kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দলগুলো

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দলগুলো

ক্রীড়া প্রতিবদেক : যা তাড়াহুড়ো, তা-ই হুড়োতাড়া। অথবা সেটিই বিপিএল। পরশু হয়ে গেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান; কাল গড়াবে মাঠের খেলা। কিন্তু বিপিএলের সাতটি দল এখনো যথেষ্ট অগোছালো। শেষ মুহূর্তে গুছিয়ে নেওয়ার তাড়া সবার মাঝে।

সে কারণেই কাল বিকেলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স নিজেদের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান করে। আজ দুপুরে রংপুর রেঞ্জার্স, বিকেলে রাজশাহী রয়্যালসের একই প্রগ্রাম। তবে জার্সি উন্মোচন তো আর বাধ্যতামূলক না। কিন্তু বিপিএল শুরুর আগে দলগুলো নিজেদের মধ্যে অনুশীলন তো করবে! সেখানেও তথৈবচ অবস্থা।

এর সবচেয়ে ভালো ছবি পাওয়া যায় শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে। আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ছিল নিরাপত্তার কড়াকড়ি। কাল তা নেই। বিপিএল শুরু হয়ে যাচ্ছে বলে ক্রিকেটারদের ব্যাট-বলে ঝালিয়ে নেওয়ার কী প্রাণান্তকর প্রতিযোগিতা! পাড়ার এক টুকরো মাঠে যেমন একই সঙ্গে কয়েক দলের কয়েকটি ম্যাচ চলতে থাকে, একাডেমি মাঠে তারই প্রতিফলন। রংপুর রেঞ্জার্সের কিউই কোচ মার্ক ও’ডনেল তো বিস্ময় গোপন না করে বলেই ফেললেন, ‘একই সঙ্গে ছয়টি দল অনুশীলন করছে। আমি আমার জীবনে কখনো এমনটা দেখিনি।’

এত দিন ক্রিকেটাররা আসতেন নিজস্ব জার্সি পরে। এখন দলীয় জার্সি গায়ে উঠতে শুরু করেছে। অনুশীলন পুরোমাত্রায় শুরু হয়েছে, তা বলা যাবে না। ও’ডনেল যেমন কালই যোগ দিলেন দলের সঙ্গে। আবার সিলেট থান্ডারের কোচ হার্শেল গিবস যেমন এখনো আসেনইনি। সব দলের সব বিদেশিও আসেনি। ঢাকা প্লাটুনের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন যেমন আক্ষেপ করছিলেন, ‘থিসারা পেরেরা এখনো এনওসি পায়নি বলে আসেনি। অথচ ও আমাদের মূল খেলোয়াড়।’

খুলনা টাইগার্সের বড় ভরসা মোহাম্মদ আমির চলে এসেছেন। পাকিস্তানি এই বাঁহাতি পেসার নিজের জন্য বড় লক্ষ্যই ঠিক করেছেন, ‘আমি মাত্র গতকালই এলাম। আশা করি খুলনাকে ভালো সেবা দিতে পারব। আমাদের খুব ভালো কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। টুর্নামেন্টে তাই ভালো করতে চাই। আমি নিজে চাই যেন বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হতে পারি।’ এবাবের বিপিএল যে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সরিয়ে বিসিবির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে হচ্ছে, তাতে ইতিবাচকতা দেখছেন তিনি, ‘এবার খেলোয়াড়দের চুক্তি থেকে শুরু করে সব কিছু হচ্ছে বোর্ডের অধীনে। পিএসএলেও বোর্ডই সব করে; আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। এবারের বিপিএল তাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে।’

রংপুর রেঞ্জার্স প্রথমে কোচ হিসেবে নেয় গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারকে। প্লেয়ার্স ড্রাফটের সময় উপস্থিতও ছিলেন তিনি। পরে শ্রীলঙ্কা দলের ব্যাটিং কোচের প্রস্তাব পেয়ে এ দায়িত্ব ছাড়েন। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ফ্লাওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হন ও’ডনেল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের সময়টায় নিজ দলের ক্রিকেটারদের চেনার কাজ দ্রুত করতে হচ্ছে এই কিউইকে, ‘আজই আমার প্রথম অনুশীলন। তাতে সবাইকে এখনো পাইনি; বিদেশিরা কয়েক দিনের মধ্যেই এসে পড়বে। দলের ভারসাম্য ভালো; যদিও সবাইকে আমি চিনে উঠতে পারিনি। একেকজনের ভূমিকা যা দেখলাম, তাতে দলকে ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।’ তবে দলটির লক্ষ্য যে এখনো ঠিক করে উঠতে পারেননি, সেটি স্বীকার করে নেন তিনি।

রাজশাহী রয়্যালস ওয়াইজ শাহ নিজের দল নিয়ে সন্তুষ্ট। লক্ষ্যটাও তাই উঁচুতে, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য অলরাউন্ডার অপরিহার্য। আমাদের দলে তেমন বেশ কয়েকজন ভালো অলরাউন্ডার রয়েছে। আছে আন্দ্রে রাসেল ও রবি বোপারা। ব্যাটিংয়ের শুরুতে হযরতউল্লাই জাজাই ও লিটন দাসের মতো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান আছে। দলের ভারসাম্য ভালো। পরের দুই-তিন দিনে দলটি একাত্ম হয়ে সঠিক সময়ে ভালো খেলাই গুরুত্বপূর্ণ।’

বিপিএলে ভালো খেলার সে প্রত্যাশা প্রত্যেক দলেরই। সেটি তাড়াহুড়োয় অনুশীলনের সময়টা পর্যন্ত ঠিকমতো না পাওয়ার পরও!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা