kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গ্যালারি থেকে মাঠে

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্যালারি থেকে মাঠে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রিয় ফুটবলার আর প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটান তাঁরা। গ্যালারিতে আসেন ঢোল-বাদ্যি নিয়ে। সেই সমর্থকরাই হয়ে গেলেন ফুটবলার! তাঁদের সমর্থন দিতে হাজির প্রিয় ক্লাবের খেলোয়াড়, কোচ, এমনকি শীর্ষ কর্তারাও। বাংলাদেশ ফুটবলে এমন অভিনব কিছুই হলো গতকাল বসুন্ধরা কিংস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। বসুন্ধরা কিংসের অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা প্রীতি ম্যাচ খেললেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের ফ্যান ক্লাবের সঙ্গে। তাতে ১-০ গোলের জয় বসুন্ধরা কিংসের। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।

জয়-পরাজয় ছাপিয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে থাকছে দেশের ফুটবলে নতুন ধারা নিয়ে আসা বসুন্ধরা কিংস ও সাইফ স্পোর্টিংয়ের এই উদ্যোগটি। এমন ম্যাচ আয়োজন করতে পেরে খুশি বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান, ‘সত্যিই আমি অভিভূত। সমর্থকদের মধ্যে ম্যাচ হবে জানতে পেরে আট জেলা থেকে আমাদের ৭০ জন সমর্থক চলে এসেছেন ক্লাবে। রীতিমতো উৎসব ছিল ক্লাব চত্বরে। ছোটবেলায় আমরা আবাহনী ও মোহামেডানের সমর্থকরা দুই ভাগ হয়ে অনেক ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এমন উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের সমর্থকদের ম্যাচ হয়েছে বলে জানা নেই আমার। সম্প্রীতি বাড়াতে আর বৈচিত্র্য আনতে এমন উদ্যোগ বসুন্ধরা কিংসের।’

বসুন্ধরা কিংস ও সাইফ স্পোর্টিং দুই দলই গড়া হয়েছে নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে। বসুন্ধরার মতো সাইফ স্পোর্টিং ফ্যান ক্লাবের দলেও ছিলেন ছয়-সাতটি জেলা থেকে আসা সমর্থকরা। ৭০ মিনিট তাঁদের খেলা দেখে মনে হয়েছে যত্ন নিলে এখান থেকেও উঠে আসতে পারেন ভবিষ্যতের কেউ। সেই খেলোয়াড়দের দিকে নজর রাখার কথা জানালেন ইমরুল হাসান, ‘আমার কয়েকজনকে ভালো লেগেছে। কোচ, টেকনিক্যাল স্টাফরাও খেয়াল রাখছেন। তেমন ভালো মানের হলে বসুন্ধরার জুনিয়র দলে রাখা যেতেই পারে কয়েকজনকে।’

সমর্থকদের অভিনব এই ম্যাচ উপভোগ করতে এসেছিলেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের কর্তারাও। ভিআইপি গ্যালারিতে ইমরুল হাসানের পাশে বসেই ম্যাচ দেখেছেন সাইফের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। সমর্থকদের এমন উচ্ছ্বাস আর আয়োজনের অভিনবত্বে মুগ্ধ তিনি, ‘ব্যতিক্রমী এই আয়োজন প্রশংসার দাবিদার। সাইফের হয়ে সব কিছু করেছে আমাদের সমর্থকরাই। বসুন্ধরা আর আমরা বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন দল। এ ধরনের নতুন কিছু আমাদেরই করতে হবে। তাতে দলগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি দৃঢ় হবে আরো।’ সম্পর্ক দৃঢ় করতেই হয়তো সমর্থকদের হয়ে খেলতে নেমে পড়েছিলেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ।

বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলতে সিলেট থেকে এসেছিলেন অপি। বেশ কয়েকটি সুযোগ মিসের পর বিরতির আগে জয়সূচক একমাত্র গোলটি তাঁরই। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত অপি, ‘বসুন্ধরা কিংসের খেলা ভীষণ উপভোগ করি আমি। সেই ক্লাবের খেলোয়াড়, কোচ আর কর্তাদের সামনে খেলার সুযোগ পাওয়াটা সেরা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে আমার জীবনে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা