kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাঠের ক্রিকেটের লড়াইয়ে চোখ

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঠের ক্রিকেটের লড়াইয়ে চোখ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু বিপিএল—নামেই নতুনত্বের ছোঁয়া। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর স্মারক এ আসরের দলগুলোর গঠনপ্রণালীও ভিন্ন। আর আজ তো টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্‌যাপনের সাত রং উড়িয়ে নতুন ল্যান্ডমার্কও গড়তে যাচ্ছে বিপিএল। মানুষ নির্ঘাৎ মনে রাখবে জমকালো এ রাতটির কথা। তবে সব আয়োজন যে বিষয়টিকে আবরণ বানিয়ে, সেই ক্রিকেটের মান কেমন হবে এবার? দিনশেষে ২০১৯-এর আসরের ময়নাতদন্ত হবে এই ক্রিকেটের মান দিয়েই।

সামনে হাঁ করে আছে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি ২০২০। সিডনির এ আসরের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াডের রূপরেখাও তৈরি হয়ে যাবে মধ্য জানুয়ারির ফাইনালের মধ্য দিয়ে। জাতীয় দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আগেই এমন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। গতকাল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের কণ্ঠেও একই সুর, ‘আমাদের যতগুলো প্লেয়ার আছে, তারা সবাই কোনো না কোনো দলে আছে। তাই এই বিপিএলটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিপিএলের পর কিছু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচও আছে। সব ম্যাচেই পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু জায়গায় আমাদের ঘাটতি আছে। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। টিম ম্যানেজমেন্টসহ আমরা সবাই চাচ্ছি সেসব জায়গায় কিছু প্লেয়ারের পারফরম্যান্সে যেন উন্নতি হয়। এই বিপিএলে ওই জায়গাগুলোর ওপর বেশি নজরদারি করব। আর এই আসর থেকে যদি কিছু খেলোয়াড় পাই, তাহলে সেটা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্টই হবে।’

এদিকে গতকালই একটি খবরে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টির বাজারদর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক কিছু আলোচনা হয়েছে। কারণ, মোট ২৩ জনের নাম থাকলেও তাঁদের কাউকেই যে ডাকেনি পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) কোনো দল! যদিও এখানে তামিম ইকবাল কিংবা মাহমুদ উল্লাহর কোনো ভূমিকা নেই। ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল শুরু হবে। ওদিকে তামিমের জিম্বাবুয়ে সিরিজ রয়েছে মার্চে। স্বভাবতই বাংলাদেশের শীর্ষ তারকাদের সার্ভিস পাওয়া যাবে না জেনেই কাউকে ডাকেনি পিএসএলের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। আর ঠিক এ কারণেই ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়ানোর মঞ্চ এবারের বিপিএল। তাতে প্লেয়ার্স ড্রাফটে ‘দরপতন’ হলেও ১১ ডিসেম্বর থেকে বিপিএলের তিন ভেন্যুতে নিজেদের নিংড়ে দেওয়ার চেষ্টায় কমতি থাকার কথা নয় ক্রিকেটারদের। সে তিনি মহাতারকা হন কিংবা উঠতি কেউ।

এদিকে ভারত সফরের পর ঘরের মাঠের উইকেট নিয়ে বিস্তর সমালোচনার মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘরের মাঠের এমনতর উইকেটে খেলে যে বিদেশে ভরাডুবিই অমোঘ নিয়তি, সে ব্যাপারে কোনো দ্বিমত শোনা যায়নি কোথাও। তো, বিপিএলে কি উইকেটের চরিত্র বদল হবে? মিনহাজুল আশা করছেন, ‘আমাদের এখানে একই মাঠে একনাগাড়ে অনেক ম্যাচ হয়। তাই হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সেভাবে খেলা হয় না। খুব বেশি বৈচিত্র্যময় উইকেটে খেলাও সম্ভব হয় না এ কারণে। তবে আমরা অবশ্যই চাই স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হোক। একেক জায়গায় একেক ধরনের উইকেট হোক। যাতে ক্রিকেটাররা ভিন্ন ভিন্ন উইকেটে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস গড়তে পারে। এবার ঠাণ্ডা থাকবে। রাতের কুয়াশাও একটা ফ্যাক্টর হবে। এতে বোলারদের জন্য কাজটা একটু কষ্ট হয়ে যাবে।’

প্রতিকূলতাকে জয় করেই তো সামর্থ্যের পরবর্তী ধাপে পৌঁছায় সফল মানুষেরা। এবারের বিপিএল সে সুযোগও দিচ্ছে ক্রিকেটারদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা