kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোমানই অনুপ্রেরণা

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কিছুদিন আগে এশিয়া কাপের সোনা জিতে ফিরে রোমান সানা ভীষণ আলোচনায় ছিলেন। সেটা শুধু তাঁর এশিয়া কাপ কীর্তিতে নয়, বরং ক্রিকেটের চেয়ে অন্য খেলার সাফল্যকে যে একটু কম মূল্যায়ন করা হয় সে নিয়ে তাঁর অভিমান প্রধানমন্ত্রীকেও ছুঁয়ে গিয়েছিল। এর কিছুদিন আগেই রোমান বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিক যোগ্যতা অর্জন করেছেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছেন ব্রোঞ্জ। এর পরপরই ওই এশিয়া কাপ সোনা। রোমান যেন উড়ছিলেন সাফল্যের ডানায়। কিন্তু এই তরুণের মুখ ছিল ভার। তাঁর এই অর্জনের যথার্থ মূল্যায়ন হচ্ছে না মনে করে।

এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের একটা বড় অংশেরই কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন রোমান, যাঁরা তাঁর মতোই দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেও ক্রিকেটের জোয়ারে চাপা পড়ে থাকেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী রোমানের সেই ভুল ভাঙিয়েছেন। তাঁকে গণভবনে ডেকে নিয়ে নিজ হাতে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন। রোমান নিজেও আবার আর্চারিতে মন দিয়েছেন তৃপ্তি নেই। সেই তৃপ্ত রোমানকেই কাল দেখা গেল পোখারায় দক্ষিণ এশীয় গেমসে কেমন রাজার মতো দীপ্যমান। যে সোনার জন্য হাহাকার, চোখের জল, ঘাম-শ্রমের শেষ নেই। রোমান তাই কেমন অনায়াসে তুলে নিলেন, যেন এই মুকুটটা তাঁরই জন্য। এক দিনে তিনিই কাল দুটি সোনা এনে দিয়েছেন দেশকে। আজ ত্রিমুকুট পূরণ করার অপেক্ষায়। গেমস ইতিহাসের এর আগে একমাত্র সাঁতারু মোশাররফ হোসেনই এক আসরে সবচেয়ে দুটির বেশি সোনা জিতেছিলেন। রোমান এবার সেই কিংবদন্তিরই অনুসারী। 

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন তারকা তিনি। এসএ গেমসেও এসে দেখালেন কেন তিনি সেরা। রোমান এই গেমসের মুকুট পরতে পারতেন গত আসরেই। সেসময়ও ফর্মেই ছিলেন তিনি। কিন্তু হানা দেয় ইনজুরি। দেশের এক নম্বর আর্চার হয়েও তাই দলে থাকা হয়নি তাঁর। সে আসরে কেবল দুটি রুপা জিতেই শেষ করে বাংলাদেশ। কিন্তু আরো অনেক ক্রীড়াবিদের মতোই রোমানের এই এসএ গেমস স্বপ্নটা মরে না বরং আরো তীব্র হয়। এর মধ্যে নিজেকে অলিম্পিয়ানদের কাতারে নিয়ে যাওয়া, বিশ্ব আর্চারিতে নিজের অবস্থান পাকা করার পর দক্ষিণ এই আসরে সোনার হাসি হাসার স্বপ্নটা তাঁর একটুও কমজোরি হতে পারে না, ‘দক্ষিণ এশীয় গেমস আমাদের এই অঞ্চলের অলিম্পিকের মতো। এটা নিয়ে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে উন্মাদনা উত্তেজনার শেষ নেই। মানি, এই সোনার চেয়েও দামি অলিম্পিকের একটা কোটা, কিন্তু এর মূল্যায়ন আর সম্মানও আলাদা। আজ এখানে সোনা জিততে পেরে তাই আর সবার মতোই বা তার চেয়েও বেশি খুশি। বেশি খুশি এই কারণে যে গতবার ইনজুরির কারণে আমার স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। এবার তা খুব ভালোভাবেই পেরেছি।’ এসএ গেমসে এই মুহূর্তটা সঙ্গী করতে চেয়েছেন বলেই গত মাসে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরেও মরিয়া ছিলেন না, বলেছিলেন ‘এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে যাচ্ছি এসএ গেমসের প্রস্তুতি নিতে।’ তাঁর সেই প্রস্তুতি একটুও বৃথা যায়নি। ভারত না থাকাতেও এই অর্জনের মূল্য কমাতে একটুও রাজি নন তিনি। তাঁর হয়ে বলেছেন মার্টিন ফ্রেডরিখও, ‘ঠিক যে নকআউট লড়াইটা হয় নিজেদের মধ্যে। কিন্তু স্কোরের একটা ব্যাপার থাকে। রোমান এখানে যে স্কোর করেছে আমার মনে হয় ভারতীয়রা থাকলেও তাদের এটা মোকাবেলা করা ভীষণ কঠিন হতো।’ দলে রোমানের সঙ্গী তামিমুল ইসলাম আর আব্দুল হাকিমেরও স্বপ্নপূরণ এসএ গেমসের সোনায়। তামিম এর আগে এশিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সের রুপা জিতেছেন, সোনা জিতেছেন জুনিয়র কমনওয়েলথ আর্চারিতে। কিন্তু এই এসএ গেমসের সোনাটাকেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘গেমস অনেক বড় ব্যাপার। এখানে আমাদের প্রতিটি সোনা দেশকে অনেক বেশি বিজ্ঞাপিত করে। গতবার গুয়াহাটিতে আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা সত্ত্বেও পারিনি। তবে এবার আর আমরা হতাশ করিনি কাউকে।’ আর্চারি ফেডারেশনের সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন একে একে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছিলেন সবাইকেই। দেশে আর্চারির পথচলা শুরুর পর রোমানের অলিম্পিক কোটার পর এ দিনটাকে সবচেয়ে উজ্জ্বল মনে হয়েছে তাঁর কাছেও। ‘আর্চারিকে ধীরে ধীরে আমরা যে অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, আজ সেই দিন আমার মনে হচ্ছে। আমার আজ তাই আসলে খুশির শেষ নেই। সত্যি বলতে আমরা সবাই একটা পরিবারের মতো এখানে কাজ করেছি। এখানে কোচদের অবদান আছে, পৃষ্ঠপোষকরা আছেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি সঠিক পরিকল্পনায় খেলাটিকে এগিয়ে নিতে।’ তারই ফসল রোমান, ইতি আর গতকালের সোনামুখ সব আর্চাররা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা