kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কঠিন পরীক্ষা দিয়েই মেয়েদের ক্রিকেটে সোনা

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কঠিন পরীক্ষা দিয়েই মেয়েদের ক্রিকেটে সোনা

পোখারা থেকে প্রতিনিধি : ম্যাচের শেষটা পেন্ডুলামের মতো দুলছিল। শুরুতে উইকেট হারিয়েও শ্রীলঙ্কা একটা সময় ড্রাইভিং সিটে চলে যায় বাঁহাতি হরশিতা মাধবীর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে। তাতে বাংলাদেশের যখন ম্যাচটাও হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম তখনই জাহানারা আলম বোলিংয়ে এসে ফিরিয়ে দেন তাঁকে। সেই জাহানারাই শেষ ওভারে ৭ রান রুখে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জিতে বাংলাদেশের মেয়েদের জিতিয়েছেন ক্রিকেটে দক্ষিণ এশীয় গেমসের প্রথম সোনা।

পোখারায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে ব্যাটিংটা মনমতো হয়নি বাংলাদেশের। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলা গিয়েছিল মাত্র ৯১ রান। ম্যাচটা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায় সে কারণেই। ব্যাটিংয়ে নিগার সুলতানা ২৯ করে নট আউট থাকেন। আর কেউই ২০-এর ওপর করতে পারেননি। মাঝখানে এক ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে বড় স্কোরের আশাটা আসলে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। কিন্তু এই রান তাড়া করতে নেমেই শ্রীলঙ্কা উইকেট হারায় দ্বিতীয় ওভারে। ১১ রানে পড়ে তাদের দ্বিতীয় উইকেট, ১৪ রানে তৃতীয়টি। তাতে ৯১ ছোঁয়া তাদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেখান থেকে দলকে টেনে বের করেই ফেলেছিলেন মাধবী, কিন্তু অন্য পক্ষে জ্বলে ওঠেন জাহানার। সেই ম্যাচই আবার অনিশ্চয়তায় দোলে লঙ্কানদের ২৮ বলে ৩০ রান প্রয়োজন যখন। সেখান থেকে ১৮ বলে ১৬ হয়ে যখন লক্ষ্য ১১-তে নেমে আসে ১২ বলে। তখন আবারও মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের কিছু করা প্রয়োজন। সেটাই করেন নাহিদা আক্তার। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই নেন উইকেট। তাতে এই ওভারে আর চড়াও হওয়া সম্ভব হয় না লঙ্কানদের। তবু শেষ ওভারে যখন ৭ প্রয়োজন হয়, টি-টোয়েন্টিতে সেই ম্যাচ ঝুঁকে থাকে ব্যাটিং সাইডের দিকেই। তবে অন্য প্রান্তে জাহানারার মতো আত্মবিশ্বাসী কেউ থাকলে ভিন্ন কথা। ম্যাচ শেষে বলছিলেন এই পেসার, ‘আমি আসলে ৭ রান নয়, ৬ বলে ওদের ৫ দরকার, এমন একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বোলিং করেছি। আর তাতে আমি সফল।’ ক্যামেরার বাইরে এই জাহানারার উচ্ছ্বাসই আবার অন্য রকম। খেলা শেষে টিম ম্যানেজমেন্ট, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তারা মাঠে ছুটে আসতেই বলছিলেন, ‘দেখলেন তো, বিপদে সব সময়ই পাবেন জাহানারাকে।’

মেয়েদের ক্রিকেট দল এর আগে দুইবার এশিয়ান গেমসেরও ফাইনাল খেলেছে, তবে দুবারই জিতেছে রুপা। এবার দক্ষিণ এশীয় গেমসের প্রথম চ্যালেঞ্জটাই জিতে নিয়েছে তারা। দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন সিরিজ এবং আইসিসির টুর্নামেন্টের বাইরে নেপালে এই আসরটাও যে ভীষণ উপভোগ করেছেন সেটাও বলেছেন অধিনায়ক সালমা খাতুন, ‘আমাদের মেয়েদের কিন্তু সারা বছর খুব বেশি ম্যাচ খেলা হয় না। তো দক্ষিণ এশীয় গেমসে খেলার এই সুযোগটাকে আমরা গুরুত্ব দিয়েই নিয়েছি। আর গেমসে একটা সোনার পদকের মর্যাদা তো আলাদা তাই না।’ তা অবশ্যই গতবার বাংলাদেশে পুরো আসরে মাত্র চারটি সোনা নিয়ে শেষ করেছি। এবার অনিশ্চয়তার মাঝে ক্রিকেটাররাই কিন্তু স্বস্তি দিয়েছিলেন ছেয়ে ও মেয়েদের বিভাগে দুটি সোনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পোখারায় কাল মেয়েরা সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে কঠিন পরীক্ষায় পড়লেও ঠিক উতরে গেছেন। নিজেদের এই পারফরম্যান্সকে তাই বাহবাই দিয়েছেন অধিনায়ক, ‘উইকেটটা ছিল ভেজা। শুরুতে ব্যাটিং করাটা সহজ ছিল না আমাদের জন্য। ৯১ রানে ম্যাচটা জিতে বের হওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ভীষণ প্রয়োজন ছিল। সেটাই আমরা করতে পেরেছি।’ এই কঠিন ম্যাচ জেতার আনন্দ যে কতটা কাল জয়ের পর জাহানারা, কোবরা, ফাহিমা, সানজিদাদের পতাকা হাতে উদ্দাম ছোটাছুটিতেও তা বোঝা গিয়েছিল পুরোপুরি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা