kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নিজেকেই জন্মদিনের উপহার দিলেন ফাতেমা

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিজেকেই জন্মদিনের উপহার দিলেন ফাতেমা

কাল ২০-এ পা রেখেছেন ফাতেমা মুজিব। ফেন্সিংয়ের বন্ধুদের অনেকেই তা ভুলে ছিলেন। ফাতেমা ঠিক করেছিলেন নিজেও সে প্রসঙ্গ তুলবেন না। এদিন যে আরো বড় কিছুর দিন তাঁর। প্রথমবারের দক্ষিণ এশীয় গেমসে খেলতে নামছেন। ২০১৩-তে ফেন্সিং শুরু করার পর জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চারবার। কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বা দেশের বাইরে এসে খেলা এই প্রথম। এদিন তাই জন্মদিন উদ্‌যাপন নিয়ে ভাবেন কী করে! ‘ভেবে রেখেছিলাম যদি ভালো কিছু করতে পারি তাহলেই বন্ধুদের জন্মদিনের কথা বলব। না হলে একবারে ভুলেই যাব।’

বিকেলে সবচেয়ে বড় উৎসবটাই হলো ফাতেমার। সংবাদকর্মীদের ভিড়ে, টিভি ক্যামেরার সামনেই দিলেন তাঁর জন্মদিনের খবরটা। গলায় তখন জ্বলজ্বলে সোনার মেডেল। ২০০১ সালে মাকে হারিয়েছেন ফাতেমা। বেঁচে থাকলে তিনি কি আর ভুলতেন এই দিনটা। এটা-সেটা রান্না করে মেয়ের হাসিমুখটাই সবচেয়ে বেশি প্রার্থিত থাকত মায়ের কাছে। মাকে হারানোর পর ভাইদের স্নেহে মানুষ ফাতিমা। বড় ভাই সাদ্দাম মুজিব বাংলাদেশে ফেন্সিং শুরুর দিককার খেলোয়াড়। সেই ভাইয়ের আগ্রহেই এরপর ফেন্সিং নিয়ে মায়ের কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করা। অলিম্পিকে প্রাচীনতম খেলার একটি এই ফেন্সিং। তরবারি চালনার খবর বাংলাদেশের মানুষও জানেন। কিন্তু এমন নভোচারীদের পোশাকে যে খেলাটা হয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, তা বেশির ভাগের কাছেই অজানা। ফাতেমা ভালোবেসে ফেললেন এই খেলাটাকেই, ‘এটা একটা রাজকীয় খেলা। আর যেহেতু ফুল ড্রেস পরে খেলা হয়, তাই ভয়েরও তেমন কিছু থাকে না। ভাইয়া আমাকে বাড়িতেই খেলাটা শিখিয়েছেন। এখনো সুযোগ পেলে বাড়িতে আমরা অনুশীলন করি। বলতে গেলে ফেন্সিংয়ে একরকম মজেই গেছি আমি।’ সেই খেলায় কিভাবে আরো নিজেকে এগিয়ে নেওয়া যায় সব সময় সেটাই শুধু ভেবেছেন এত দিন। দক্ষিণ এশীয় গেমস তাঁর জন্য হয়ে আসে বড় এক মঞ্চ।

আর নিজের এই প্রথম আসরেই কি দারুণভাবেই না নিজেকে জানান দিলেন এই ফেন্সার, ‘নিজের সামর্থ্যের ওপর আমার সব সময়ই আস্থা ছিল। আজ নেপালের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচের আগেও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কারণ আমি খুব ভালো খেলেই ফাইনালে উঠেছিলাম।’ লিগ পর্বে শ্রীলঙ্কান ফেন্সারকে হারান। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে এরপর ভারতের দুই শক্ত প্রতিপক্ষকেও বিদায় করেছেন। ফাইনালে স্বাগতিক নেপাল ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু লড়াইয়ের খেলায় আত্মবিশ্বাসটা এগিয়ে দেয় অর্ধেক। ১৫-১১ ব্যবধানে ফাতেমাই তাই হেসেছেন শেষ হাসি। লড়াইটা আছে আসলে ফাতেমার রক্তেই। বাবা যে মুক্তিযোদ্ধা। দেশকে জেতানোর গৌরব তাঁর চেয়ে তাই আর কে ভালো বুঝবেন, ‘আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আনন্দের দিন কোনো সন্দেহ নেই। কারণ আজ আমি প্রথম আন্তর্জাতিক সোনা জিতলাম। দেশের হয়ে এটা জিতলাম, তাই আজ আমার সবচেয়ে গর্বের দিনও এটা।’ ফাতেমার এই সাফল্যে অপ্রচলিত এই খেলায়ও এখন নিশ্চয় নজর ঘুরবে ক্রীড়ানুরাগীদের। ফেন্সিংয়ে যে পোশাকটি পরে খেলতে হয় তা যথেষ্টই ব্যয়বহুল, আবার খুব দ্রুতই নষ্ট হয় তা। ২০১৪ এশিয়ান গেমসে তো যথার্থ পোশাক না থাকাতে খেলতেই পারেননি বাংলাদেশের ফেন্সাররা, কাল সাফল্যের পর হুমায়রাও তাই আবেদন করেছেন, ‘আমাদের ফেন্সিংয়েও অনেক কিছুর প্রয়োজন আছে। এখন থেকে সেগুলোতে নজর দিলে আমরা এশিয়ান পর্যায়েও ভালো কিছুর লক্ষ্য ধরে এগোতে পারব।’ এই গেমসে সেবার ইভেন্টে ফাতেমার সোনার আগে কাল ছেলেদের ফয়েল ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন রুবেল মিয়া। তার আগের দিন আসে তিনটি ব্রোঞ্জ, জেতেন মহিমা আক্তার, ইফতেখার আহমেদ ও মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা