kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গৌরি পেরেছেন, জুনায়না নয়

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গৌরি পেরেছেন, জুনায়না নয়

মাঝখানে লন্ডন থেকে এক মেয়ে এসে সাঁতারের সব আলো কেড়ে নিলেন—জুনায়না আহমেদ। দক্ষিণ এশীয় গেমসের এই আসরেও আছেন তিনি। কিন্তু জুনায়নাকে ছাপিয়ে সাতদোবাতো সুইমিং কমপ্লেক্সের আলো কেড়েছেন আরেক লন্ডনি কন্যা গৌরি সিং। এ আসরেই সাঁতারে নেপালকে প্রথম সোনা এনে দেওয়া গৌরি কাল দ্বিতীয় সোনাও জিতলেন ২০০ মিটার ব্যাক স্ট্রোকে। এর আগের ইভেন্ট ২০০ মিটার ইনডিভিজুয়াল মিডলেতে বাংলাদেশের হয়ে জুনায়না জিতেছেন ব্রোঞ্জ। আগের দিন গৌরির সঙ্গে ২০০ মিটারে ফ্রিস্টাইলে নেমেও হয়েছেন তৃতীয়।

গৌরি, জুনায়না দুজনই লন্ডনে থাকেন না শুধু, একে অন্যের পরিচিতও তাঁরা। জুনায়নার বাবা জুবায়ের আহমেদই কাল প্রতিযোগিতা শেষে বলছিলেন সে কথা, ‘গৌরির পরিবারের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। জুনায়না, গৌরির বন্ধুত্বও আছে। লন্ডনের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আমাদের দেখা হয়েছে।’ সেই গৌরি এবার দক্ষিণ এশিয়ার পুল মাতাচ্ছেন, কিন্তু জুনায়না পড়ে রইলেন আলোর পেছনে। তার কারণও জানালেন জুবায়ের, ‘গৌরির যেমন যত্ন নেয় ওর পরিবার আমি তা পারি না। ওর বাবা ডাক্তার, নর্থ লন্ডনে থাকেন, বেশ ধনী মানুষ। আমি ইস্ট লন্ডনে সাধারণ চাকরি করি। ওকে একটা ক্লাবে দেওয়াটাই আমার সামর্থ্যের মধ্যে পড়ে। গৌরির মতো নিজস্ব কোচ, স্পেশাল ট্রেনিং, অর্থ খরচ করা সম্ভব হয় না আমার মেয়ের পেছনে।’ গৌরিকে নিয়ে আলোচনা গত এসএ গেমসেই ছিল। নেপালের ১৩ বছরের এক কিশোরী পুল মাতাতে এসেছেন—এ নিয়ে কৌতূহল ছিল সবার। গৌরি সেই আসরে ঠিকই মান রেখেছিলেন নেপালকে গেমস ইতিহাসে সাঁতারে প্রথম ব্যক্তিগত রুপা এনে দিয়ে। এবার তো নেপালিদের সোনার আনন্দেই ভাসালেন তিনি। যে প্রতিশ্রুতি তাঁর গুয়াহাটিতে, এবার ঠিক সেভাবেই জ্বলে উঠলেন। এই গৌরিকে দেখে এখন অনুপ্রাণিত জুনায়নাও। তাঁর বাবাই বলছিলেন, ‘গৌরি গত এসএ গেমসটা করায় ও এবার খুবই আত্মবিশ্বাস নিয়ে সাঁতরাতে পারছে। জুনায়নার এটা প্রথম এসএ গেমস। সামনের আসরে নিশ্চয় ও-ও আরো ভালো করবে।’ সামনের আসরের আগেও গৌরির পরিবারের মতো করে জুনায়নাকে সমর্থন করা সম্ভব হবে না জানেন জুবায়ের আহমেদ। সোনার প্রতিশ্রুতি তাই তিনি দিতে পারেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারতে হলে ভারত সরকার বা সাঁতার ফেডারেশনই হয়তো ওই সাঁতারুর দায়িত্ব নিয়ে নিত। নেপাল, বাংলাদেশে তা সম্ভব হয় না। গৌরি সেই বাধা পেরিয়ে গেছে পরিবারের সমর্থনে, জুনায়নার তা সম্ভব হবে না। আগামী আসরের জন্যও প্রতিশ্রুতি নেই তাঁর সাঁতারে।

গতবার ব্রেস্ট স্ট্রোকে মাহফুজা খাতুন আলো জ্বেলেছিলেন প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে। এবার কে হবেন তাঁর উত্তরসূরি? জুনায়না প্রথম দুই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছেন। গতবার মাহফুজা সোনা জিতেছিলেন যে ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে, সেই ইভেন্টে কাল রোমানা আক্তার হয়েছেন পঞ্চম, সপ্তম হয়েছেন মুক্তি খাতুন। ভারতের এনি জেইন ১:১৩.৫০ সেকেন্ডে সাঁতরে নিয়েছেন মাহফুজার সোনা। গত আসরে সাত ব্রোঞ্জ জেতা মাহফিজুর রহমান এবার পদকের রং বদলাবেন কি, একে একে সেই ব্রোঞ্জগুলোও হারাচ্ছেন। কাল যেমন ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে হয়েছেন ষষ্ঠ, তাঁর চেয়ে ভালো করে পঞ্চম হয়েছেন আসিফ রেজা। আসিফ সাঁতরেছেন ২৩.০৪ সেকেন্ডে। সেখানে শ্রীলঙ্কার ম্যাথু আবেসিংহে ২২.১৬ সেকেন্ডে সাঁতরে জিতেছেন সোনা। এ ছাড়া কাল ২০০ মিটার ব্যাক স্ট্রোকে জুয়েল আহমেদ পঞ্চম হয়েছেন। ছেলেদের ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকেও পদকের লড়াইয়ে থাকতে পারেননি কেউ। আরিফুল ইসলাম চতুর্থ হয়েছেন ১.০২.৯৫ সেকেন্ডে সাঁতরে। এ ইভেন্টে প্রথম হওয়া ভারতের প্রেমা লিখিত সময় নিয়েছেন ১:০০.৪২ সেকেন্ড। অথচ এসএ গেমসের আগে ফ্রান্সে প্রায় দেড় বছর অলিম্পিক বৃত্তি নিয়ে প্রশিক্ষণে ছিলেন আরিফুল। তাঁকে ঘিরে এবার সোনার আশাই ছিল, সেখানে কোনো পদকই এনে দিতে পারলেন না তিনি তাঁর অন্যতম মূল ইভেন্টে। এই ইভেন্টেই বাংলাদেশের আরেকজন সুকুমার রাজ হয়েছেন পঞ্চম। কাল সাঁতারের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের তাই দুটি ব্রোঞ্জই, যেটা এনে দিয়েছেন ফয়সাল ও জুনায়না। এদিন মোট সাতটি ইভেন্টে ভারতই নিয়েছে পাঁচ সোনা, এক সোনা শ্রীলঙ্কার, নেপালের হয়ে গৌরির আরেকটি। বাংলাদেশের সোনা কেন এখনো রুপার দেখাও যে নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা