kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডার্বি দেখা হলো না উইলিসের

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডার্বি দেখা হলো না উইলিসের

জন্ম : ১৯৪৯, মৃত্যু : ২০১৯

বব ডিলানের এতটাই ভক্ত ছিলেন যে রীতিমতো আইনি পথ মাড়িয়ে নিজের নামের সঙ্গে প্রিয় গায়কের নাম যুক্ত করেছিলেন বব উইলিস। প্রেম ও দ্রোহের কবি ডিলানের কলম ও কণ্ঠ বারবার সোচ্চার হয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, যুদ্ধবিরোধী সমাবেশে। এই বিদ্রোহী সত্তাটাই কি ভালো লাগত উইলিসের? সত্তরের দশকের ক্রিকেট ফুটেজ মানেই তো ঝাঁকড়া চুল মাথায় লম্বা রানআপে দৌড়ে আসছেন বব উইলিস। সাদা পোশাক, হাতে চকচকে লাল একটা বল। ক্রিকেটের রংদার সার্কাস ছিল তাঁর অপছন্দ, সে জন্যই বোধহয় ধারাভাষ্যকার হিসেবেও শেষ দিকে স্কাই টিভির প্রযোজকরা আর ডাকত না।

এই মৌসুমে ইস্টএন্ডে ম্যানচেস্টার ডার্বিটাও দেখা হলো না ম্যানসিটি ভক্ত উইলিসের। দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিতেই হলো টেস্টে ৩২৫ উইকেট নেওয়া সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ককে। তিন বছর আগে প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরে পড়ে উইলিসের। মাস দুয়েক ধরে শরীরটা বেশি খারাপ করে তাঁর, ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায় ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছিল শরীরের অন্যান্য অংশেও। বুধবার উইলিসের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, প্রিয় বব আর আমাদের মাঝে নেই। সে ছিল অসাধারণ স্বামী, বাবা, ভাই ও পিতামহ।’ উইকেট সংখ্যায় ইংল্যান্ডেই তাঁর চেয়ে এগিয়ে আছেন তিনজন, বৈশ্বিক তালিকায় সংখ্যাটা আরো বেশি। তবে উইলিসকে স্রেফ উইকেটের পাল্লায় মাপাটা হবে বোকামি। ক্যারিয়ারের মাঝামাঝি সময়ে হাঁটুর চোট, অস্ত্রোপচার একটা সময় তাঁকে বাধ্য করেছিল ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে। যেখান থেকে মানুষ ভালোভাবে হাঁটাচলা করার স্বপ্ন দেখতেই ভয় পায়, সেই জায়গা থেকে উইলিস ফিরেছিলেন ক্রিকেট মাঠে, খেলেছেন অ্যাশেজ ও বিশ্বকাপে। উইজডেন উইলিস সম্পর্কে লিখেছিল, ‘বেশির ভাগ সময়ে ব্যথায় জর্জরিত থাকলেও দেশের হয়ে বোলিং করার সময় নিজেকে একবিন্দু ছাড় দেননি।’ সাবেক সতীর্থ ও পরে ধারাভাষ্যকক্ষে জুটি, ইয়ান বোথামের মতে উইলিস ছিলেন, ‘নিরন্তর চেষ্টা করে যাওয়া একজন মানুষ, দারুণ একজন সতীর্থ, অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব। আমার সময়ে দেখা ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার।’ ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের ‘হল অব ফেমে’ জায়গা পাওয়া এই কিংবদন্তি ৭০ বছর বয়সে বুধবার পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, আইসিসিসহ অনেক সাবেক ক্রিকেটার।

ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব স্মৃতিচারণা করলেন উইলিসের বলে আঘাত পাওয়ার ঘটনাটা, ‘বলটা খুব জোরে এসেছিল, আমার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত। আমার কানে লেগেছিল। সেই একবারই আমি আঘাত পেয়েছিলাম।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কখনো ভালো করেননি উইলিস, কারণ প্রতিপক্ষে ছিলেন ভিভ রিচার্ডস! সেই ভিভও শোকাহত সাবেক প্রতিপক্ষের বিদায়ে, ‘বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ, শান্তিতে ঘুমাও বব। তুমি মাঠে যা করেছ, এ জন্য তোমার নাম সবাই মনে রাখবে।’ ব্রায়ান লারা ধারাভাষ্যকার হিসেবে টসের সময় আসা উইলিসের ছবি দিয়ে টুইট করেছেন, ‘অসাধারণ মানুষ, বব তুমি নিঃসন্দেহে এই খেলার সেরাদের একজন।’ শোক জানিয়েছেন গ্লেন ম্যাকগ্রা, ডেমিয়েন মার্টিনসহ আরো অনেকে। সতীর্থ ডেভিড গাওয়ারের চোখে উইলিস ছিলেন, ‘খুবই বিশ্বস্ত বন্ধু ও সমর্থক। আমি তার নেতৃত্বে সফর করেছি এবং তার কাছ থেকেই অধিনায়কত্ব পেয়েছি, এবং তাকে দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবেও পেয়েছি। এখনকার মতো বিধি-নিষেধ তো ছিল না, বলা যায় অস্ট্রেলিয়ায় অনেক সফরই আমরা একসঙ্গে করেছি এবং অনেক মজাও করেছি।’ রিচার্ড হ্যাডলির স্মৃতিতে উইলিস সত্যিকারের ফাস্ট বোলারের প্রতিমূর্তি, ‘বব আসলে একদম প্রথাগত ফাস্ট বোলার; লম্বা, বলিষ্ঠ আর আগ্রাসী।’ সবই স্মৃতির পাতায় রেখে জীবনের ইনিংস শেষ করে পরপারে চলে গেলেন উইলিস। এএফপি, বিবিসি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা