kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিঠুনের ৪৮ বলে ৮৪

ইমরুল ঝলকে চাপা মিঠুনের বিস্ফোরণ

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইমরুল ঝলকে চাপা মিঠুনের বিস্ফোরণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই দুঃসময়ের বৃত্ত ভেঙে বের হওয়ার ইঙ্গিত তাঁদের দুজনের ব্যাটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যর্থতায় যাঁদের চড়তে হয়েছিল সমালোচনার শূলে। অপেক্ষায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরু হলে যদি দারুণ কিছু করা যায়...।

তাঁরা দুজনেই দারুণ কিছু করলেনও। প্রথমে সিলেট থান্ডারের হয়ে ‘বজ ’সম ইনিংস খেললেন মোহাম্মদ মিঠুন। পরে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানানো ইনিংস ইমরুল কায়েসেরও। এই দুজনেই করলেন ফিফটি। অবশ্য রান তাড়ায় ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ইমরুল সঙ্গী হিসেবে পেলেন ভিনদেশি চ্যাডউইক ওয়ালটনকেও। তাঁদের ৮৬ রানের পার্টনারশিপে সিলেটের ৪ উইকেটে ১৬২ রানের সংগ্রহ ১ ওভার বাকি থাকতেই টপকে চট্টগ্রামের ৫ উইকেটের জয়ে মাঠে গড়াল বিপিএলও। যে ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ইমরুলে ম্লান মিঠুনও।

এই ম্যাচে যে যে ভূমিকায় ইমরুলকে দেখা যাওয়ার কথা, তা যায়নি এর একটিতেও। নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ চোটের কারণে খেলতে পারবেন না, সেটি আগের দিনই জানা। চট্টগ্রাম শিবির থেকে জানানো হয়েছিল উদ্বোধনী ম্যাচে নেতৃত্ব দেবেন ইমরুলই। কিন্তু চট্টগ্রামের হয়ে টস করতে গেলেন তাঁদের ক্যারিবীয় ক্রিকেটার রায়াদ এমরিট। আবার এই বাঁহাতি ওপেনার ইনিংসও ওপেন করলেন না। গত বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক মিডল অর্ডারেই ব্যাটিং করেছিলেন। যদিও সফল হননি তেমন। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৯ রানের। এবার সেই মিডল অর্ডারে নেমেই ফিফটি।

রান তাড়ায় তাঁর দলের অবস্থাও বিশেষ সুবিধার ছিল না একসময়। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু চতুর্থ ওভারেই টানা দুই বলে তুলে নেন ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দীক (৪) ও নাসির হোসেনকে (০)। অন্য ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্ডোকে (২৬ বলে তিনটি করে ছক্কা ও চারে ৩৩) নিয়ে ইমরুলের বিপর্যয় সামলে নেওয়ার চেষ্টাও থামে দ্রুতই। রায়ান বার্লও (৩) থিতু হতে না পারায় ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসা চট্টগ্রামের চাপ সামলে জয়ের পথে পা বাড়ানোর শুরুও তখন থেকেই, ক্যারিবীয় ওয়ালটন এসে যোগ দিতেই।

ছুটতে থাকে দুজনের ব্যাটই। ইমরুল ২৯ বলেই পৌঁছে যান ফিফটিতে। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিদায়ে ভাঙে ওয়ালটনের সঙ্গে জুটি। ততক্ষণে দুই বাউন্ডারি ও পাঁচ ছক্কায় ৩৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসে দলকে জয়ের প্রায় তীরেও নিয়ে গেছেন তিনি। সুবাদে হয়েছেন ম্যাচের সেরাও। বাকি পথটুকু দলকে নিরাপদেই পার করে নেওয়া ওয়ালটন ৩০ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৪৯ রান করে ছিলেন অপরাজিত। ২৯ রানে যদিও একবার জীবন পেয়েছিলেন এই ক্যারিবীয়। ইমরুল-ওয়ালটনের দারুণ টি-টোয়েন্টি উপযোগী ব্যাটিংয়ের দিনে কম বিস্ফোরক ব্যাটিং করেননি মিঠুনও।

বরং একটু বেশিই। ইমরুল আর ওয়ালটনের স্ট্রাইক রেট ছিল যথাক্রমে ১৬০.৫২ এবং ১৬৩.৩৩। দল ম্যাচ না জিতলেও এ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের দুই সফল ব্যাটসম্যানকে ছাপিয়ে গেছেন মিঠুন। তিন নম্বরে নেমে ৪৮ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ৮৪ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ১৭৫! শুরুতেই ওপেনার রনি তালুকদারকে (৫) হারানোর ধাক্কা সামলাতে নামা মিঠুনের সঙ্গে অন্য ওপেনার জনসন চার্লসও (২৩ বলে ৩৫) ঝোড়ো ব্যাটিং করতে থাকলেও টেকেননি বেশিক্ষণ। পরে মিঠুনই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব নিজের ব্যাটে তুলে নেওয়ায় সিলেটের অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনও (৩৫ বলে ২৯) প্রতিপক্ষের বোলারদের খেলেছেন একটু রয়েসয়েই। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের দুজনের ৯৬ রানের পার্টনারশিপে ৬৭ রানই তো এসেছে মিঠুনের ব্যাট থেকে।

মাত্র ৩০ বলে ফিফটিতে পৌঁছানোর পথেই বেশি মারমুখী ছিলেন তিনি। ওই সময়ে যে বাউন্ডারি ছিল না একটিও, মেরেছেন পাঁচ-পাঁচটি ছক্কা। ফিফটির পরই মেরেছেন চার বাউন্ডারির সবগুলো। যদিও ইমরুল-ওয়ালটনের ব্যাট এটিই মনে করিয়েছে যে সিলেটের অন্য কারো ব্যাটেও আরো কিছু রান বড্ড জরুরি ছিল। তা পেলে হয়তো ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলেও হারের হতাশায় ডুবতে হতো না মিঠুনকে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা