kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দশে দশ

এ পথেই অলিম্পিক স্বপ্ন ছোঁবেন রোমান

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এ পথেই অলিম্পিক স্বপ্ন ছোঁবেন রোমান

আগের দিন ছয় ইভেন্টের সব কটিতে সোনা জয়ের উৎসবে বাংলাদেশকে ভাসিয়েছিলেন আর্চাররা। কাল ব্যক্তিগত চার ইভেন্টেও দেশকে সোনালি সাফল্য এনে দিয়েছেন রোমান সানা, সোহেল রানা, ইতি খাতুন, সুমা বিশ্বাসরা। এবারের এসএ গেমসে ১০ ইভেন্টের ১০টিতেই সোনালি কীর্তি গড়ল আর্চাররা। এক ডিসিপ্লিনে এর আগে সর্বোচ্চ ৭টি সোনা জিতেছিল শ্যুটিং। ১৯৯৩ সালে ঢাকায়। সেই শ্যুটিংকেই কাল ছাড়িয়ে গেল আর্চারি ১০ সোনার গর্বে। রোমান সানাসহ বাংলাদেশের তিন আর্চার এই আসরে জিতেছেন তিনটি করে সোনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

অলিম্পিক কোটা অর্জন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদক, এশিয়া কাপ সোনা—একটা বছর স্মরণীয় করে রাখতে এর চেয়ে বেশি আর কী লাগে! রোমান সানা তবু ছিলেন এই শেষের অপেক্ষায়। গত এসএ গেমসে খেলা হয়নি তাঁর ইনজুরির কারণে। দক্ষিণ এশিয়ার এই অলিম্পিকে বাংলাদেশের এত যে সম্ভাবনাময় আর্চারি, তাও এত দিন ছিল সোনাহীন। আর্চারির মুখ হয়ে রোমান তা উপেক্ষা করে থাকেন কী করে। নভেম্বরে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও তাই হালকাভাবে নিয়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছিলেন এই গেমসে। সেটা কতটা তা বোঝা গেছে তাঁর কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডের স্কোরেই, যেখানে ৬৮৬ মেরে নিজের ব্যক্তিগত সেরাকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য আর্চারদের জন্য এই রোমান ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। কোয়ালিফিকেশনে যিনি দ্বিতীয় হয়েছেন তাঁর ৬৬১ স্কোরই বলছে তা। তা হবেই না কেন। অলিম্পিক ছুঁয়ে রোমান যে এখন অলিম্পিক পদক ছোঁয়ার অপেক্ষায়। কাল এসএ গেমসের তিন সোনা ঝুলিতে পুরে সেই স্বপ্নের কথাই জানাচ্ছিলেন তিনি, ‘ভালো মানের যেকোনো অ্যাথলেটেরই সারা জীবনের একটা স্বপ্ন থাকে, তা হলো অলিম্পিকে পদক জেতা। আমারও আছে। অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেই সেই স্বপ্নটা আরো গাঢ় হয়েছে বলতে পারেন। তার ওপর এ বছরটা এমন দারুণভাবে শেষ করলাম। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়া কাপ শেষে এই এসএ গেমসেও যা চেয়েছি, তা-ই পেয়েছি। আমার ক্যারিয়ার সেরা স্কোর করেছি এখানে। আগামী বছর আমি চাইব অলিম্পিকটাও যেন স্মরণীয় করে রাখতে পারি।’ রোমানের এই স্বপ্নের পথচলা একা একা নয় নিশ্চয়, প্রকৃত অর্থে তার ভিত্তিটাই গড়ে দিয়েছে পৃষ্ঠপোষকতা। দুই বছর আগে সিটি গ্রুপ বছরপ্রতি প্রায় দুই কোটি টাকা করে পাঁচ বছরের চুক্তি করে আর্চারির সঙ্গে। তার চেয়ে বড় ছিল আসলে তাদের স্বপ্ন। চুক্তির মোটোই ছিল ‘গো ফর গোল্ড’। সেই সোনার পিছু ধাওয়াও দক্ষিণ এশিয়ার সীমা নয় বরং অলিম্পিক পর্যন্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এতটা উচ্চাশা নিয়ে লক্ষ্য স্থির করা হয়নি কোনো খেলায়। আর্চাররা সেই সম্ভাবনা দেখিয়েই আস্থা অর্জন করেছেন। তাতে নিজেদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ ভেন্যু, হাই প্রফাইল কোচ, নিয়মিত আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা সবই মিলেছে। দুই পক্ষের এই আস্থায় যে কোনো ভুল ছিল না এক বছরের ব্যবধানে অলিম্পিক কোটাসহ রোমানের যাবতীয় অর্জন এবং এবারের এসএ গেমসে দশে দশ সোনার কীর্তিতে তারই প্রমাণ।

অবিশ্বাস্য লাগছিল অলিম্পিকের আগে নিজেকে তৈরি করতে আর কী কী চাই—এমন প্রশ্নে কাল রোমান যখন বলছিলেন, ‘গত এক-দেড় বছর ধরে যেভাবে সব কিছু পাচ্ছি আমরা এভাবেই যদি সব চলতে থাকে, আমি আসলে আর কিছু চাই না।’ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ অবিশ্বাস্য নয় তো কি, আর এমন একটি খেলাও নেই যেখানে অ্যাথলেটরা এতটা খুশি মনে প্রতিযোগিতায় নামতে পারছেন। কারাতে, তায়কোয়ান্দো, ভারোত্তোলনের মতো খেলাগুলোর কথা থাক, শ্যুটাররাও এখন হাহাকার করেন প্রস্তুতির স্বল্পতা আর ভালো মানের কোচের জন্য। সিটি গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতাতেই মাসিক ১০ লাখ টাকায় জার্মান কোচকে রাখা সম্ভব হচ্ছে আর্চারির। আন্তর্জাতিক যে আসরে খেলা দরকার মনে করছেন তাঁরা, অংশ নিচ্ছেন সেখানেই। এটা এত বড় অনুপ্রেরণা যে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এখনো সোনার দেখা না পাওয়া আর্চাররাও দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনার আনন্দে ভাসাচ্ছেন দেশকে। কাল মেয়েদের কম্পাউন্ড এককে সোনা জেতা সুমা বিশ্বাস বলছিলেন, খো খো, ক্রিকেট হয়ে শেষ পর্যন্ত আর্চারিতেই মজে গেছেন তিনি, কারণ এই খেলাতেই নিজেকে সবচেয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথটা পেয়েছেন তিনি। ছেলেদের কম্পাউন্ড এককে সোনা জেতা সোহেল রানাও তাঁর খেলাধুলার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ফুটবলে, স্ট্রাইকার ছিলেন। পোস্টে বল পাঠানোর চেয়ে যে আর্চারিতে ১০ মারা কঠিন তবু আর্চারিতেই তিনি নিজেকে সঁপেছেন সেই এক কারণেই নিজেকে বিকশিত করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ দেখেছেন তিনি, ‘রোমানের সাফল্য দেখেই আমি আরো বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি যে এই খেলাতেই আমাদের অনেক দূর যাওয়া সম্ভব। এসএ গেমসের এই সোনা তো আমাকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে দিল। কারণ আমি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে পারিনি, আন্তর্জাতিক এই পদক আমার সামর্থ্যের প্রতিই আস্থা আরো বাড়িয়ে দিল।’ এই সামর্থ্যের ছবি দেখেন কোচরা আগেই, সংগঠকরা স্বপ্ন তৈরি করেন, কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ যা করেছেন, এর সঙ্গে সিটি গ্রুপের মতো পৃষ্ঠপোষক সঙ্গত দিলে বাংলাদেশের কোনো খেলাও যে এভাবে অলিম্পিক মান ছুঁতে পারে সেটা দেখাল এই আর্চারিই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা