kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জমকালো উদ্বোধন বসুন্ধরার পৃষ্ঠপোষকতায়

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জমকালো উদ্বোধন বসুন্ধরার পৃষ্ঠপোষকতায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চোখ-ধাঁধানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বলিউড তারকা সালমান খান, ক্যাটরিনা কাইফ থেকে শুরু করে গায়ক সনু নিগম, কৈলাশ খের হয়ে বাংলাদেশের রকস্টার জেমস। বাজেটটাও তাই চোখ কপালে তোলার মতো। কিন্তু তা নিয়ে এতটুকু চিন্তিত নন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, ‘যেহেতু বঙ্গবন্ধুর নামে টুর্নামেন্ট, তাই বাজেট নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি না। আর এর পুরোটা বহন করবে স্পন্সর।’

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্পন্সর বসুন্ধরা গ্রুপ। খরচের পুরো দায়িত্বও তাদের। যে কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেটের টিভিস্বত্ব পাওয়া গাজী টিভি ও মাছরাঙা টেলিভিশনের পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল নিউজটোয়েন্টিফোরেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হবে সরাসরি।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন পরশু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন এ আয়োজনের। প্রস্তুতি পরিদর্শনে কাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ হওয়ার খবরও দেন তিনি, ‘ক্লাব হাউস আর গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ছাড়া টিকিট ছাড়ছি না। সঙ্গে মাঠের ভেতরে কিছু চেয়ার। ক্লাব হাউসের টিকিটের মূল্য এক হাজার টাকা। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড আড়াই হাজার আর মাঠের ভেতরে মঞ্চের সামনের টিকিট ১০ হাজার টাকা।’ সব মিলিয়ে ১০-১২ হাজার দর্শকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হবে। এর মধ্যে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা যে খুব বেশি টিকিট পাবেন না, সেটিও বলেছেন নাজমুল, ‘টিকিট নাই। এবার টিকিট পাওয়াটা খুবই কঠিন। কাউন্সিলরদের সৌজন্য টিকিট দিতে হয়। ক্লাবগুলোকে দিতে হয়। যে যে সংস্থা আমাদের ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত, এদের তো দিতেই হবে। মন্ত্রী-এমপি যাঁরা দেখতে আসবেন, তাঁদের দিতেই হবে। সাধারণ দর্শকদের জন্য হয়তো সাত-আট হাজার টিকিট থাকবে।’ আজ সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেটসংলগ্ন বুথ এবং ইনডোর স্টেডিয়ামের বুথে টিকিট পাওয়া যাবে।

সেই সোনার হরিণ টিকিট যাঁরা পাবেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখছে বিসিবি। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে জায়ান্ট স্ক্রিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখাবে বলে জানিয়েছেন সভাপতি, ‘টিকিটের চাহিদা এক লাখের ওপরে। আমরা তো খুব বেশি টিকিট দিতে পারব না। তাই সাতটি বিভাগে বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি দেখানো হবে। ঢাকা শহরে টিএসসিতে, গুলশান বা বনানী ক্লাব মাঠে, ধানমণ্ডি রবীন্দ্রসরোবরে দেখাচ্ছি। মিরপুরের দর্শকদের জন্য সিটি ক্লাব বা অন্য কোনো মাঠে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর আয়োজন করছি।’

মাঠের বাইরের আয়োজনের পাশাপাশি বিপিএলের মাঠের ক্রিকেটেও নজর রাখতে হবে বিসিবিকে। টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগেই সাবেক এক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সন্দেহভাজন হিসেবে। একই রকম ঘটনায় সাকিব আল হাসানের মতো মহাতারকা বহিষ্কার হওয়ার পর বিপিএলে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ দেখছেন না বোর্ড সভাপতি নাজমুল, ‘অ্যান্টি করাপশন ইউনিট তো আছেই। আর আমরা প্রত্যেক দলের সঙ্গে একজন করে দিয়ে দিয়েছি। এবার আমরা অনেক বেশি সিরিয়াস। এটি তো আগের থেকেই ছিল, (সাকিবের ঘটনার পর) আরো বাড়ছে।’ অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে স্বাধীনভাব কাজ করতে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে পুরোদমে প্র্যাকটিস শুরু করেছে এবারের বিপিএলে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। একাডেমির মাঠ প্র্যাকটিসের উপযোগী করে তোলার জন্য দুই দিন বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয়েছে ক্রিকেটারদের পদচারণা। প্রতিদিন দুই দফায় অনুশীলনে নিজেদের ঘষামাজা করছে দলগুলো। তবে একাডেমির মাঠ তো আর অত বড় নয়। তাই একটি দলের নেট থেকে বল চলে যায় আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজির সীমানায়। আবার চলাফেরার পথে দেখা হয়ে যায় ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটারদেরও। ১১ তারিখ থেকে নিঃসন্দেহে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফুলকি উড়বে মাঠে মাঠে। তবে মাঠের বাইরে তামিম ইকবাল কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন জাতীয় দলের সহযোদ্ধাই। আবার তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার এটাই সবচেয়ে বড় মঞ্চ জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও একই সুযোগ ঘটে। তবে বিপিএলের আকর্ষণ এ সম্মিলনে যোগ করে নতুন মাত্রা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা