kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাংলাদেশ নিয়ে অনেক স্মৃতি নিক্সনের

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ নিয়ে অনেক স্মৃতি নিক্সনের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেন ওয়ার্নের আভায় যেভাবে ঢেকে গিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল, পল নিক্সনও তেমনি নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। কারণ বেশির ভাগ সময়েই যে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের জাতীয় দলে ঢোকার রাস্তার দরজাটা আটকে রেখেছিলেন জ্যাক রাসেল অথবা অ্যালেক স্টুয়ার্ট। ১৯টি ওয়ানডে আর একটি মাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই তাই সীমাবদ্ধ পল নিক্সনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিক্সন বয়সী বটের মতোই, খেলেছেন ২৩ বছর! কাউন্টি দল লিস্টারশায়ারের অধিনায়ক ছিলেন, শেষ ম্যাচে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে সুপার ওভারে কেন্টকে হারিয়ে শিরোপা জিতিয়ে রূপকথার মতোই ক্রিকেটকে জানিয়েছেন বিদায়। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কোচ হয়ে ঢাকায় এসেছেন সাবেক এই ইংলিশ উইকেটরক্ষক, প্রথম দিনের অনুশীলনে সবার সঙ্গে চেনাপরিচয়ের সৌজন্যতা সারার ফাঁকে জানালেন বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর বেশ কিছু স্মৃতির কথাও। আজ সিলেট থান্ডার্সের অনুশীলনে যোগ দেবেন দলের বোলিং কোচ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার ন্যান্টে হেওয়ার্ড।

নিক্সনের বয়স যখন ৩৬, তখন তাঁর টেস্ট খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, যদিও পরে সুযোগটা দেওয়া হয় ম্যাট প্রায়রকে। নিজে কখনো টেস্ট না খেললেও বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির আগে এমসিসি দলের সদস্য হয়ে ঢাকা ঘুরে যাওয়ার কথা শোনালেন নিক্সন, ‘অনেক আগে এমসিসি দলের হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলাম, টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির আগে। এমসিসি তখন টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার উপযোগী অবকাঠামো, কোচ ইত্যাদি বাংলাদেশের আছে কি না, সেসব খতিয়ে দেখছে। আমার মনে হয় এটা তাদের সেরা কাজগুলোর একটি, কারণ এখন বাংলাদেশ একটি গর্বিত ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ। আমাদের জন্যও সুবিধা হয়েছিল, কারণ ওখানে তো বল এতটা ঘোরে না। এখানকার কন্ডিশনে এসে খেলাটাও শিখতে পেরেছিলাম।’

বাংলাদেশের সঙ্গে নিক্সনের পরের দেখা বার্বাডোজে, ২০০৭ বিশ্বকাপে। নিক্সনের ক্যারিয়ারের একমাত্র বিশ্বকাপ। ম্যাচটার কথা ভালো করেই মনে আছে নিক্সনের, ‘ম্যাচটা ছিল বার্বাডোজে। সাকিব ও অন্য স্পিনাররা খুব ভালো বোলিং করেছিল। বেশ কঠিন ম্যাচ ছিল। আমি আর পল কলিংউড শেষ পর্যন্ত ছিলাম, ম্যাচটি জিতিয়ে এসেছিলাম। বাকিরাও ভালো করেছিল। বাংলাদেশ সব সময় লড়াই জমিয়ে তোলে। তারা সব সময় বাঘের মতোই লড়াই করে, এটা অসাধারণ।’

বাংলাদেশে খেলেছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন; তবে বাংলাদেশে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাটা এবারই প্রথম। বিপিএলে এর আগে কাজ করে গেছেন অনেক বিদেশি কোচই, নিক্সন এলেন এবারেই। এখনকার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে বেশ ভালোই ধারণা রাখেন এই ইংরেজ, ‘আমার মনে হয় লোকে খেলাটা সম্পর্কে এখন আরো গভীর ধারণা রাখে। খেলাটা এখন যে অবস্থায় গেছে, তাতে ৩৬০ ডিগ্রির চেয়েও বেশি! অনেক বিশ্লেষণ, প্রতিটি ম্যাচই আতশকাচের নিচে। কোচিং স্টাফের হাতে রাজ্যের পরিসংখ্যান, সবাই সবাইকে চেনে। ব্যাটসম্যানরা অনেক আগ্রাসী, তাঁদের হাতে রিভার্স সুইপ, স্লগ সুইপের মতো শট। সবার সব কিছু আছে। এ রকম সময়ে পরিকল্পনা করার সময় খুব সহজ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনে অদলবদল করা যায়। পরিকল্পনা হতে হবে সাবলীল, একমাত্র সঠিক দল থাকলেই সেটা সম্ভব।’ নিক্সনের জন্য সুসংবাদ এই যে দলে ক্রিস গেইল, লেন্ডল সিমন্স, রায়াদ এমরিটের মতো বেশ কয়েকজন ক্যারিবীয় আছেন, যাঁরা টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের পরিচিত মুখ। নাসির হোসেন, জুনায়েদ সিদ্দিকী, ইমরুল কায়েসদের ভরসায় যে ম্যাচ জেতা যাবে না, সেটা নিশ্চয় জেনেই এসেছেন নিক্সন!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা