kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

সান্টোকিকে নিয়ে সন্দেহ দল পরিচালকের

মাসুদ পারভেজ   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সান্টোকিকে নিয়ে সন্দেহ দল পরিচালকের

‘এত এত খেলোয়াড় থাকতে সান্টোকি কেন?’

দল পরিচালক তানজিল চৌধুরীর এমন প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটের টেবিলেই রীতিমতো অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন সিলেট থান্ডারের স্পন্সর জিভানি ফুটওয়্যারের কর্তাব্যক্তিরা। তবে গত ১৭ নভেম্বর শুধু এই একজনকে নিয়েই নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকের সঙ্গে স্পন্সরের মতের অমিল ছিল আরো কয়েকজনকে নিয়েও। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরেও যার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল।

বিশেষ করে ক্যারিবীয় পেসার ক্রিশমার সান্টোকিকে দলভুক্ত করার তোড়জোড় দেখে সন্দেহ জেগেছিল দল পরিচালকের মনে। গত পরশু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেটের এই বাঁহাতি পেসারের বিশাল ওয়াইড আর নো বল কাণ্ডে তানজিলের সন্দেহ আরো জোরালো ভিতও খুঁজে নিয়েছে। তাই ম্যাচের পরপরই বিষয়টি তদন্ত করে দেখার মৌখিক অনুরোধও জানিয়ে রেখেছেন তিনি বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং সংস্থার দুর্নীতি দমন শাখার দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) হুমায়ুন মোর্শেদের কাছে। 

প্লেয়ার্স ড্রাফটের সময়ও অন্য রকম কিছু আঁচ করতে পেরে তানজিল আগাম সে কথা লিখিত আকারেও জানিয়ে রেখেছিলেন বিসিবিকে, ‘যেদিন প্লেয়ার্স ড্রাফট ছিল, সেদিনও আমাদের মধ্যে (স্পন্সরের সঙ্গে) অনেক সংঘাত হয়েছে। স্থানীয় উপদেষ্টা যিনি, সেই সারোয়ার ইমরান ও আমি কিছু জিনিস নিয়ে একমত ছিলাম না। স্পন্সররা কিছু খেলোয়াড় নেওয়ার বিষয়ে জোরাজুরি করছিল। আমরা বুঝতে পারছিলাম না যে কেন তারা এ ধরনের খেলোয়াড় নিতে চাচ্ছে। নাঈম শেখের মতো খেলোয়াড়কে নেওয়ার সুযোগ ছিল। অন্যান্য তারকাদেরও নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সান্টোকি ধরনের খেলোয়াড় নিয়েছে। যে কারণে আমাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এবং সেই সন্দেহের কথা আমি লিখিত আকারে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এবং বিসিবি সভাপতিকেও জানিয়ে রেখেছিলাম।’

তানজিলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি থেকে ডেকে সতর্কও করা হয়েছিল সিলেট থান্ডারের কর্তাদের, ‘ওনারা (বিসিবির নীতিনির্ধারকরা) ডেকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন তাদের।’ যদিও প্রথম ম্যাচে সান্টোকির বিস্ময়কর ওয়াইড আর নো বল দেখে মনে হয়নি যে এ রকম কিছু এড়াতে সতর্কতা বোলারের ছিল। ২০১০ সালে লর্ডসে মোহাম্মদ আমিরের সেই কুখ্যাত নো বলের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সান্টোকির ‘ওভার স্টেপিং’-এর মাপ আরো অনেক বেশি। তানজিলের সন্দেহের জালে তাই আরো বেশি আটকা পড়ছেন সিলেট থান্ডারের জ্যামাইকান পেসার।

তিনি একরকম নিশ্চয়তার সুরেই যেন বলে উঠলেন, “সান্টোকির মতো কিছু কিছু খেলোয়াড়কে স্পন্সররাই নিয়ে এসেছে। এজেন্টদের সঙ্গে ওরাই যোগাযোগ করেছে। সান্টোকি এমন একটি নো বল দিয়েছে, যেটি খুবই সন্দেহজনক। আমি স্পন্সরদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আপনারা প্রথম একাদশ গড়া নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেছেন কি না। ওনারা বলেছেন ‘না’। এখন টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। জানতে হবে সান্টোকিকে খেলানোর বিষয়ে কেউ তাদের প্রভাবিত করেছে কি না। কারণ এই ছেলেটি তো মনে হচ্ছে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত।”

তা নিয়ে মৌখিকভাবে তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে রাখা তানজিলের প্রশ্ন আছে দলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক জুড়ে থাকা অন্য কাউকে নিয়েও। বলা বাহুল্য যে তা নিয়েও বিসিবিকে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়ে রেখেছেন তিনি। সেই ব্যক্তি কে? শুনুন অভিযোগকারীর মুখ থেকেই, ‘দলের সঙ্গে যে ইন্টেগ্রিটি অফিসারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁর চালচলন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়েও আমাদের মনে প্রশ্ন আছে।’ যদিও এই পদে নিয়োগ বিসিবিই দিয়ে থাকে। দুর্নীতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে প্রতিটি দলের সঙ্গেই এ রকম একজন করে কর্মকর্তা আছেন।

তবে সিলেটের সঙ্গে থাকা ইন্টেগ্রিটি অফিসার যে সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন, তানজিলের বক্তব্যে তা এসেছে একাধিকবার, ‘ওনার নাম এ টি এম কামাল উদ্দিন সম্ভবত। ওনার ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে চাওয়ার পর উনি বলেছেন যে তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমি বললাম, আপনি তাহলে কিভাবে আসলেন? তখন তিনি বললেন, চার বছর ধরে উনি নাকি অ্যান্টি করাপশনে কাজ করছেন। এটি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। আমি এই বিষয়টি নিয়েও বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।’

এ রকম যোগাযোগে বিপিএলের সুরক্ষা মিলবে কতটা, প্রশ্ন এখন সেটিই। আসর শুরুর আগে থেকেই সন্দেহের তীরে বিদ্ধ ক্রিকেটার তো মাঠে সংশয়-সন্দেহ আরো উসকেই দিলেন!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা