kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সোনার আশা জাগিয়ে আরদিনার রুপা

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনার আশা জাগিয়ে আরদিনার রুপা

কাঠমাণ্ডু থেকে প্রতিনিধি : গতবার রাইফেল ইভেন্টে ব্যর্থতার পর পিস্তলে শ্যুটিংয়ের মান রেখেছিলেন শাকিল আহমেদ। সেই আতিকুর রহমান, আব্দুস সাত্তার নিনিদের পর সেটাই পিস্তলে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য ছিল দক্ষিণ এশীয় গেমসে। পিস্তলে মেয়েদের মধ্যে আতিক, নিনির মতো কেউ নয়। কাল ইতিহাস হতে পারতেন আরদিনা ফেরদৌস এসএ গেমসে প্রথম সোনাজয়ী হিসেবে। কিন্তু আব্দুল্লাহেল বাকীর মতো এদিনও ভাগ্য বিড়ম্বিত। সোনার খুব কাছে গিয়েও শেষটা ভালো করতে পারলেন না, ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে জিতলেন রুপা।

আগের দিন বাকী ফাইনালের শুরু থেকেই ভালো করছিলেন। আরদিনা এদিন শুরু করেন পেছন থেকে। কিন্তু একে একে পেছনে ফেলতে থাকেন শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের দুই শ্যুটারকে। একপর্যায়ে তিনজন ভারতীয়, আরদিনা আর এক পাকিস্তানি শ্যুটার কেবল। দারুণ মেরে ভারতীয় অনুরাজ সিং আর এশা সিংকেও পেছনে ফেলে দেন আরদিনা। পাকিস্তানের আন্না ইবতিসাম ও ভারতের শ্রী নিভেথা আর আরদিনার মধ্যে তখন পদকের লড়াই। আরদিনা এবারও ছন্দে। তাতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন। পেছনে পড়ে যান পাকিস্তানি, তিনিই জেতেন ব্রোঞ্জ। ভারতের শ্রীনিভেথা ও আরদিনার মধ্যে সোনার লড়াই তখন। যদিও এক জায়গা থেকে লড়েননি দুজন। আরদিনা ০.৩ পয়েন্ট পিছিয়ে শ্রীনিভেথার থেকে। শেষ রাউন্ডে সেই ব্যবধান পেরিয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু কী হলো, সবচেয়ে বাজে শট দুটি মারলেন আরদিনা এই সোনার লড়াইয়ে। শ্রীনিভেথা যেখানে দুটি শটই মারলেন ১০-এর ওপরে। সেখানে আরদিনার দুটি শটই ৯-এর নিচে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। তবু প্রতিযোগিতার শেষে আরদিনার হাসি। এবারের এসএ গেমসেই যে শ্যুটিংয়ে বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তিগত রুপা এটি। পিস্তল শ্যুটিংয়ে মেয়েদের বিবর্ণ ইতিহাস সামনে আনলেও কাল আরদিনার সোনার লড়াই ছিল গর্ব করার মতো। কাল এই তরুণীর কথাতেও তা ফুটে উঠেছে, ‘আন্তর্জাতিক আসরে এটা আমার প্রথম ব্যক্তিগত রুপা। ভারতের দুজনকে আমি পেছনে ফেলে পদকের লড়াইয়ে গেছি। এটি কম কথা নয়। ভারতের যে মেয়েটা কোয়ালিফিকেশনে প্রথম হয়েছে। ও কিন্তু কিছুই জিততে পারেনি। তাই ওদের মতো সুযোগ-সুবিধা, বেশি বেশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেখিয়েছি আমার ফাইনাল টেম্পারামেন্টও কম না। হ্যাঁ শেষটা মনমতো হয়নি। কিন্তু যা হয়েছে তা নিয়েও আমি সন্তুষ্ট।’

গতবার পিস্তল ইভেন্টেই শ্যুটিংয়ের মান বেঁচেছিল। এবারও ব্যক্তিগত সোনা না হলেও প্রথম রুপাটা এলো পিস্তল ইভেন্টেই। শাকিল আহমেদের সঙ্গে নিজের মিশ্র ইভেন্ট এবং শাকিলের ব্যক্তিগত ইভেন্টটি নিয়েও এখন আশাবাদি আরদিনা, ‘সোনার এই আক্ষেপটা আমার পরের ইভেন্টে যেন পূরণ করতে পারি, সবার কাছে সেই দোয়াই চাই। আর পিস্তলে দীর্ঘদিন আমাদের সাফল্য ছিল না। গতবার শাকিল তা শুরু করেন, কাউকে না কাউকে তো শুরুটা করতে হয়। সেই পথ ধরেই এবার এসএ গেমসে মেয়েদের ইভেন্টেও রুপা এলো। হয়তো আরো ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য পিস্তলে। গুয়াহাটিতে সেই এসএ গেমসেই হয়তো শাকিলের সঙ্গে আরদিনার অপেক্ষাটাও মিটত। কিন্তু ফাইনাল চলার সময় পিস্তলের ব্যাটারি ডাউন হয়ে যাওয়ায় সেই ফাইনাল আর পুরোই করতে পারেননি তিনি। এবার অন্তত সোনার লড়াইয়ে থেকেই সেই আক্ষেপ মিটিয়েছেন কুষ্টিয়ার এই শ্যুটার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা