kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

আক্রমণাত্মক ফুটবলটাই শেখেনি তারা

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আক্রমণাত্মক ফুটবলটাই শেখেনি তারা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জাগরণের গান ধরে ফুটবল কি আবার বেসুরো হয়ে গেল! বিশ্বকাপ বাছাইয়ে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের তুমুল লড়াইয়ে জেগেছিল আশা। কিন্তু নেপালে গিয়ে সমশক্তির বিপক্ষে খাবি খাওয়ার পর ওই আশা আবার শঙ্কায় রূপ নিয়েছে। জামাল ভূঁইয়ারা কি তবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শেখেনি?

অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গিয়ে এসএ গেমস ফুটবলের ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। চার ম্যাচে একটি জয়, একটি ড্র ও দুটি হার। দুই গোলের মধ্যে নিজেরা করেছে একটি, অন্যটি আত্মঘাতী। জেমি ডের অধীনে এটা প্রথম বড় ধাক্কা। তাঁর গত দেড় বছরে লাওসকে হারিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উত্তরণ বড় অর্জন। আর অপ্রত্যাশিত হোঁচট হলো, এসএ গেমস থেকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফাইনালের আগে বিদায় নেওয়া। ব্রিটিশ কোচের বিশ্লেষণে সমস্যাটা গোল স্কোরিংয়ে, ‘প্রথম ম্যাচটি (ভুটানের বিপক্ষে) খুব বাজে খেলেছি আমরা। পরের তিন ম্যাচে খেলা ভালো হয়েছে তবে গোল স্কোরিং যথারীতি বড় সমস্যা। এই সমস্যা থেকে বের হতে হলে অনেক কিছু বদলাতে হবে।’ ভালো খেলেও গোল না পাওয়া দেশের ফুটবলের পুরনো রোগ। দলের বাজে পারফরম্যান্সে ধারার বিপরীতে গোল করে ম্যাচ জিতিয়েছেন কেউ, এমন ঘটনা খুব একটা নেই। গত এক দশক ধরে ভালো খেলার সুফল তোলার মতো কোনো স্ট্রাইকার নেই। তাই ভালো খেলাও হয়ে যাচ্ছে অর্থহীন।

জাতীয় দলের কোচ অবকাঠামো বদলে এই সমস্যার সমাধান দেখেন, ‘এখন অনেক কিছু বদলানোর সময় হয়ে গেছে। বিশেষ করে ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশির সংখ্যা কমিয়ে দুইয়ে নামাতে হবে। তাতে এত দিন যারা ক্লাবে শুধু ট্রেনিং করত তাদের খেলার সুযোগ বাড়বে এবং মানের উন্নতি হবে। আরেকটা হলো, আন্তর্জাতিক ফুটবল মৌসুমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, যা কোনোভাবে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। মাঠের মানোন্নয়নের পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধাও বাড়াতে হবে।’ বিদেশির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন পাঁচে উন্নীত হয়েছে, তাতে অনেক দেশি খেলোয়াড় খেলারই সুযোগ পায় না।

তা ছাড়া বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে প্রফেশনাল ফুটবলের ট্যাগ লাগানো থাকলেও লিগের খেলা পিছিয়ে যায় যখন-তখন। যেকোনো ছুঁতোনাতায় লম্বা সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় লিগ। আর ফুটবল মৌসুমেরও কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। তা চলে বাফুফে কর্মকর্তাদের মেজাজ-মর্জিতে। বিশ্ব ফুটবলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কথা মুখে বললেও তার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় না। কিন্তু জেমি মনে করেন এটা খুব জরুরি, ‘সেটা মেনে চললে জাতীয় দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে উইন্ডোগুলোতে। এর বাইরে জাতীয় দলের কোনো খেলা রাখা যাবে না। তাতে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি বা অবসাদে ভোগার শঙ্কা থাকে না।’

এসএ গেমসে হয়তো বা ফুটবলারদের ক্লান্ত মনে হয়েছে কোচের। এটাকে অবশ্য অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছেন না। বরং সামনে চলে এসেছে ফুটবলের নতুন এক রোগ। জেমির দল কাউন্টারে যত ভালো অ্যাটাকিংয়ে ততটা নয়! বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে তারা খেলেছে রক্ষণ ও প্রতি-আক্রমণনির্ভর ফুটবল। নেপালে প্রায় সমশক্তির দলের বিপক্ষে অ্যাটাকিং ফুটবল খেলতে গিয়ে হয়েছে তাদের চরম ভরাডুবি। তাহলে কি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শেখেইনি তারা? ৪০ বছর বয়সী এই কোচও স্বীকার করেন দলের এই সমস্যার কথা, ‘এটা আমারও মনে হয়েছে। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে আমাদের হার না-মানা পারফরম্যান্স হয়, ওসব ম্যাচে আমাদের পায়ে বল বেশি থাকে না। এই খেলায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তবে সমশক্তির দলের বিপক্ষে আমাদের বল পজেশন বেশি থাকলেও সঠিক খেলাটা আমরা খেলতে পারি না এবং কিছু কিছু জায়গায় আমাদের সমস্যা হয়।’ বড় সমস্যা হয় অ্যাটাকিং থার্ডে। সেখানে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার অভ্যাসটা তৈরি হয়নি। তাই অনেক আক্রমণ মুখ থুবড়ে পড়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণে।

বল নিয়ন্ত্রণে রাখার ফুটবলার অর্থাৎ বল-প্লেয়ারের সংখ্যাও কমে গেছে ভীষণভাবে। আগে দেশিদের পায়ে ছিল ফুটবল সৌন্দর্য, ড্রিবল করে দু-তিনজনকে পেছনে ফেলে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল। এই দলের কারো পায়ে সেই জাদু নেই। জেমিও মনে করেন, ‘আমাদের তুলনায় প্রতিবেশী দেশের খেলোয়াড়রা টেকনিক্যালি ভালো। তবে এটা খেলোয়াড়দের দোষ নয়, তাদের ছোটবেলার ফুটবল শিক্ষাটায় গলদ ছিল। একাডেমিতে বড় হলে হয়তো এই সমস্যা থাকত না।’ গলদ আসলে গোড়াতেই। সেখান থেকেই শুরু করতে হবে সংস্কার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা