kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছোট খেলা হয়ে উঠেছে বড়

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছোট খেলা হয়ে উঠেছে বড়

শাহ আলম, মাহবুব, মোশারফ, রিংকি, সাবরিনা। মাবিয়া, আল আমিন, হুমায়রা, ইতি, রোমান সানা। এসএ গেমসের যে ধারার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ এত দিন ধরে ছিল পরিচিত, একটু একটু করে তা যে আমূল বদলে গেছে, দুই প্রজন্মের নামগুলোতেই তা স্পষ্ট। দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম মানব শাহ আলম, ২০০ মিটারের সোনাজয়ী মাহবুব, কিংবা সাঁতারে মোশারফ হোসেনের পাঁচ সোনার কীর্তি, শ্যুটিং সাইফুল আলম, সাবরিনা সুলতানাদের দাপট মুছে গিয়ে এখন কারাতেকা, ভারোত্তোলন, ফেন্সার, আর্চারদের দিন। ত্রয়োদশ এসএ গেমসে বাংলাদেশের রেকর্ড ১৯ সোনার একটিও এত দিনের বড় খেলা অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, শ্যুটিং থেকে নয়। আর্চারি, তায়কোয়ান্দো, কারাতে, ভারোত্তোলনের মতো এত দিনের ছোট খেলাই হয়ে উঠেছে বড়। ধারা বদলে গেছে।

২০১০ সালে ঢাকায় হওয়া একাদশ এসএ গেমসেই প্রথম দেখা গিয়েছিল এই ভবিষ্যৎ ছবিটা। ভারোত্তোলনে সোনা দিয়ে শুরু সে আসরে সবচেয়ে বেশি চারটি সোনা আসে কারাতেতে। দুটি করে আরো চারটি তায়কোয়ান্দো ও উশুতে। এসএ গেমসে বাংলাদেশের ভারোত্তোলনে সোনা সেবারই প্রথম, কারাতে আর উশুতেও। তায়কোয়ান্দোতে একটি সোনা এসেছিল অবশ্য ২০০৬-এ কলম্বোতেও। সেই সোনাজয়ী মিজানুর রহমান বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোরও প্রথম দিককার খেলোয়াড়। বাংলাদেশে আর্চারিই বা শুরু হয়েছে কত দিন! ২০০৫-এর দিকে যাত্রা শুরু করে খেলাটি এই ২০১৯-এ এসে শীর্ষ ছুঁয়েছে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে আর্চার রোমান সানা পেয়েছেন অলিম্পিকের টিকিট। এসএ গেমসে সেই আর্চাররাই এবার যা করলেন তা শুধু স্বপ্নেই ভাবা গেছে এত দিন। আর্চারিতে বিশ্বের অন্যতম শক্তি ভারত না আসায় বাংলাদেশের এবার সম্ভাবনা ছিলই; কিন্তু ১০-এ ১০ সোনা প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। আর আর্চাররাও তাঁদের স্কোর দিয়ে দেখিয়েছেন এবার ভারত এলেও তাঁরা খালি হাতে ফিরতেন না।

এই মুহূর্তে আর্চারি ফেডারেশনকেই বলা হচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনের রোল মডেল। একটা সময় শ্যুটিংকে নিয়ে যা ভাবত সবাই। কিন্তু গত কয়েক বছরে বন্দুকে যা হচ্ছে না, তা-ই মিলছে তীর-ধনুকে। শ্যুটিংয়ে একটা অলিম্পিক কোটার জন্য আব্দুল্লাহেল বাকী, শাকিল আহমেদ, শারমিন আক্তারদের গত দিনের অপেক্ষা, সেই শ্যুটারদের অপেক্ষায় রেখেই তো আর্চার রোমান জিতলেন টোকিও অলিম্পিক ২০২০-এর টিকিট।

ভারোত্তোলনে টানা তৃতীয় আসরে এবার সোনা জিতল বাংলাদেশ। আগের দুইবার একটি করে, এবার তারাই দিয়েছে জোড়া সোনা। ওদিকে ২০১০-এ যে কারাতে দিয়েছিল চার সোনা, এবার তারাও প্রতিশ্রুতি রাখল ভালো করে। বিদেশের মাটিতে আল আমিন, হুমায়রা আক্তার, মারজান আক্তাররা উপহার দিলেন দুই সোনা। তায়কোয়ান্দো হতাশ করেছিল গত আসরে। কিন্তু এবার গেমসের প্রথম সোনাটিই এনে দিয়ে দীপু চাকমা মুখ রেখেছেন খেলাটির। অপ্রত্যাশিতও কিছু ঘটে গেছে, সেটা ফেন্সিংয়ে। খেলাটি একেবারেই অপ্রচলিত বাংলাদেশে। দক্ষিণ এশীয় গেমসেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রথমবারের মতো। কিন্তু এই তরবারি চালনায়ও যে বাংলাদেশীদের হাত যশ আছে, গেমসে সোনা জিতিয়ে ফাতেমা মুজিব সেটাই দেখিয়েছেন সবাইকে। হুমায়রারা দেশে ফিরেই কারাতের জন্য নিজস্ব কমপ্লেক্স চেয়েছেন, ভারোত্তোলনে ভালো মানের একটি জিমনেসিয়ামের দাবি তো সেই ২০১০ সাল থেকেই, ফাতেমাও বলেছেন ফেন্সিংয়ে আরেকটু নজর দিলে এই খেলায় যেতে পারবেন তাঁরা এশিয়ান পর্যায়ে।

ধারা বদলেছে, নতুন ধারায় চলতে হবে সংগঠকদের। পূরণ করতে হবে ফাতেমা, মাবিয়া, মারজানদের চাওয়া। তাতেই শুধু শাহ আলম, মোশারফ, বিমল, সাবরিনাদের উত্তরসূরিরা ফিরতে পারেন সাফল্যের ট্র্যাকে। তাতে নতুনের সঙ্গে পুরনো দিনের সাফল্যের যোগফলে দক্ষিণ এশিয়ায় সত্যিকার অর্থে ক্রীড়াশক্তিও হয়ে উঠবে বাংলাদেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা