kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্পেন-ইংল্যান্ডের চারে চার

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্পেন-ইংল্যান্ডের চারে চার

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের। চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউটের জন্য জিততেই হতো শেষ ম্যাচ। অথচ ডিয়েগো সিমিওনের দল জয়হীন টানা চার ম্যাচ। তবে শঙ্কা কাটিয়ে ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় চেনা চেহারায় অ্যাতলেতিকো। রাশিয়ার লোকোমোটিভ মস্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে গত সাত মৌসুমে ষষ্ঠবারের মতো নক আউটে তারা। ইতালির আতালান্তা অভিষেকেই পেয়েছে শেষ ১৬-র টিকিট। প্রথম তিন ম্যাচ হারা এই দল শাখতার দোনেেস্কর মাঠে ৩-০ গোলে জিতে হয়েছে গ্রুপ রানার্স-আপ। এই ক্লাবের সাফল্য ইতালিয়ান মিডিয়া দেখছে ‘অলৌকিক’ হিসেবে। এ ছাড়া আগেই শেষ ১৬ নিশ্চিত করা ফেভারিট দলগুলো পেয়েছে সহজ জয়। রিয়াল মাদ্রিদ ৩-১ গোলে ব্রুজকে, পিএসজি ৫-০ গোলে গালাতাসারাইকে, জুভেন্টাস ২-০ গোলে বায়ার লেভারকুসেনকে, ম্যানচেস্টার সিটি ৪-১ গোলে ডিনামো জাগরেবকে আর বায়ার্ন মিউনিখ ৩-১ গোলে টটেনহামকে হারিয়ে শেষ করেছে গ্রুপ পর্ব।

নিশ্চিত হয়ে গেছে নক আউটের ১৬ দল। সর্বোচ্চ চারটি করে ক্লাব স্পেন ও ইংল্যান্ডের। স্পেন থেকে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া আর ইংল্যান্ড থেকে পরের রাউন্ডের টিকিট পেয়েছে লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি ও টটেনহাম। ইতালির তিন দল জুভেন্টাস, নাপোলি, আতালান্তা আর জার্মানির তিন ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লিপজিগ। অপর দুই দল ফ্রান্সের পিএসজি ও অলিম্পিক লিঁও।

ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় প্রথম মিনিটেই জোয়াও ফেলিক্সকে ডি-বক্সে লোকোমোটিভ গোলরক্ষক ফাউল করায় পেনাল্টি পায় অ্যাতলেতিকো। কিন্তু ইংলিশ ডিফেন্ডার ত্রিপিয়ার মিস করেন পেনাল্টি। ভিএআরের সাহায্যে হ্যান্ডবলের সুবাদে আরো একটি পেনাল্টি পায় অ্যাতলেতিকো। ১২৬ মিলিয়ন ইউরোয় ক্লাবে আসা জোয়াও ফেলিক্স এবার নষ্ট করেননি সুযোগটা। ৫৪ মিনিটে ফেলিপের দুর্দান্ত ভলিতে ২-০ গোলের জয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ নিশ্চিত করে অ্যাতলেতিকো। অপর ম্যাচে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও গনসালো হিগুয়াইনের লক্ষ্যভেদে জুভেন্টাস ২-০ গোলে হারায় বায়ার লেভারকুসেনকে। সমান ছয় ম্যাচ শেষে জুভেন্টাসের পয়েন্ট ১৬, অ্যাতলেতিকোর ১০, লেভারকুসেনের ৬ ও লোকোমোটিভ মস্কোর ৩। এতে জার্মান দল লেভারকুসেন নেমে গেল ইউরোপায়। শঙ্কা কাটিয়ে নক আউট নিশ্চিত করায় খুশি অ্যাতলেতিকো অধিনায়ক কোকে, ‘অনেক দিন জয়হীন কেটেছে আমাদের। শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের সঙ্গে উৎসব করার উপলক্ষ পেয়েছি। শুরু থেকেই গোল করে ম্যাচ ওদের হাত থেকে বের করে নিতে চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ২ গোল পাওয়ায় খুশি আমরা।’

চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেকে সব শেষ ২০১৬-১৭ মৌসুমে নক আউট পর্বে খেলেছিল লিস্টার সিটি। ইতালির আতালান্তাও শাখতার দোনেত্স্ককে ৩-০ গোলে হারিয়ে পাশে বসল লিস্টারের। অথচ তাদের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের। হেরেছিল টানা তিন ম্যাচ। গত পরশু নিজেদের মাঠে শাখতার ড্র করলেও পেত শেষ ১৬-র টিকিট। এমন মাচে উল্টো তাদের বিধ্বস্ত করেছে আতালান্তা। ৭৭ মিনিটে মেজাজ হারিয়ে জাগরেবের করদেইরো দস সান্তোস লাল কার্ড দেখলে কাজটা সহজ হয়ে যায় ইতালিয়ান দলটির। ৬৬ মিনিটে তিমোথি কাসতাগনে, ৮০ মিনিটে মারিও পাসালিচ ও ইনজুরি টাইমে রবিন গোসেনসের গোলে নিশ্চিত হয় ঐতিহাসিক জয়। ২০০২-০৩ মৌসুমে নিউক্যাসল প্রথম তিন ম্যাচ হেরেও পেয়েছিল নক আউটের টিকিট, আতালান্তাও করে দেখাল সেই কীর্তি। গ্রুপ ‘সি’র অপর ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের জেসুসের হ্যাটট্রিকে ডিনামো জাগরেবকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে আগেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা ম্যানচেস্টার সিটি। ৩৪, ৫০ ও ৫৪ মিনিটে গোল তিনটি করেন এই ব্রাজিলিয়ান। ৮৪ মিনিটে অপর গোলটি ফিল ফডেনের। চোট পাওয়া সের্হিয়ো আগুয়েরোর অভাব বুঝতে না দেওয়া জেসুস ম্যাচ শেষে জানালেন থামতে চান না এখানেই, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের হ্যাটট্রিক বিশেষ কিছু। এভাবেই নিজের কাজ করে যেতে চাই। আর আমার কাজ গোল করা ও দলকে জেতানো।’

পেপ গার্দিওলা দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৯ ম্যাচে ৫০১ গোল করল ম্যানসিটি। ইংলিশ দলগুলোর মধ্যে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি গোলসংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের চেয়ে ম্যানসিটির ৯৬টি গোল বেশি! গ্রুপ ‘সি’তে ম্যানসিটির পয়েন্ট ১৪, আতালান্তার ৭, শাখতারের ৬ ও জাগরেবের ৫। গ্রুপ ‘এ’তে সমান ছয় ম্যাচ শেষে  পিএসজির পয়েন্ট ১৬, রিয়াল মাদ্রিদের ১১, ব্রুজের ৩ ও গালাতাসারাইর ২। গত পরশু শেষ ম্যাচে রদ্রিগো, ভিনিসিয়াস ও লুকা মডরিচের গোলে রিয়াল ৩-১ গোলে ব্রুজকে আর মাউরো ইকার্দি, নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে, এদিনসন কাভানি ও সারাবিয়ার গোলে পিএসজি ৫-০তে বিধ্বস্ত করে গ্যালাতাসারাইকে। গ্রুপ রানার্স-আপ হওয়ায় নক আউটে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে হবে রিয়ালকে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন লুকা মডরিচ, ‘নক আউটে সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। লিভারপুল বা যেকোনো দলের জন্য খেলতে প্রস্তুত আমরা।’ ইএসপিএন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা