kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

তাঁদের নতুন ‘শুরু’ আজ

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিপিএলের অধিনায়কত্ব একজনের মাথার মুকুট। আরেকজনের গলার কাঁটা। অবস্থান বিপরীতমুখী তবু এবারের টুর্নামেন্টেও নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব তাঁদের কাঁধে। ঢাকা প্লাটুনের মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং খুলনা টাইগার্সের মুশফিকুর রহিম।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে আজ মাঠে নামছেন এ দুজন। দুপুরের ম্যাচে মাশরাফির দল খেলবে রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে। আর সন্ধ্যায় মুশফিকের দলের প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। টুর্নামেন্টের সফলতম অধিনায়কের মুকুটে আরেক পালক যোগ হবে এবার নাকি ব্যর্থতার কাঁটাকে প্রথম সাফল্যের মণিহারে রূপান্তর করবেন? ওই দূরের লক্ষ্যের কথা এখনই মুখ ফুটে বলেন কিভাবে! তবে মনের গহিনের স্বপ্নসুরে যে সেই বাজনা, সেটি না বললেও চলছে।

মাশরাফির ব্যাপারটাই দেখুন। বিপিএলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা আদুরে প্রেমের। ২০১২ সালে প্রথম আসরে ঢাকা গ্লাডিয়েটরসের নেতৃত্বে ছিলেন; দল চ্যাম্পিয়ন। পরের আসরেও তাই। ২০১৫ সালে দল বদলে আসেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। কিন্তু রূপকথার চিত্রনাট্য বদলায় না। ট্রফি ওঠে মাশরাফির হাতেই। এক আসর বিরতি দিয়ে রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে আকেবার তা উঁচিয়ে ধরেন এই পেসার। সব শেষবার পারেননি। হলোই বা! তবু বিপিএলের ছয় আসরের চারটিকে অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জয় কি চাট্টিখানি অর্জন!

অথচ সেই মাশরাফি ছাড়াই এবারের বিপিএলে আয়োজন হওয়ার জোগাড় ছিল! তিনি অবসর নেননি; প্লেয়ার্স ড্রাফটে তবু দলগুলোর কাছে ব্রাত্য হয়ে রইলেন দীর্ঘ সময়। দেশের খেলোয়াড়দের প্রথম সাত রাউন্ডের ৪৭ খেলোয়াড়ের মধ্যে নড়াইলের ছেলেটির কথা কারো মনে পড়েনি। অবশেষে অষ্টম রাউন্ডে বাংলাদেশের ৫৩তম ক্রিকেটার হিসেবে বিক্রি হন। ঢাকা প্লাটুন পরবর্তীতে তাঁর হাতে তুলে দেয় নেতৃত্বও।

জাতীয় দলের নেতৃত্বে মাশরাফি কিংবদন্তি। অথচ বিবর্ণ বিশ্বকাপে তা প্রশ্নবিদ্ধ প্রবলভাবে। তাঁর অবসর ত্বরান্বিত করার কী প্রবল প্রচেষ্টা অনেকের! এরপর প্লেয়ার্স ড্রাফটের এ অবহেলা। সব কিছুর জবাব দেওয়ার জন্য এবারের বিপিএলের মঞ্চ কি বেছে নিতে চাইবেন না মাশরাফি! পাশাপাশি ঢাকা প্লাটুনের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার ব্যাপারও তো রয়েছে!

জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েই মাশরাফির মহীরুহ হয়ে ওঠা। অথচ দীর্ঘ সময় অধিনায়কত্ব করেও অমন কীর্তির আকাশ ছোঁয়া হয়নি মুশফিকের। বিপিএলেও এ ভূমিকায় উজ্জ্বল নন কখনো। আগের ছয় আসরের মধ্যে পাঁচটিতেই ছিলেন দলের অধিনায়ক; ব্যাট হাতেও বেশ সফল। কিন্তু নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনার পিছু ছাড়েনি। ২০১৫ সালে সিলেট সুপারস্টার্স মুশফিককে সরিয়ে শেষ ছয় ম্যাচের জন্য অধিনায়ক করে শহীদ আফ্রিদিকে। ২০১৬ সালে বরিশাল বুলসের মালিক এম এ আউয়াল বুলু প্রবল সমালোচনা করেন অধিনায়ককের। মুশফিক জবাব দিলে কথা-কাটাকাটি রূপ নেয় তিক্ততায়। তবু এবার খুলনা টাইগার্স ভরসা রাখছে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ওপরই।

তাতে বিপিএলে মুশফিকের ব্যাটের ঝলকানির ভূমিকা রয়েছে। ২০১২ দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে ১১ ম্যাচে করেন ২৩৪ রান। পরেরবার সিলেট রয়্যালসের হয়ে ১৩ ম্যাচে যে ৪৪০ রান করেন, সেটি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে সিলেট সুপারস্টার্সের হয়ে ১০ ম্যাচে ১৫৭ রান; পরেরবার বরিশাল বুলসের হয়ে ১২ ম্যাচে ৩৪১ রান। নেতৃত্বহীন ২০১৭ আসরটি ভালো যায়নি মুশফিকের। রাজশাহী কিংসের জার্সিতে ১২ ম্যাচে করেন মোটে ১৮৫ রান। সর্বশেষ বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে অধিনায়কত্বে ফেরেন; ফেরেন রানেও। ১৩ ম্যাচে ৪২৬ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিন নম্বরে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান। সেখানে সেরাদের সেরায় মুশফিকের সঙ্গে যাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সেই তামিম ইকবালই কেবল বিপিএলের ছয় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে রানে তাঁর চেয়ে এগিয়ে। সেটিও গত ফাইনালে বাঁহাতি ওপেনার অপরাজিত ১৪১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলার পর।

সে সিংহাসন নিশ্চয়ই ফেরত চাইবেন মুশফিক। কাল একাডেমি মাঠে দাঁড়িয়ে বিপিএলে ভালো করার প্রত্যয়ের কথাই শোনান খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক, ‘আমি বাংলাদেশের হয়ে খেলি কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে—সব সময় রান পাওয়ার চেষ্টা থাকে। এখন ভালো ছন্দে আছি। চেষ্টা থাকবে বিপিএলে যেন এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারি। নিজ দলে যেন ভালো ভূমিকা রাখতে পারি। কারণ আমার পারফরম্যান্স পুরো দলের খেলায় রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।’

নিজে তো মন্দ পারফরম করেননি এত দিন। তবু বিপিএলে শিরোপা জেতা হয়নি আগের ছয় আসরে। এবার অলক্ষ্যে সে লক্ষ্যেরও পিছু ধাওয়া নিশ্চয়ই করবেন মুশফিক। অধিনায়কত্বের গলার কাঁটাকে সাফল্যের মণিহারে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ তাঁর। সে পথে বাকিদের পাশাপাশি বিপিএলের ‘লাকি চার্ম’ মাশরাফিও যে মুশফিকের প্রতিপক্ষ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা