kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ট্র্যাক থেকে হাসপাতালে

জহিরের স্বপ্নের শেষ কান্নায়

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জহিরের স্বপ্নের শেষ কান্নায়

কাঠমাণ্ডু থেকে প্রতিনিধি : অ্যাথলেটিকসের দুর্দশার মাঝেও এবার আশার আলো দেখিয়েছিলেন দুজন। তাঁদের একজন মাহফুজুর রহমান নিজের সেরাটা দিয়ে হাই জাম্পে জিতেছেন রুপা। অন্যজন জহির রায়হান, বিশ্ব যুব অ্যাথলেটিকসে ৪০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে উঠে যিনি আলো ছড়িয়েছিলেন। গত জানুয়ারিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও ৪৬ সেকেন্ডে দৌড়ে আশা দেখিয়েছিলেন এই দক্ষিণ এশীয় গেমসেই অন্য রকম কিছু করার। হায়, সেই স্বপ্ন, অ্যাথলেকটিসের চেহারা পাল্টে দেওয়ার সেই প্রত্যয় এভাবে কান্নায় খান খান হবে, কে জানত! দশরথে কাল ৪০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটের পর যে ফাইনালেই আর নামতে পারেননি এই স্প্রিন্টার। দৌড়ের পরপরই এমন শ্বাসকষ্ট শুরু হয় যে তাঁকে তাত্ক্ষণিক নিয়ে যেতে হয়েছে হাসপাতালে।

সেখানকার চিকিৎসকরা দুই ঘণ্টা পরের ফাইনালে আর নামার অনুমতি দেননি তাঁকে। জহিরের বুক ভাঙবে কি, হাসপাতালের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে কোচ আব্দুল্লাহেল কাফির অঝোর কান্না দেখেই বিষণ্ন হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই। নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থাতেই জহির অস্থির হয়ে উঠেছিলেন ফাইনালে খেলার জন্য, ‘আমি পারব, দেখেন, আমি কিছু একটা আনব দেশের জন্য।’ সতীর্থ শিরিন আক্তার তাঁকে বুঝিয়ে পারছিলেন না, কাফি শিষ্যের সামনেই যেতে পারছিলেন না ‘নিষেধ’ করতে হবে বলে। শেফ ডি মিশন আসাদুজ্জামান কোহিনুরসহ অনেকেই তখন হাসপাতালে। ডাক্তারের কথার বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। স্টেডিয়াম লাগোয়া ব্লু ক্রস হাসপাতালে যখন এই চলছে, তখন বাংলাদেশের দুই স্প্রিন্টারকে ছাড়াই শুরু হয়ে গেছে ৪০০ মিটারের ফাইনাল। জহিরের পর পর হিট ছিল আবু তালেবের। তিনিও একই রকম সমস্যা বোধ করায় তাঁকেও নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। জহিরের পাশের বিছানায়ই ছিলেন তালেব। ছেলেদের ইভেন্টের পর মেয়েদের বিভাগে সাবিহা সোহাও দৌড় শেষ করে সহজ থাকতে পারেননি। এর পরও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফাইনালে নেমেছিলেন এই স্প্রিন্টার। কিন্তু ৪০০ মিটার শেষ করাই সম্ভব হয়নি তাঁর, ২০০ মিটারের পরই দৌড় ছেড়ে দিয়েছেন।

১৪০০ মিটার উচ্চতা কাঠমাণ্ডুতে অ্যাথলেটদের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সটা দেওয়া যে সম্ভব হবে না জানাই ছিল। সাঁতারুরা যে কারণে ১৫ দিন আগে থেকেই এখানে এসে অনুশীলন করছিলেন। কিন্তু অ্যাথলেটিকস তা করেনি। ৩০ নভেম্বর রাতে এসেছেন তাঁরা। মাত্র দুদিন অনুশীলন করেই নেমে যেতে হয়েছে প্রতিযোগিতায়। সেই বিকেএসপি থেকেই জহিরের কোচ কাফি। তাঁর হাত ধরেই অ্যাথলেটিকসে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠেছিলেন এই স্প্রিন্টার। এই এসএ গেমসটাকেই তো পাখির চোখ করেছিলেন। কিন্তু এমনভাবে সেই স্বপ্ন ভাঙবে ভাবেননি তিনি, ‘নেপালের এই উচ্চতা সমস্যা হবে—এই আশঙ্কা যে ছিল না তা নয়, কিন্তু সেটা এতটা কঠিন হবে ভাবিনি। কিছুই দিতে পারলাম না আমি!’ এই না বুঝতে পারাটাই অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার প্রধানতম কারণগুলোর একটি।

কাঠমাণ্ডুতে আগেভাগে এসে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুবাদে কাল ২০০ মিটার সাঁতারের পরও তেমন সমস্যা হয়নি মাহফিজুর রহমান, রোমানা আক্তারদের। তবে কঠিন সত্য হলো পারফরম্যান্স তাঁদের এগোয়নি। ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে গতবারের ব্রোঞ্জও ধরে রাখতে পারেননি মাহফুজুর রহমান, মেয়েদের এই ইভেন্টে জুনায়না আহমেদ জিতেছেন ব্রোঞ্জ। ২০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে রোমানা আক্তার পদকহীন। ১০০ মিটার বাটারফ্লাই ৪ গুণন ১০০ মিটার রিলেতেও সর্বোচ্চ সাফল্য ব্রোঞ্জ। শ্যুটিং, সাঁতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি ডিসিপ্লিন থাকার পরও সোনাহীন কেটেছে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় দিন। শ্যুটিংয়ে মেয়েদের ৫০ মিটার দলগত রুপা এসেছে, ১০ মিটার রাইফেলে আব্দুল্লাহেল বাকীরা তাও পাননি, পেয়েছেন ব্রোঞ্জ। রুপা জিতেছেন দুই ভারোত্তোলক রাজকুমার রায় ও ফুলপতি চাকমা। উশুতে রুপা জিতেছেন মর্জিনা আক্তার। এ ছাড়া মেয়েদের ক্রিকেটে কাল মালদ্বীপের বিপক্ষে অনায়াস জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা