kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবার দুই পরাশক্তির পরীক্ষা

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবার দুই পরাশক্তির পরীক্ষা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গত মৌসুমে হয়েছিল বেশ আলোড়ন তোলা ফেডারেশন কাপ। ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে অভিষেক মৌসুমে আবাহনী-বসুন্ধরা কিংসের ফাইনাল শেষ হয়েছিল তুমুল মারামারিতে। সেই রকম মারামারি! কিল-লাথি-ঘুষি, ফ্লাইং কিক কোনোটাই বাদ যায়নি। সঙ্গে ছিল মাঠের ফুটবলও। আবাহনীর শিরোপায় টুর্নামেন্ট শেষ হলেও সেই ম্যাচ দিয়ে পরাশক্তির খাতায় নাম তুলেছিল বসুন্ধরা কিংস। পরে লিগ ও স্বাধীনতা কাপে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা কিংসের জন্য মৌসুম শুরুর এই টুর্নামেন্ট তাই বিশেষ কিছু। তারা শুরু করবে অজেয় ফেডারেশন কাপ জেতার প্রত্যয় নিয়ে আর শক্তিশালী আবাহনীর লড়াই শিরোপা ধরে রাখার। আপাতভাবে দুই দলই হয়তো এগিয়ে, তবে খুব পিছিয়ে নেই শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। সুতরাং এই চার দলের লড়াইয়ে জমে উঠতে পারে ১৩ দলের ফেডারেশন কাপ। এটি শুরু হচ্ছে ১৮ ডিসেম্বর। 

তবে মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্টে আগে বাজি ধরা মুশকিল। কাগজ-কলমের হিসাবে তুমুল শক্তিশালী দলও শুরুতে মাঠে নেমে খাবি খায়। সবচেয়ে দামি দলটিও আটকা পড়ে দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে। তখন ফাইনালে ওঠার সমীকরণটাই কঠিন হয়ে যায়। বসুন্ধরা কিংসের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর যোবায়ের নিপুও তাই বলছেন, ‘টুর্নামেন্ট সব সময় কঠিন। লিগে পয়েন্ট হারালেও যেমন ফেরার সুযোগ থাকে, টুর্নামেন্টে তা নেই। প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালের মতো, প্রথম ম্যাচ থেকে নিজেদের সেরাটা দেখাতে হবে। আমাদের দলের কাছে সেটাই প্রত্যাশা।’ গত মৌসুমের সবচেয়ে সফল দল হলেও এবার অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগ পুরোপুরি নতুন। বিদেশিদের মধ্যেও পুরনো দুজনকে রেখে নতুন যোগ করা হয়েছে তিনজনকে। দেশিদের সঙ্গে তাঁদের তালমিল করে খেলার ওপর নির্ভর করছে সাফল্য। ‘বি’ গ্রুপে তাদের সঙ্গী চট্টগ্রাম আবাহনীও এবার ভালো দল। উয়েফা লাইসেন্সধারী কোচ মারুফুল হকের হাতে দলটি কেমন খেলে, সেটাও দেখার বিষয়। এই দুটি দলই গ্রুপ পেরিয়ে নক আউটের পথে ফেভারিট।

সেই রকম মারামারি! কিল-লাথি-ঘুষি, ফ্লাইং কিক কোনোটাই বাদ যায়নি। সঙ্গে ছিল মাঠের ফুটবলও। আবাহনীর শিরোপায় টুর্নামেন্ট শেষ হলেও সেই ম্যাচ দিয়ে পরাশক্তির খাতায় নাম তুলেছিল বসুন্ধরা কিংস।

‘এ’ গ্রুপে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী আগের মতোই শক্তিশালী। তপু বর্মণ ও আতিকুর রহমান ছেড়ে যাওয়ায় এবং লেফট ব্যাক ওয়ালি ফয়সালের ইনজুরিতে আকাশি-নীলের রক্ষণ নড়বড়ে হয়ে গেছে। বলার মতো নতুন সংযোজন না থাকলেও বিদেশির শক্তিতে তারা আগের ঝাঁজ ধরে রাখতে চায়। নবাগত বাংলাদেশ পুলিশের ম্যাচেই হবে তাদের প্রথম পরীক্ষা। ‘এ’ গ্রুপের তৃতীয় দল আরামবাগের জন্য মৌসুমটি স্রেফ অংশগ্রহণের। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জবুথবু ক্লাবটি অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দল গড়েছে শীর্ষ ফুটবলে নাম টিকিয়ে রাখতে। 

সাইফ স্পোর্টিং এবার দারুণ সংগঠিত। জাতীয় দলের ছয় ফুটবলারের সঙ্গে ভালো বিদেশি যোগে দলটি এবার চমকে দিতে পারে। তাদের সমস্যা ছিল বিদেশিতে, গত দুই মৌসুম ভুগেছে নিম্নমানের বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে। এবার ক্লাব কর্মকর্তারা পছন্দ করে এনেছে ভালো বিদেশি, সঙ্গে এনেছে মালদ্বীপের সফল কোচ মোহাম্মদ নিজামকে। কোচ-খেলোয়াড়ের নতুন কম্বিনেশনে তাদের পরিবর্তনটা দেখা যাবে এই টুর্নামেন্টে। তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে শেখ জামালও খারাপ নয়। দীর্ঘদিন ট্রেনিংয়ের সুফল দেখার অপেক্ষায় আছে তারা।

‘ডি’ গ্রুপটি হয়েছে দেখার মতো। উত্তর বারিধারাকে বাদ দিলে বাকি তিন দলেরই আছে ফেডারেশন কাপ জেতার অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে শক্তিতে অবশ্যই এগিয়ে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। দেশিদের সঙ্গে এবার ভালো বিদেশির যোগে এবারও তারা ঢাকা মাঠের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের কোচ সাইফুল বারী টিটু গ্রুপিংয়ে খুশি, ‘চার দলের গ্রুপে আছি, তাই একটি ম্যাচ বেশি খেলার সুযোগ আছে। গ্রুপটা শক্তিশালী হলেও আমি আশাবাদী।’ শেখ রাসেলের সঙ্গে ফেভারিট ধরলে এখন তিনবারের শিরোপাজয়ী মুক্তিযোদ্ধাকে রাখতে হবে। তবে নতুন সাজে মোহামেডানও চেষ্টা করবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে। গ্রুপের লড়াইয়ে হয়তো খুব বেশি হেরফের হবে না, ফেভারিটরাই যাবে  কোয়ার্টার ফাইনালে। এখান থেকেই শুরু হবে আসল লড়াই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা