kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাকিস্তান সফর নিয়ে এ সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাকিস্তান সফর নিয়ে এ সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিয়ের পাকা কথা হয়নি অথচ অতিথি আপ্যায়ন দুপুর না রাতে, সে নিয়ে আলোচনা। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর নিয়ে যেন ঠিক সেই অবস্থা। নিরাপত্তাহীনতার ভয় কাটিয়ে আগামী মাসে মুশফিক-তামিম-মুস্তাফিজরা পাকিস্তানে যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কিনা দিবারাত্রির টেস্ট খেলার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)!

বিসিবি সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি; আবার উড়িয়েও দেয়নি। বরং আগের মতোই সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘দিবারাত্রির টেস্টের প্রস্তাব বিবেচনা করার আগে আমরা অপেক্ষা করছি সরকারের ছাড়পত্রের। কারণ আপনারা জানেন, পাকিস্তান সফরে নিরাপত্তার একটি বিষয় সব সময় থাকে। সরকারের অনুমোদন তাই লাগবে আমাদের। রাত-দিন তো পরে, আগে আমাদের দেখতে হবে এই সফরে যেতে পারছি কি না। সে জন্য সরকারের প্রতিবেদনের গুরুত্ব আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি।’ তা সেই সরকারি নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল তো পাকিস্তান থেকে ফিরেছে অনেক দিন। তাঁদের রিপোর্ট এখনো বিসিবির কাছে পৌঁছায়নি। যে কারণে দুই টেস্ট ও তিন টি-টোয়েন্টির সফরের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় বিসিবি। তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খুব শিগগিরি সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন, ‘আগামী জানুয়ারিতেই তো আমাদের পাকিস্তান যাওয়ার কথা। খুব বেশি সময় তাই নেই। আশা করছি, এ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারব। পাকিস্তান সফরে যাব কি না, সেটি জানাতে পারব। এরপর দিবারাত্রির টেস্টের প্রস্তাব নিয়ে ভাবা যাবে।’

 

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য ভাবছে, বাংলাদেশ এ সফরে যাবে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের জাতীয় নারী দল এবং ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের পাকিস্তান সফরে যাওয়ায় পিসিবি আরো বেশি আশাবাদী। যে কারণে সফরে দুই টেস্টের মধ্যে করাচির খেলাটি গোলাপি বলে দিবারাত্রির টেস্টের প্রস্তাব দিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য অমন ভাবনা বলে জানান পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি, ‘টেস্টে দর্শকসংখ্যা ক্রমশ কমার যে সমস্যা, সেটি ঠেকানোর জন্যই আমরা দিবারাত্রির টেস্ট খেলা নিয়ে ভাবছি। সে কারণেই বাংলাদেশকে অমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, নিজেদের মাঠের প্রতি সিরিজে অন্তত একটি করে দিবারাত্রির টেস্ট রাখতে।’

২০০৯ সালে পাকিস্তান সফররত শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের ওপর গ্রেনেড ও রকেট লঞ্চার নিয়ে হামলা করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা। এরপর দীর্ঘদিন সে দেশ সফরে যায়নি কোনো ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে অবস্থা কিছুটা পাল্টাচ্ছে। তবে এ সময়ে বাংলাদেশ নারী দল এবং বয়সভিত্তিক দল পাঠালেও পুরুষদের জাতীয় দলকে পাকিস্তানে খেলতে পাঠায়নি কখনো। সে জন্য বিসিবিকে আর্থিক জরিমানা পর্যন্ত দিতে হয়েছে পিসিবিকে।

তবে আগামী জানুয়ারির সফরের ব্যাপারে বিসিবির মনোভাব এখন অনেকটাই ইতিবাচক। দুই টেস্ট এবং তিন টি-টোয়েন্টির দুটি আলাদা সিরিজের সূচি রয়েছে। বিসিবি প্রস্তাব দিতে পারে, শুধু টি-টোয়েন্টি সিরিজ পাকিস্তানে খেলার। টেস্ট সিরিজটি নিরপেক্ষ ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতেই খেলতে চায় বোর্ড। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে চায় না বিসিবি। দিবারাত্রির টেস্টের মতো এই দুই ভাগে বিভক্ত সফর নিয়েও সরকারি প্রতিবেদনের কথাই সামনে নিয়ে আসেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন, ‘সব নির্ভর করছে সরকারি প্রতিবেদনের ওপর। এ সপ্তাহেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা