kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জিততে রাসেলের ব্যাটিং লাগছেই না রাজশাহীর

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জিততে রাসেলের ব্যাটিং লাগছেই না রাজশাহীর

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিস গেইলের মতো ওপেনার তো আর তিনি নন যে শুরু থেকেই তোপ দাগবেন! ব্যাটিং অর্ডারে তাঁর জায়গা একটু পরেই। দেরিতে নামলেও মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ে ম্যাচ ভাগ্য বদলে দিতে জানেন। সেই সঙ্গে সাজিয়ে বসেন ব্যাটিং বিনোদনের পসরাও। কিন্তু টানা দুটি ম্যাচে কিনা সেই আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটিংই করতে হলো না। দর্শকদের জন্য সেটি বঞ্চনা হলেও তাঁর দল রাজশাহী রয়্যালসের জন্য ভালো ব্যাপারই। প্রথম দুই ম্যাচে দলটির টপ অর্ডার এমন ছন্দে যে এই ক্যারিবীয়র নামার আর দরকারই পড়ল না।

অবশ্য পড়ার কথাও নয়। প্রথম দুই ম্যাচেই প্রতিপক্ষ তাদের বড় কোনো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি। আগের দিনে পারেনি তারকাবহুল ও অভিজ্ঞতায় ঠাসা দল ঢাকা প্লাটুনও। ২০ ওভারে তাদের ৯ উইকেটে তোলা ১৩৪ রান কী অনায়াসেই না পেরিয়ে যায় রাজশাহী! ১০ বল বাকি থাকতে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া দল গতকাল পায় আরো ছোট লক্ষ্য। নানা বিতর্কে জর্জর সিলেট থান্ডার এদিন ১৫.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় মাত্র ৯১ রানেই। লিটন কুমার দাসের আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০.৫ ওভারেই জয়ের তীরে রাজশাহী। ৮ উইকেটের আরেকটি সহজ জয়ে তাই টইটম্বুর আত্মবিশ্বাস রয়্যাল শিবিরে।

যদিও সিলেটের ব্যাটিংয়ের শুরু দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তারা এমন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে। রনি তালুকদার (১৯) আর জনসন চার্লসের (১৬) ওপেনিং জুটি ৩.৫ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৩৫ রান তুলে দেওয়ার পর অন্তত মড়ক ধরার আশঙ্কা জাগেনি। কিন্তু সেটিই জাগল এবং এমনভাবে যে সিলেটের ব্যাটসম্যানদের উইকেটে আসা-যাওয়ার মিছিলই চলতে থাকল। আবার রাজশাহী শিবিরে অলরাউন্ডারেরও এত ছড়াছড়ি যে তারা ব্যাটিং না পেলেও বোলিংয়ে ঠিক সম্মিলিত পারফরম্যান্সের ফুলও ফোটাতে শুরু করলেন।

প্রথম দুই ম্যাচেই ব্যাটিং না পাওয়া রাজশাহী অধিনায়ক রাসেল চতুর্থ ওভারের শেষ বলে রনিকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে ভাঙেন ওপেনিং জুটি। পরের ওভারেই লেগ স্পিনার অলক কাপালি টানা দুই বলে তুলে নেন অন্য ওপেনার চার্লস ও জীভান মেন্ডিসকে। রাসেল-অলকের মতো ব্যাটিং না পাওয়া ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারাও এরপর যোগ দেন শিকারযজ্ঞে। আগের ম্যাচে ৪৮ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা মোহাম্মদ মিঠুনকে (২০) বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তিনি। আরেক পেস বোলিং অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজাও বাদ যাননি। বোপারার মতো তিনিও তুলে নেন ২ উইকেট। প্রথম জনের খরচ ১০ রান আর ফরহাদের ৯!

ব্যাটিং অর্ডারে তাঁর জায়গা একটু পরেই। দেরিতে নামলেও মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ে ম্যাচ ভাগ্য বদলে দিতে জানেন। সেই সঙ্গে সাজিয়ে বসেন ব্যাটিং বিনোদনের পসরাও। কিন্তু টানা দুটি ম্যাচে কিনা সেই আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটিংই করতে হলো না। দর্শকদের জন্য সেটি বঞ্চনা হলেও তাঁর দল রাজশাহী রয়্যালসের জন্য ভালো ব্যাপারই। প্রথম দুই ম্যাচে দলটির টপ অর্ডার এমন ছন্দে যে এই ক্যারিবীয়র নামার আর দরকারই পড়ল না।

তবে রাসেল, বোপারা কিংবা ফরহাদের কেউ নন, রাজশাহীর সফলতম বোলার অলক। যিনি আবার ‘পার্ট টাইমার’। ৩ ওভারে ১৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে তাঁর প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা পারফরম্যান্সে ‘ফুল টাইমার’ লেগ স্পিনার মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি একাদশে থাকলেও তাঁকে বোলিংয়ে আসতেই হয়নি। বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরুর বেশ আগে একাদশে লেগ স্পিনার রাখা বাধ্যতামূলক করার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত কাগজে-কলমে তা হয়নি। তবু একাদশে থাকা আফ্রিদিকে দিয়ে বোলিং না করানোর কারণ হিসেবে ম্যাচসেরা অলক পরে সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, ‘আমাদের দলে অলরাউন্ডার বেশি বলেই...।’

প্রথম দুই ম্যাচে এই অলরাউন্ডাররা আবার শুধুই বোলারের ভূমিকায়। আগের ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের ১৩৪ রান তাড়ায় ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনজনই কাজ সেরে দিয়েছিলেন—হজরতউল্লাহ জাজাই (৪৭ বলে ৫৬*), লিটন (২৭ বলে ৩৯) ও শোয়েব মালিক (৩৬ বলে ৩৬*)। কাল জাজাই ইনিংসের তৃতীয় বলেই শূন্য হাতে ফিরলেও লিটন খেলেছেন ২৬ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস। মাঝখানে আফিফ হোসেন ২৫ বলে ৩০ রান করে যাওয়ার পর লিটনের সঙ্গে যোগ দিয়ে বাকি কাজ সেরেছেন মালিকও (১১ বলে ১৬*)।

টপ অর্ডারই কাজ সেরে দেওয়ায় জিততে রাজশাহীর আপাতত রাসেলের ব্যাটিং লাগছেই না!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা