার সঙ্গে থিসারার ঝড়ছন্দে ফিরলেন তামিম

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফর্মের সঙ্গে তাঁর আড়ি অনেক দিনের। সমালোচনার সঙ্গে বসতিও তাই দীর্ঘকালের। সেই দুঃসহ গ্রহণকাল কাল কী রাজসিকতায়ই না তাড়িয়ে দেন তামিম ইকবাল!

তারকায় ঠাসা ঢাকা প্লাটুন হেরেছিল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে। কাল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ২০ রানে হারিয়ে ফেরে জয়ের ধারায়, যেখানে দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্য থিসারা পেরেরার। কিন্তু সব ছাপিয়ে তামিমের ব্যাটে রানের তুফানই কালকের ম্যাচের হাইলাইট।

হবে না কেন? রানের জন্য তাঁর হাপিত্যেশ তো কম দিনের না! সেই বিশ্বকাপ থেকে শুরু। অনেক প্রত্যাশা এবং দারুণ ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে যান তামিম। কিন্তু অর্জনের মালা গাঁথতে পারেননি। বিশ্বকাপের আট ম্যাচে মোটে এক ফিফটি—ব্যর্থ বললেও কম বলা হয়। এরপর গেলেন শ্রীলঙ্কা সফরে। শেষ মুহূর্তে মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরিতে দলের নেতৃত্বও এসে পড়ে তামিমের কাছে। এতেও উদ্দীপ্ত করা যায়নি তাঁর ব্যাটকে। ০, ১৯ ও ২ রানের তিন ইনিংসে ব্যর্থতার চোরাবালিতে তলিয়ে যান আরো প্রবলভাবে।

এরপর ভারত সফরে যাননি ব্যক্তিগত কারণে। এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএল তাই তামিমের জন্য ফেরার মঞ্চ। কিন্তু প্রত্যাবর্তনটা রাঙাতে পারলেন কই! ঢাকা প্লাটুনের জার্সিতে প্রথম ম্যাচে মাত্র ৫ রানে আউট হওয়ায় দুঃস্বপ্ন হয় প্রলম্বিত। কাল মাত্র ৫৩ বলে ৭৪ রানের ব্যাটিং তাণ্ডবে সেসব ঝেঁটিয়ে দূরে তাড়িয়ে দেন তামিম।

সেই পথে ভাগ্যকে পাশে পান তিনি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দেখেন, ইনিংসের প্রথম বলেই সতীর্থ এনামুল হকের বিদায়। তামিমও ফিরতে পারতেন ব্যক্তিগত ৪ রানে। কিন্তু মিড উইকেটে সৌম্য সরকার ফেলে দেন ক্যাচ। সে যাত্রা রক্ষার পরও খেলতে থাকেন রয়েসয়ে। এ কারণে প্রথম ১৬ বলে মাত্র ৭ রান তাঁর। দাসুন সানাকাকে প্রথম বাউন্ডারি মারেন মুখোমুখি হওয়া ১৭তম বলে। এরপর সৌম্য সরকারকে ছক্কা, সানজামুল ইসলামকে এক ওভারে চার-ছক্কায় দেন দুঃসময় কাটানোর প্রতিশ্রুতি। ৪৩ রানের সময় বেঁচে যান আরেকবার। এবার সৌম্যর বলে তামিমের ক্যাচ ধরেছিলেন দাউইদ মালান, তবে সে সময় পা বাউন্ডারি দড়ি স্পর্শ করায় হয়ে যায় ছক্কা। পরের বলে ১ রান নিয়ে ৪০ বলে ফিফটির মাইলফলকে তামিম। ১৪ ওভারে ২ উইকেটে ৯৫ রানে পৌঁছানো ঢাকা প্লাটুন এগোচ্ছিল লড়াই করার মতো স্কোরের দিকে।

সেটি ম্যাচ জেতানো স্কোরে রূপান্তর থিসারা পেরেরার ঝড়ে। মুখোমুখি হওয়া প্রথম ৬ বলে তাঁর স্কোরিং শট ৬, ৪, ৪, ৪, ৪, ৪। এর মধ্যে প্রথম পাঁচটিই আবু হায়দারের করা ওভারে। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় সানাকাকে ছক্কা-চার মেরে পরের বলে আউট তামিম। ৫৩ বলে ছয়টি চার এবং চারটি ছক্কায় ৭৩ রানের ইনিংসটি যায় থেমে। ইনিংসের তখনো ৪ ওভার বাকি থাকায় তাঁর সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ না থেকে পারে না। পেরেরার ১৭ বলে অপরাজিত ৪২ রানে অবশ্য ৭ উইকেটে ১৮০ রানের চূড়ায় ঠিকই পৌঁছে যায় ঢাকা প্লাটুন। এর মধ্যে শেষ ৬ ওভারেই আসে ৮৫ রান!

এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএল তাই তামিমের জন্য ফেরার মঞ্চ। কিন্তু প্রত্যাবর্তনটা রাঙাতে পারলেন কই! ঢাকা প্লাটুনের জার্সিতে প্রথম ম্যাচে মাত্র ৫ রানে আউট হওয়ায় দুঃস্বপ্ন হয় প্রলম্বিত। কাল মাত্র ৫৩ বলে ৭৪ রানের ব্যাটিং তাণ্ডবে সেসব ঝেঁটিয়ে দূরে তাড়িয়ে দেন তামিম।

প্রত্যাবর্তনটা তামিমের কাছে পাওয়া হলে একই দাবি তো মাশরাফি বিন মর্তুজার কাছেও। ঠিক ওই বিশ্বকাপ থেকেই বাজে ফর্মের গহ্বরে তাঁর ঢুকে পড়া। মাঝে তো অবসর নিয়েও জল্পনা-কল্পনার ডালপালা কম ছড়ায়নি। বিশ্বকাপের পাঁচ মাস পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেন এই বিপিএলে। রাজশাহী রয়ালসের বিপক্ষে খারাপ বোলিং করেননি ঢাকা প্লাটুন অধিনায়ক। কিন্তু সেদিন ৩ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিলেও কোনো উইকেট তো পাননি। পেলেন কাল। কুমিল্লার ওপেনার ভানুকা রাজাপাসাকে বোল্ড করে দলকে এনে দেন প্রথম ব্রেক থ্রু।

এরপর সৌম্য সরকার (২৬ বলে ৩৫) কিছুটা ঝলক দেখিয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। সাব্বির রহমান (৪) সে ঝলক দেখাতেও ব্যর্থ। এক প্রান্ত আগলে রেখে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের ইনিংস টেনে দেন একা মালান। ৪০ রানে তিনি থেমে যাওয়ার পর মাহিদুল ইসলামের ৩৭ রান। তবু তো ৯ উইকেটে ১৬০ রানের বেশি যেতে পারে না দল। ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলা পেরেরার পাঁচ শিকারে।

এমন অলরাউন্ড নৈপুণ্য লঙ্কান অলরাউন্ডারের। তবু তামিমের রানে ফেরাটাই দর্শকদের বড় স্বস্তি। মাশরাফির উইকেটে ফেরাও কিছুটা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা